লুৎফর রহমান : “বাদ্যও বাজে না- জীবনও চলে না ” – শিরোনামে কালের কণ্ঠে গত ২০ মে সংবাদ প্রকাশের পর খাদ্য সহায়তা পেয়েছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বিনসাড়া গ্রামের ২৫ টি বাদ্যকর পরিবার।
গত রোববার সকালে বিনসাড়া গ্রামে গিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের মহিলা সদস্য ও নারী ও শিশুকল্যাণ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক হোসনে আরা লাভলী বাদ্যকর পরিবারগুলোর মাঝে এ খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেন। এ সময় তিনি বলেন, করোনা দূর্যোগে বিশেষ পেশার মানুষেরা কাজ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পরেছেন। সংবাদটি দৃষ্টিতে আসায়, সিদ্ধান্ত নেই তাদের খাদ্য সহায়তা দেবার। সে অনুয়ায়ি আজকের এ আয়োজন। এ ছাড়াও আমরা এই সব বিশেষ পেশার মানুষ যেমন, বাদ্যকর, গ্রামীণ শিল্পী, ধোপা, ক্ষৌরকার, হিজরা, প্রতিবন্ধী, সুইপার,ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির মানুষদের খাদ্য সহায়তা চলমান রেখেছি। এ সময় অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর উওরের সাবেক দপ্তর সম্পাদক রবিউল আলম প্রধান, কালের কণ্ঠের তাড়াশ-রায়গঞ্জ প্রতিনিধি ও তাড়াশ প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রভাষক সনাতন দাশ, ইউপি সদস্য ইলিয়াস আলী, নব কুমার প্রমূখ। উল্লেখ, বিনসাড়া বাদ্যকরদের রয়েছে উজ্জ্বল অতীত। চৌধুরাই তাড়াশ এস্টেটের জমিদার বনওয়ারি লাল রায় বাহাদুর তার জমিদারিতে স্থায়ীভাবে বাজনা বাজাতে এদের পূর্বপুরুষদের করেছিলেন নিষ্কর জমিদান। গড়ে তুলেছিলেন বাদ্যকর পল্লী । সেই থেকে বংশানুক্রমে তারা বাদ্যকর। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে করোনা দূর্যোগে পেশাগত কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় থমকে গেছে তাদের জীবন।
দিন এনে দিন খাওয়া পরিবারগুলো এখন আয় রোজগার বন্ধ, জীবনভর তাদের সঞ্চয়ও শূণ্য। এ অবস্থায় তারা কোথায় যাবে, কি করবে তা ভেবে ছিলো একেবারেই দিশেহারা। এ সময়ে তারা জেলা পরিষদের খাদ্য সহায়তা পেয়ে কিছুটা হলেও নিশ্বাস ফেলছেন এমনটাই জানালেন বিনসাড়া গ্রামের শ্যামল বাদ্যকর, আগমনী রানী বাদ্যকর সহ অন্যান্যরা।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com