গুরুদাসপুরে ৫মাস  থেকে ১৫ বছরে কম বয়সের শতভাগ  শিশু  টাইফয়েড টিকাদানের আওতায় 

Spread the love
আবুল কালাম আজাদ।। 
টাইফয়েড জ্বর হলো সালমোনেলা টাইফি (Salmonella typhi) নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্ট সংক্রামক রোগ, যা টিকাদানের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা যায়। টাইফয়েড-প্রবণ হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকায় এটি এখনও বাংলাদেশে একটি বড় জনস্বাস্থ্য হুমকি হিসেবে রয়েছে
নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলায়  টাইফয়েড টিকাদান  কর্মসুচি- ২০২৫ এ লক্ষ্যমাত্রার  শতভাগ ৫ মাস থেকা ১৫ বছরে কম বয়সের শিশুকে টাইফয়েড টিকাদানের আওতায় আনা হয়েছে  হয়েছে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর তথ্য সুত্রে জানা গেছে। গুরুদাসপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর উদ্যোগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO),  Gavi ,The vaccination Aliance unicef এর কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় সকল শিশুর জন্য ১২/১০/২০২৫ হতে ১৩ /১১/২০২৫  পর্যন্ত মাসব্যাপী  টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। উপজেলার ৬ টি ইউনিয়ন ও, পৌরসভার  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ,কমিউনিটি এবং  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কেন্দ্রে একযোগে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন চলে।
উপজেলায় মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৫৩ হাজার ৫১৭ জন। অর্জন হয়েছে ৫২ হাজার ৫০৭ জন। অর্জনের হার ৯৮ দশমিক ১০%।  এর মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩৭ হাজার ৩৪৭ এবং কমিউনিটিতে ১৫ হাজার ১৬০ জনকে টিকা প্রদান করা হয়েছে।
ইউনিয়নভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কমিনিটি ক্যাম্পেইনে  টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা ও অর্জন হচ্ছে  –
 নাজিরপুর ইউনিয়নে  লক্ষ্যমাত্রা ৯,৬৬৬ অর্জন ৯১১৩ জন (৯৪.২৭%), চাপিলা ইউনয়নে লক্ষ্যমাত্রা ৮.৮৮৭ অর্জন ৮,৬৯৭ জন (৯৭.৮৬%), বিয়াঘাট ইউনিয়নে  লক্ষ্যমাত্রা ৫,৬৭৩ জন ( ৯৫%), খুবজিপুরইউনিয়নে  লক্ষয়মাত্রা ৫,১৮৭ অর্জন ৫০১১ জন ( ৯৬.৬০),ধারাবারিষা ইউনিয়নে লক্ষ্যমাত্রা ৬,২৬৩  অর্জন ৬,০১৯ জন ( ৯৬.১০%) , মশিন্দা ইউনিয়নে লক্ষ্যমাত্রা ৮,২৯৬ অর্জন ৮,০৮৭ জন ( ৯৭.৮৭%), পৌরসভায় লক্ষ্যমাত্রা ৯,৫৪৫ অর্জন ৯,১১০ জন ( ৯৫.৪০%) এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  অর্জন ১,০৮০ জন ।
 গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এ এস এস আলমাস বলেন,গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজ-এর (২০২১) হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৪,৭৮,০০০ মানুষ টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিল, যার ফলে ৮,০০০ জনের মৃত্যু হয় এবং এর মধ্যে প্রায় ৬৮% ছিল শিশু। এবারের টিকাদান কর্মসূচির লক্ষ্য হলো অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুর টাইফয়েডের টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, যাতে জনগোষ্ঠীর মধ্যে শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে এবং টাইফয়েডজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। সেই লক্ষ্যে উপজেলায় মোট  ৫৩,৫১৭ জন শিশু লক্ষ্যমাত্রা ধরে নির্ধারিত সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটিতে ক্যাম্পেইন  ও সার্সিং এর মাধ্যমে ৫২,৫০৭  (৯৮.১০%) ৫ মাস থেকে ১৫ বছরের  কম বয়সের শিশুকে সফলতার সাথে  টাইফয়েড টিকাদানের আওতায় আনা সক্ষম হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন সাইড  ই্ফেক্ট বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কোন অভিযোগ আসেনাই।টিকাদান হাসপাতালে চলমান আছে।
গ্যাভি, দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স-এর সিনিয়র কান্ট্রি ম্যানেজার ডার্ক গেহল বলেছেন- “এই ক্যাম্পেইনটি বাংলাদেশের প্রায় ৫০ মিলিয়ন শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের (৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী) লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে, যা দ্রুত ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট টাইফয়েডের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি,”  “এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, যেমন শিশু ও তরুণ কিশোর-কিশোরী, যারা এই রোগের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের সুরক্ষার প্রতি দেশটির অঙ্গীকার প্রদর্শন করে। গ্যাভি এবং অংশীদাররা বাংলাদেশের নিয়মিত টিকাদান জোরদারে সহায়তা অব্যাহত রাখবে যা আগামী পাঁচ বছরে টাইফয়েড টিকা চালু করার পরিকল্পনা করা অন্যান্য উচ্চ-রোগের বোঝা বহনকারী দেশগুলির জন্য মডেল হিসেবে কাজ করবে।
টিসিভি কর্মসূচি দুই ধাপে বাস্তবায়িত হবে।  ১২ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত  প্রথম ধাপে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টিকা দেওয়া হবে- যার মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা (আলিয়া ও কওমি) এবং ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে টিকা দেওয়া হবে ১ থেকে ১৩ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত। এই ধাপে কমিউনিটি পর্যায়ে টিকাদানের আওতা সম্প্রসারিত হবে। এ সময় ইপিআই’র স্থায়ী কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি এবং সারা দেশে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার আউটরিচ সাইটে (প্রত্যন্ত এলাকা) টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD