এম.আতিকুল ইসলাম বুলবুল, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)
মাঝ খানে পাটের আবাদ ফিঁকে হয়ে আসলেও গত সাত আট বছরে চলনবিলাঞ্চলে সেই আশির বা নব্বই দশকের মত ফের সোনালী আঁশ পাটের আবাদ আবারও বেড়েছে। চলতি বছর মধ্য চৈত্র থেকে চলনবিলের তাড়াশ, রায়গঞ্জ, গুরুদাসপুর, ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, সিংড়াসহ আটটি উপজেলা এলাকায় রসুণ- পেয়াজ, বাঙ্গি এবং বোরো ধান উঠার পর ফাঁকা ফসলি জমিতে শুরু হয়েছে জোরেশোরে পাটের নিবির আবাদ।
বর্তমানে বিল পাড়ের অনেক জমিতে আগাম জাতের পাটের সবুজ- সতেজ গাছ বাতাসে দোল খাচ্ছে। আবার অনেক কৃষক চলমান আবাদ তুলেই জমি চাষ, রাসানিক সার, পাটের বীজ ছিটানোর কাজ করছেন। মুলতঃ বিলাঞ্চলে কেনাফ, মেস্তা, তোষা, রবি- ১ জাতের পাটের আবাদ বেশি হয়। যা ৯০ থেকে ৯৫ দিনে পরিপক্ক হয় এবং বিঘা প্রতি ফলন হয় প্রায় ৯ থেকে ১১ মন।
চলনবিলের সম্মনিত কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলনবিল অঞ্চলের আটটি উপজেলা এলাকায় এ বছর প্রায় ৮ হাজার ৬৮৩ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত ২০২৪ সালের লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে প্রায় ৮১০ হেক্টর বেশি। আর পাট লাভজনক ফসল হওয়ায় অল্প অল্প করে বিগত বছর গুলোতে এ অঞ্চলের কৃষক পাটের আবাদ বাড়িয়ে চলছেন এমনি ভাষ্য, কাছিকাটা এলাকার পাট চাষি কৃষক আব্দুল মতিনের।
এ দিকে পাটের আবাদ বাড়া প্রসঙ্গে তাড়াশের কৃষক মো, লিয়াকত আলী জানান, পাট শুধু মাত্র বড় আকারে বন্যায় কাবু। বড় বন্যা হলে পাট ডুবে যায়। এ ছাড়া পাট প্রাকৃতিক বেশির ভাগ দূর্যোগ সহনীয় ফসল। পাটের উৎপাদন খরচ কম। যেমন- জমি চাষ, স্বল্প পরিমান বীজ ও সার প্রয়োজন পরে। যা বিঘায় দুই- আড়াই হাজারের বেশি টাকা নয়।
গত কয়েক বছরে চলনবিল অঞ্চলের হাট বাজারে পাটের দাম বেশ চড়া। পাটের উৎপাদন খরচ বাদে ভাল লাভ হয় কৃষকের। এ জন্য গ্রীস্মকালীন ফলন তুলে কৃষক ফসলি জমি ফাঁকা না রেখে পাটের আবাদে মনোনিবেশ করেছেন বলে জানান, ভাঙ্গুড়া এলাকার কৃষক রনজিত দাস।
চলনবিলের পাট বিক্রির প্রসিদ্ধ হাট সলঙ্গা, চান্দাইকোনা, নিমগাছি, হান্ডিয়াল, মীর্জাপুর, নওগাঁ, চাঁচকৈড়সহ কযেকটি হাটে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে প্রতি মণ পাট বিক্রি হয়েছে ৪০০০ হাজার থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে। অবশ্য, পাবনা থেকে তাড়াশের নওগাঁ হাটে পাট কিনতে আসা মহাজন সাইফুল ইসলাম মন্ডল জানিয়েছেন, চলনবিল এলাকার উৎপাদিত পাটের মান ভাল। তাই বিভিন্ন শহরের পাট ক্রেতা মহাজনরা এ এলাকার পাট স্বাচ্ছন্দে কিনে থাকেন।এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমার কর্ম এলাকায় গত বছরের চেয়ে এ বছরও প্রায় ২৪২ হেক্টর জমিতে লক্ষমাত্রার বেশি পাটের আবাদ হচ্ছে। পাশাপাশি চলনবিল অঞ্চলের সকল উপজেলায় পাটের আবাদের জমি গত কয়েক বছরে আশানুরুপ বেড়েছে। এখন পাট চাষিরা পাটের ভাল দাম পাচ্ছেন। এ ছাড়া প্রত্যেক উপজেলার কৃষি বিভাগ পাট চাষে কৃষকদের যতটুকু পারা যায় ততটুকু সরকারি সুযোগ সুবিধাও পরামর্শ দিয়ে আসছেন।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com