তাড়াশের হাট- বাজারে করমচা ফল

Spread the love

ঔষুধি গুণ সমৃদ্ধ করমচা তরুণ প্রজন্মের কাছে অচেনা অজানা ফল

এম.আতিকুল ইসলাম বুলবুল তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)ঃ
৭০- ৮০ দশকেও তাড়াশ এলাকার ঝোঁপ- ঝাঁড়ে অনেক করমচা গাছ জন্মাত। ফলও ধরতো প্রচুর। যা ছোট বেলায় লবন, শুকান মরিচের গুড়া দিয়ে পেসুয়া (লবণ,মরিচের মিশ্রণ) বানিয়ে বন্ধুরা মিলে খুব খেতাম। এমনটি বলছিলেন, উপজেলার কামাড়শোন গ্রামের কৃষক মো.মজিবর রহমান (৭০)। তিনি আরো বলেন, এ ফল আমরা চিনলেও আমাদের ছেলে- মেয়েরা চেনে না। বাজারে পেলে কিনেও খায়ও না।
করমচা ফল আকারে ছোট ও টক জাতীয় হলেও এটি দেখতে বেশ মনোরম ফল। যা মোটামুটি বর্তমান তরুণ প্রজন্মের প্রায় অনেকেই করমচা ফলের নাম জানেনা। আবার তারা তাঁকিয়ে- তাঁকিয়ে তাদের কাছে অচেনা- অজানা এ ফলটি দেখলেও খেতে চায়না। কিংবা প্রথমটা মুখে নিয়ে স্বাদ নিলেও পরে আর মুখেও তুলতে চায়না। বলছিলেন, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ পৌর বাজারের মৌসুমি ফল বিক্রেতা মো. রফিকুল ইসলাম (৫০)। তিনি আরো জানান, প্রতিবছর উপজেলার পৌর এলাকার সোলাপাড়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক রেজাউল করিম, খালকুলা গ্রামের আব্দুর জাব্বারসহ এ এলাকায় বাড়িতে থাকা গোটা ১০- ১২ টি ছোট- বড় করমচা গাছ থেকে এ ফলটি সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করেন। যা সব মিলে উপজেলা জুড়ে ৮- ৯ মণের বেশি উৎপাদন হয়না। বর্তমান বাজারে করমচা ফল পাইকারী কেজিতে ১০০- ১২০ টাকা। খুচরা ১৮০- ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পাশাপাশি আরেক মৌসুমী ফল বিত্রেতা আব্দুস সোবাহান জানান,তরুণ প্রজন্মের কাছে করমচা‘র কদর না থাকলে। এখনও এ এলাকার মধ্য বয়সী ও প্রবীণ লোকজনএ ফলটি আগ্রহ নিয়ে কিনে থাকেন। তাদের কাছে বেশ কদরও আছে বৈকি।
জানা গেছে, করমচার বৈজ্ঞানিক নাম ক্যারস্সিসা কারান্ডাস। যা ইংরেজিতে বলা হয় একোক্যানাসেই। ফলটি কাঁচা অবস্থায় সবুজ থাকে এবং পেঁকে জমাট বাঁধা রক্তের মতো লাল হয়। পাশাপাশি কাঁটাযুক্ত গুল্ম জাতীয় গাছে জন্মে থাকে করমচা ফলটি। করমচার জীবনচক্র বেশ চমদ প্রদ কেননা বছরের ফ্রেবুয়ারী মাসে করমচার ফুল আসে এবং এপ্রিল-মে মাসে ফল ধরে এবং মে থেকে আগষ্ট শেষ পর্যন্ত পাকা করমচা খাওয়া সম্ভব। কিন্তু তাড়াশ এলাকায় করমচার হাতে গোনা কয়েকটি গাছ থাকায় তার ফল অল্প সময়েই বিক্রি হয়ে যায় বলে জানান, কৃষক আব্দুল জাব্বার।
অবশ্য, তাড়াশ উপজেলা উপ- সহকারি উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তাফা জানান, অনেকেই জানেন না এ ফল কত উপকারী ও স্বাস্থ্য সম্মত ও সুষম একটি ফল। যেমন- প্রতি ১০০ গ্রাম করমচায় শর্করা রয়েছে ১৪ গ্রাম প্রোটিন -০.৫ গ্রাম, ভিটামিন-এ ৪০ আইইউ, ভিটামিন-সি ৩৮, রিবোফ্লাভিন ০.১, নিয়াসিন ০.২, আয়রন ১.৩, ম্যাগনেসিয়াম ১৬, কপার ০.২ ও পটাশিয়াম ২৬০ মিলিগ্রাম।
তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. এরফান আহম্মেদ জানান, মুলতঃ করমচা পটাশিয়াম সমৃদ্ধ ফল। যা খেলে মৌসুমি সর্দি-জ্বর, কাঁশি ভালো হয়। মানুষের শরীরের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে। হৃদযন্ত্রকে সুস্থ করে এবং সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে বেশ কার্যকর। আবার যাদের লিভার ও কিডনি জনিত সমস্যা আছে তারা নিয়মিত করমচা খেলে বেশ উপশম পাবেন। এ ছাড়া করমচায় থাকা কপার কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে এবং এই উপাদানটি লিভার ও কিডনির ক্ষতকে সারিয়ে তুলতে ভুমিকা রাখে। করমচা স্কাভি, দাঁত ও মাড়ির নানা রোগ প্রতিরোধে সহায়ক।এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঔষুধি গুণে ভরপুর করমচা গাছ বাড়ির আঙিনা বা ফাঁকা জায়গায় লাগানোর জন্য আমরা কৃষকদের অনুপ্রানিত করি। এ ছাড়া আমরা সরকারি ভাবে কোথাও বৃক্ষ রোপন করলে অনান্য গাছের সাথে করমচা গাছ লাগানোকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি।

 

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD