চলনবিলাঞ্চলে প্রতিটি বাঙ্গির দাম ২ থেকে ১০ টাকা!
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)
চলনবিলাঞ্চলে গুরুদাসপুর, তাড়াশ, সিংড়া, রায়গঞ্জ, চাটমোহর এলাকায় দুই জাতের বাঙ্গি চাষ হয়। বিলের কিছু এলাকায় মাটির প্রকারভেদে “এঁটেল বাঙ্গি”। আর কিছু এলাকায় “বেলে বাঙ্গি”র চাষ হয়। যার শাঁস নরম। খোসা পাতলা, শাঁস খেতে বালি বালি লাগে, তেমন মিষ্টিও নয়। আবার “এঁটেল বাঙ্গি”র শাঁস কচকচে, শাঁস অপেক্ষাকৃত একটু শক্ত এবং তুলনামূলক মিষ্টিও বেশি ।
আবার, তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. ইরফান আহম্মেদ জানান, দু জাতের বা্িঙ্গতেই বেশির ভাগ অংশই হাইড্রেশন হিরো, পানিতে পূর্ণ থাকে। বাঙ্গি গরমের সময় মানুষের শরীরের পানি শূন্যতা রোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর সাথে ত্বক ভালো রাখে, হজমে শক্তি বাড়াতে সহায়তা এবং ওজন নিয়ন্ত্রেনে বেশ কাজ করে।
এ দিকে ২০০১ এক সালের দিকে হাটিকুমরুল বনপাড়া মহাসড়ক নির্মিত হওয়ায় পর চলনবিলের গুরুদাসপুর, তাড়াশ, সিংড়া, রায়গঞ্জ, চাটমোহর এলাকায় শত শত হেক্টর জমিতে চাষ করা উৎপাদিত বাঙ্গি মহাসড়ক ও মহাসড়ক সংলগ্ন জমি থেকেই বিক্রি হয়ে আসছে ভাল দামে। এ কারণে এ অঞ্চলে রসুণের সাথে সাথী ফসল ও একক ভাবে বাঙ্গির চাষে বেশ বিপ্লব ঘটেছে এবয় কৃষক আর্থিক ভাবে লাভবানও হয়েছেন এমনটিই জানান, তাড়াশ এলাকার কৃষক সোহেল রানা।
চলনবিলের সম্মনিত কৃষি বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, এ বছর চলনবিলাঞ্চলে গুরুদাসপুর, তাড়াশ, সিংড়া, রায়গঞ্জ, চাটমোহর এলাকায় প্রায় এক হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে বাঙ্গির চাষ করা হয়েছিল। তার মধ্যে গুরুদাসপুর, তাড়াশ, সিংড়া উপজেলা এলাকায় রসুনের সাথে সাথী ফসল হিসেবে প্রায় আড়াই দশক ধরে বাঙ্গির চাষ হয়ে আসছে।
সিংড়ার বিয়াস এলাকার কৃষক মো. হযরত আলী জানান, চলনবিল এলাকার প্রায় অর্ধেক রসুন চাষী বর্গা চাষি। তাঁরা এক বিঘা জমি ২৮ হাজার থেকে ৩২ হাজার টাকা লীজমানি দিয়ে রসুণের সাথে সাথী হিসেবে আবাদ করে থাকেন। সর্ব সাকুল্যে জমির লিজ মূল্য, চাষ, বীজ, সার, সেচ, কৃষি শ্রমিক ও মজুরি মিলিয়ে প্রতি এক জমিতে বিঘা রসুন চাষে খরচ ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকার মতো। কিন্তু রসুনের সাথী ফসল বাঙ্গি চাষ করলে যে বাঙ্গি উৎপাদন হয় তা বিক্রি করে একজন কৃষক রসুণ চাষের প্রায় অর্ধেক খরচের টাকা তুলতে পারেন। কিন্তু এ বছর বাঙ্গির দাম না থাকায় ক্ষতি মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
কৃষক কাদের সরকার, তাহের আলীসহ একাধীক কৃষক জানান, চলনবিলাঞ্চলে রসুনের সাথে সাথী ফসল বাঙ্গির উৎপাদন ছিল বেশ ভাল। মুলতঃ কৃষক অল্প খরচে বাঙ্গির ভাল ফলন ও দাম পাওয়ায় লাভের মুখ দেখেছেন বরাবর। কিন্তু এ বছর এর ব্যতয় ঘটেছে। না আছে চাহিদা না আছে ভাল দাম। এমনই ভাষ্য, চলনবিলের গুরুদাসপুর উপজেলার হাঁমমারী এলাকার আরেক কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেনের।
কাছিকাটা এলাকার বাঙ্গির আড়তদার দানেশ সরদার জানান, হাটিকুমরুল বনপাড়া মহাসড়কে স্তুপ করে রাথা ৩৫ থেকে ৪০ ট্রাক বাঙ্গি ঢাকা, ট্ঙ্গাাগাইল, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, পাবনা, বগুড়াসহ বিভিন্ন শহরে চলে যাচ্ছে। আর গত বছর রমজান মাসে বাঙ্গি ফল উঠায় প্রতিটি বাঙ্গির পাইকারি দাম ছিল প্রকার ভেদে ২০- ২৫ থেকে ৩- ৪০ টাকা। কিন্তু এ বছর চাহিদা না থাকায় সেই ফাট বাঙ্গি বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫ টাকা আর ফাটা নয় কাঁচা এ ধরনের বাঙ্গি সর্ব্বোচ ১০ টাকা এমন ভাষ্য, ঢাকার পাইকারী বাঙ্গি ক্রেতা জিল্লুর রহমানের। আবার বর্তমানে ফাটা বাঙ্গি পাইকাররা একেবারের নিচ্ছেনা। এলাকার ক্ষুদ্র মৌসুমী বাঙ্গি বিত্রেরা সে বাঙ্গি ২ থেকে ৩ টাকায় কিনে এলাকার হাট বাজার বা ফেরি করে গ্রামে গ্রামে বিক্রি করছেন। এতে বাঙ্গি চাষী কৃষকেরা গত বছরের চেয়ে ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ বাঙ্গির দাম কম পাচ্ছেন বলে মশিন্দা এলাকার চাষী মোবারক হোসেন জানিয়েছেন।
এলাকার একাধীক কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাহিদা ও ভালদাম পাওয়ায় বাঙ্গি চাষ করে ছিলেন তারা। হঠাৎ এ বছর ক্রেতা শূন্যতা ও দরপতনে উৎপাদিত বাঙ্গি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। কৃষি শ্রমিক মজুরি ও পরিবহন খরচ না ওঠায় এ ফল সংগ্রহে মন নেই কৃষকের। ফলে অনেক জমিতেই নষ্ট হচ্ছে অধিকাংশ বাঙ্গি।
এ প্রসঙ্গে নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কুষিবিদ হারুনার রশীদ বলেন, বৃহত্তর চলনবিলের বাঙ্গির চাহিদা ও সুনাম দেশজুড়ে। এ বছর অনুকূল আবহাওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু দাম গত বছরের তুলনায় কম হওয়ায় কৃষক লাভটা কম পাচ্ছেন।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com