মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার

Spread the love

সুজন কুমার মাল

ভাষা আন্দোলন, গণ অভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবস, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন (শিশু দিবস)র মত তাৎপর্যপূর্ণ দিবসগুলোর মর্যাদা সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে নেয়া হয়ে থাকে নানা উদ্যোগ ও পরিকল্পনা। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবস পালন করা হয়ে থাকে। এছাড়া আমাদের জাতীয় জীবনে মার্চ মাসের রয়েছে এক নিবিড় যোগসুত্র ও স্বতন্ত্র গুরুত্ব।। তৎকালীন রেসকোর্স মাঠে  (বর্তমানে সোহরোয়ার্দী উদ্যান) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ,২৬ শে মার্চ জাতীয় স্বাধীনতা দিবস। এ সকল দিবস উদযাপনের জন্য নেয়া উদ্যোগ ও পরিকল্পনার রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য। এখনো সেই ৭ই মার্চের অগ্নিঝরা দরাজ কণ্ঠে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বজ্র নিনাদ ভাষন  ‘‘এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’’  শুনলে রক্ত টগবগিয়ে ওঠে না এমন লোক নেই বললে চলে। তাই জাতিসংঘের ইউনেস্কো ৭ই মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিয়েছে। এ যেন এক জীবন্ত কাব্য।

১৯২০ সালের ১৭ই মার্চে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা তার ডাক নাম ছিল খোকা। তাকে স্মরণ করতে ঠিক ১০০ বছর পরে বাঙ্গালী জাতি পালন করছে জন্মশত বার্ষিকী যার নাম দেয়া হয়েছে মুজিব বর্ষ।  মুজিব বর্ষ পালনের অংশ হিসেবে নেয়া হয়েছে নানামুখী পদক্ষেপ। তারই ধারাবাহিকতায় মুজিব বর্ষে সরকারী,বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থা তাই বিবিধ সেবা দিয়ে আসছে। যেমন মুজিব বর্ষে দেশের প্রতিটি জনগুরুত্বপুর্ণ এলাকায় জাতির জনকের মুর‌্যাল বা ভাস্কর্য নির্মাণ করা । বৃক্ষ রোপণ করা সহ নানামুখী পদক্ষেপ।  আর এই যাত্রাকে আমরা সকলে “মুজিব বর্ষ” বলে চিহ্নিত করেছি। আমাদের স্বপ্ন ২০২১ সালের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর একুশ শতকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলবো। আমরা এই সময়ে হতে চাই একটি সমৃদ্ধ-উন্নত মধ্য আয়ের দেশ। আর ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত জাতি। যেখানে থাকবে না দারিদ্র, থাকবে না অশিক্ষা বা বৈষম্য। আমরা সেই স্বপ্নকে পূরণ করতে চাই।সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আমরা এরই মধ্যে আমাদের চারপাশের সবকিছুকে ঢেলে সাজিয়ে চলেছি। সেই লক্ষ্য অর্জন এবং দেশীয় অর্থে পদ্মাসেতু নির্মাণ করা সার্বিকভাবে সারা দুনিয়ার মতো জাতিগতভাবে আমাদের জাতির জনকের মাহাত্ম্য এখন প্রশ্নাতীত।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালে ভেবেছিলেন প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা। প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের দোর গড়ায় সেবা পৌছে দেয়া।  তারই স্বপ্ন পূরণের অংশ হিসেবে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশে প্রথম মোবাইল প্রযুক্তির সেবা চালু করেছিল আওয়ামীলীগ সরকার।  সেদিকে থেকে আজ অবধি  ইন্টারনেট এখন আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ  অবিচ্ছেদ্য অংশ।  এখন মানুষের জীবনযাপন, তথ্য আদান-প্রদান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সরকার পরিচালনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্কের সবচেয়ে বড় মাধ্যম ইন্টারনেট। লেখালেখি,চিত্র,শব্দ ও ইন্টারএ্যাকটিভিটি সহযোগে ইন্টারনেটে তথ্য ও উপাত্তকে এমনভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব যা আর অন্য কোন মাধ্যমেই বোধ হয় তেমনটা সম্ভব নয়।  তাই এটি একদিকে হতে পারে খবরের কাগজ, ব্যক্তিগত ডায়েরী বা সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক। অন্যদিকে ইন্টারএ্যাকটিভিটি সহ বিভিন্ন ধরনের অনলাইন,নিউজ পোর্টাল, নিউজ ব্লগ, আইপি টিভি, ইন্টারনেট রেডিও ইত্যাদি নানা ধরনের গণ মাধ্যমের প্রচারনা। দেশের বিদ্যমান কাগজ ও সম্প্রচার নির্ভর জাতীয় গণ মাধ্যমগুলোও তথ্য-উপাত্ত ও সম্প্রচার ইন্টারনেটে প্রকাশ করছে। ফলে ইতোমধ্যেই অনলাইন গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আমাদের দৈনিন্দন জীবনে।ভার্চুয়াল জগতের বিশ^ব্যাপী  অনিবার্য প্রভাব।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান স্বীকৃত চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। এদিকে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, আদর্শ ও চেতনা, সামাজিক মূল্যবোধ এবং রাষ্ট্রীয় নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে। সমাজে নৈতিক অবক্ষয় রোধ ও সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা মুজিব বর্ষের অন্যতম পদক্ষেপ। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজের সর্বত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখা সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গীবাদ নির্মূল ও প্রতিরোধ করা সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিতকরণ, দেশীয় সাহিত্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির উন্নয়নে সহায়তাকরণ, দেশীয় সংস্কৃতির অগ্রগতির জন্য বাংলাদেশের আবহমান কালের নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ভাবধারার প্রতিফলন, বাংলাদেশী সংস্কৃতির সঙ্গে জনসাধারণের নিবিড় যোগসূত্র স্থাপন করে এবং বিভিন্ন অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ধারাকে দেশ প্রেমের আদর্শে অনুপ্রাণিত করতে হবে।

পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতির সুষ্ঠু প্রতিফলন ঘটিয়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সমূহের সংস্কৃতির অগ্রগতির জন্য তাঁদের নিজস্ব  ভাষা,সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ভাবধারা ফিরিয়ে আনতে হবে এই মুজিব বর্ষে।সুষ্ঠু প্রতিফলন ঘটাতে হবে রাষ্ট্র ভাষা বাংলাকে। যোগ্য মর্যাদায় সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে তথ্য পাঠ, প্রচার, প্রকাশ ও সম্প্রচারের স্বাধীনতা দান হোক মুজিব বর্ষের অন্যতম স্বীকৃতি। দেশের শিক্ষার মান উন্নয়নে নারী, অনগ্রসর ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষামূলক একটি জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ গঠন আপনা আপনি হবে না। তাই আসুন সকলে মিলে কাজ করি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। তবেই  আসবে মুজিব বর্ষের সফলতা ও স্বার্থকতা।

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD