তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ ঝড়ো বাতাসে বড়সড় কড়ই গাছে থাকা পাখির বাসা থেকে দ‘ুটি ঝুঁটি শালিক এবং দু‘টি কাঠঠাকরানী পাখির ছানা মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হয়। এতে চারটি পাখি ছানার জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে। যে বিষয়টি চোখে পড়ে মোছা. জামিলা নামের এক কলেজ শিক্ষার্থীর। তখন তিনি এ খবরটি তাৎক্ষনায় তাড়াশে পাখির সেবায় নিয়োজিত সেচ্ছাসেবী মো, শরীফ খন্দকারকে জানান। খবর পেয়ে শরীফ খন্দকার দ্রæত চারটি পাখি ছানার জীবন বাঁচাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই পাখি ছানাগুলো উদ্ধার করেন। পড়ে তাঁর “পাখির ক্লিনিক” নামের খাঁচায় করে তাড়াশ উপজেলা প্রাণী সম্পদ ভ্যাটেনারী হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে প্রাণী চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে তাঁর বাসায় পাখির ভালবাসায় চলছে পাখি ক্লিনিকে চিকিৎসাসহ সার্বিক সেবা কার্যক্রম। সিরাজগঞ্জের তাড়াশে মঙ্গলবার মাধাইনগর ইউনিয়নের ওয়াশিন গ্রামের মাদ্রসা সংলগ্ন কড়ই তলায় এ ঘটনা ঘটে।
তাড়াশ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মোছা. জামিলা খাতুন জানান, সোমবার রাতে এ এলাকায় ঝড়ো বাতাস বইছিল। সে সময় হয়ত ওয়াশিন- সেরাজপুর গ্রামীন সড়কের ওয়াশিন মাদ্রসা সংলগ্ন বড় একটি কড়ই গাছ থেকে দ‘ুটি ঝুঁটি শালিক এবং দু‘টি কাঠঠাকরানী পাখির ছানা মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত ছটফট করছিল। আর আমি সকাল ৯ টার দিকে কলেজে যাবার পথে পাখির ছানা গুলোর এ অবস্থা দেখে আমি তাড়াশে পাখির সেবায় নিয়োজিত সেচ্ছাসেবী মো, শরীফ খন্দকারকে মুঠো ফোনে জানাই। তার পর পরই তিনি এসে চারটি পাখির ছানা উদ্ধার করে নিয়ে যান।
সেচ্ছাসেবী মো, শরীফ খন্দকার জানান, সকাল ১০ টার দিকে উদ্ধার করা ওই চারটি পাখির ছানা উপজেলা প্রাণী সম্পদ ভ্যাটেনারী হাসপাতালে নিয়ে আসার পর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম আন্তরিক ভাবে, যতœ সহকারে যথাযথ চিকিৎসা দেন। পাশাপাশি তিনি বিনামূল্যে পাখির ছানার সকল ঔষধ দিয়ে দেন। আশা করা যাচ্ছে আগামী এক সপ্তাহ ভাল সেবা ও ঔষধ পেলে পাখি ছানা গুলো সুস্থ্য হয়ে উঠবে তখন তা অবমুক্ত করা হবে।
অবশ্য, তাড়াশ উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম পাখির সেবায় নিয়োজিত “পাখির ক্লিনিক” এর সেচ্ছাসেবি শলীফ খন্কারে প্রসংসা করে সমকালকে জানান, উচু গাছ থেকে চারটি পাখির ছানা পড়ে যাওয়ায় আহত হয়েছে। তবে দ্রæত হাসপাতালে আনায় পাখির ছানা গুলো চিকিৎসায় এখন শঙ্কামুক্ত। ভাল সেবা পেলে অল্প সময়ে সেড়ে উঠবে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে তাড়াশস্থ্য সেচ্ছাসেবি সংগঠন “তাড়াশ ভিলেজ ভিশন” আহত, জীবন বিপন্ন, শিকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা পাখির চিকিৎসায় পাখির ক্লিনিক খোলেন। এরপর গত আট বছরে আহত হয়ে জীবন বিপন্ন হওয়া বক, হড়িয়াল, শামুক খৈল, প্যাঁচাসহ প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ টি পাখির “পাখির ক্লিনিক” এ চিকিৎসা হয়েছে। তারপর সুস্থ্য পাখি গুলোকে অবমুক্তও করা হয়েছে। শরীফ খন্দকার তাড়াশস্থ্য সেচ্ছাসেবি সংগঠন “তাড়াশ ভিলেজ ভিশন” এর পরিচালক।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com