তাড়াশে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সরকারী সম্পত্তি জালিয়াতির অভিযোগ

Spread the love

তাড়াশ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের তাড়াশে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারী সম্পতি আত্নসাতের অভিযোগ উঠেছে এক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। নাম তার শরিফুল ইসলাম । তিনি একজন কলেজ অধ্যক্ষ । নিজেকে পরিচয় দেন একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে । শিক্ষকদের নেতৃত্বও দেন তিনি। পত্র পত্রিকায় লেখালেখি করেন মাঝেমধ্যে । এতো সব সামাজিক পরিচিতির আড়ালে তার বিরুদ্ধে উঠে এসেছে সরকারি সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাত করার । ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বস্তুল গ্রামে ।
তাড়াশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সূত্র জানায়, উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বস্তুল ভূমি অফিসের জন্য ১৯৬৯ ইং সালে এসএ রেকর্ডের মালিক শ্রী মধু সরদার,শ্রী যাদু সরদার,শ্রী রমনী সরদার ও শ্রী চন্দ্র সরদার ২৯ শতক জমি বস্তুল তহশীল অফিসের নামে দান করেন (যার জেএল নং:৫৬,খতিয়ান নং:৪৭,দাগ নং:৬৫০ ও৬৫১,মৌজা:বস্তুল,তাড়াশ,সিরাজগঞ্জ)। পরবর্তীতে আরএস জরিপ আমলে ১১৭৫ দাগে বস্তুল তহশীল অফিস ও ১১৭৬ দাগে হাট শ্রেণি উল্লেখ করে উক্ত সম্পত্তি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ডেপুটি কমিশনার সিরাজগঞ্জের নামে পরিশুদ্ধভাবে আরএস রেকর্ডে লিপিবদ্ধ হয় ।
ওই সম্পত্তির উপর স্থাপিত হয় বারুহাস ইউনিয়নের বস্তুল ভূমি অফিস। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক ৪৯ লাখ টাকা পাক্কলিত ব্যয়ে বারুহাস ভূমি অফিসের আধুনিক ভবন নির্মাণের কাজ হাতে নেয় সরকার । সে মোতাবেক টেন্ডার আহবান করা হলে সর্বোচ্চ দরদাতা মীম কনস্ট্রাকশন কাজটি পায় । এবং নির্মাণ কাজের ভিত্তি স্থাপন করতে গেলে অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম গং কর্তৃক বাধা দেয়া হয় ।
তাড়াশ উপজেলার বস্তল গ্রামের মো: চাঁদ আলীর পুত্র মো: শরিফুল ইসলাম। তিনি সিরাজগঞ্জ সদরের ছাতিয়ানতলী টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ । সে সহ তার অপর তিন সহোদর ভাই উল্লেখিত ভূমি অফিস ও হাটের মোট ২০ শতক জায়গা তাড়াশ সাব রেজিস্ট্রি অফিসে ২০০০ ইং সালের ২৬ জানুয়ারি ৩৫৪ নং একখানা দলিল মূলে জালজালিয়াতির মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করে নেয় ।
এ সম্পর্কে তাড়াশে বর্তমান কর্মরত সাব-রেজিষ্ট্রার ফারহানা আজিজ বলেন, জমি রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে সর্বশেষ রেকর্ড অবশ্যই প্রযোজ্য । সেটি এ দলিলে যথাযথ অনুসরন না করায় সরকারি স্বার্থের সাথে সাঘর্ষিক পরিস্থিথিতির সৃষ্টি হয়েছে ।সরকারি সম্পত্তির ক্ষেত্রে এ ধরণের জালিয়াতির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়ার দরকার । বারুহাস ইউপি চেয়ারম্যান মো: মোক্তার হোসেন জানান, দলিল গ্রহিতারা একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াত চ্ক্র । এরা সরকারি সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাত করার চেষ্টা চালাচ্ছে । এর প্রতিবাদে সম্প্রতি এলাকাবাসী ভূমিদস্যূদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ।

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD