এম. রহমত উল্লাহ
ষড় ঋতুর বাংলাদেশে শীত আসে মহা সমারোহে। হেমন্তের সোনালী ধানের শীষ বেয়ে আলতা রাঙ্গা পায়ে ধীরে অতিধীরে শিশির ভেজা পথ বেয়ে হাটি হাটি পা-পা করে শীতের হিমেল হাওয়া ছেয়ে ফেলে বাংলার আকাশ বাতাস। আনন্দ মুখর পরিবেশে সুন্দর স্বপ্নীল শীতের মধুরিমা নিয়ে ঘরে ঘরে হানা দেয় শীতের সোহাগী বুড়ি। মন মাতানো পিঠা পুলির ঘ্রাণ আর নানা বর্ণিল শীতের পোষাকে সাজ সাজ রব পরে যায় গ্রাম বাংলার প্রতিটি প্রাঙ্গনে। শুধু কি তাই, নব নব সাজে প্রকৃতি সেজে ওঠে নানা উপচারে। শিশু মন নতুন শীতের পোষাকে সেজেগুজে মাঠে মাঠে ছুটে বেড়ায়।বাংলার গৃহিনীর হাত ভরে ওঠে ফসল কাটার ধূমে। কাজে কাজে কেটে যায় বেলা । কখন সকাল দুপুর গড়িয়ে সাঁঝের হাত ছানিতে সাড়া দেয় বোঝাই ভার। গাছী ভাই খেজুর গাছে হাড়ি বান্দে, সকালের কাঁচা রোদে খেজুর রসে কি স্বাদ! বলে শেষ করার নয়। সেই সাথে বাড়ী বাড়ী নবান্নের পিঠা পুলির ধূম আত্মীয় কুটুমের এ বাড়ী ও বাড়ী ঘোরাঘুরি সত্যই শীতের আনন্দ দ্বিগুন বাড়িয়ে দেয়। ঝি জামাই শ্বশুর শ্বাশুরী সবার মনে আনন্দের ঢেউ। সকালের ভাপা পুলি, চিতুই পিঠা, দুধ পিঠা, রসের পিঠা – আহা কতই না মধুর পরিবেশনা।সে কেবল গ্রাম বাংলাতেই পরিলক্ষিত হয় বেশী । শহুরের বাবুরা রাস্তার ধারের ভাপা পুলির স্বাদ নিতে শীতে কাঁপতে কাঁপতে গায়ে গরম পোষাক লাগিয়ে ছুটে আসে। চায়ের দোকানে গরম গরম চায়ের পেয়ালা হাতে মুখে গল্পের ফুলঝুড়ি সত্যই এক আনন্দময় পরিবেশ। সে কেবল বাংলার শীতকালেই দেখা যায়। বাজারে বিপুল শাক সব্জির সমারোহ ফুলকপি, বাধাকপি, গাঁজর, মূলা ,পুঁই, পালং, ইত্যাকারে বাহারী সাজানো দোকান। প্রকৃতির কিছুটা রুক্ষ পরিবেশ সত্তে¦ও কুয়াশার চাদর ঢাকা সকাল সন্ধা এক নতুন আবহ নিয়ে চলতে থাকে শীতকাল। গরীব দুস্থ ছেলেমেয়ে এবং বৃদ্ধরা কিছটাু অসুস্থতা অনুভব করলেও আগুন জ্বেলে তাপ গ্রহণের অনুসঙ্গ শীতে কিন্তু মন্দ নয়। দল বেধে পুশুরার মাঙ্গণ, পুশ পালা পোড়ানো রাতের হৈ-হুল্লোর গ্রামখানিকে জাগিয়ে রাখে। শীত আসে শীত যায়। বাংলার মানুষের অন্তরে চির জাগ্রত থাকে শীতের আমেজ-আবা বেশ কিছু দিন । শীত গেলে তাই শীতের কথা বার বার মনে আসে। কারণ শীতের বৈচিত্র্য মনে দোলা দেয়। শীতের পাখিরা এসে আমাদের জানিয়ে দেয় , “এসেছে গো শীত তাই আমরাও এসেছি অতিথি হয়ে। আমাদের যেন অত্যাচার করো না তোমরা । আমরা তোমাদের শত্রু নই, বন্ধু।”
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com