মুফতি খোন্দকার আমিনুল ইসলাম আবদুল্লাহ ।
রমাজান আত্মশুদ্ধির মাস, সংযমের মাস, কিন্তু একই সঙ্গে এটি বিজয়ের মাসও। ইতিহাস সাক্ষী, যখন মুসলিমরা আল্লাহর ওপর ভরসা করে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তখন তারা বিশ্বজয় করেছে।
১. বদরের যুদ্ধ (২ হিজরি / ৬২৪ খ্রিস্টাব্দ)
রমাজানের ১৭ তারিখে সংঘটিত এই ঐতিহাসিক যুদ্ধই ছিল ইসলামের প্রথম বড় সামরিক বিজয়। মাত্র ৩১৩ জন সাহাবি, যাদের কাছে ছিল সীমিত অস্ত্র ও সরঞ্জাম, তারা ১০০০-সংখ্যাবলীর সুসজ্জিত কুরাইশ বাহিনীকে পরাজিত করে। এই বিজয় মুসলিম উম্মাহর জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দেয়।
২. মক্কা বিজয় (৮ হিজরি / ৬৩০ খ্রিস্টাব্দ)
রমাজানের ২০ তারিখে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ ﷺ দশ হাজার সাহাবির বিশাল বাহিনী নিয়ে মক্কায় প্রবেশ করেন। এই বিজয় ছিল রক্তপাতহীন, যেখানে নবিজী ﷺ সকলের জন্য ক্ষমা ঘোষণা করেন এবং মক্কাকে ইসলামের কেন্দ্রে পরিণত করেন।
৩. আন্দালুস (স্পেন) বিজয় (৯২ হিজরি / ৭১১ খ্রিস্টাব্দ)
মুসলিম সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদ মাত্র ৭০০০ সৈন্য নিয়ে স্পেনে অবতরণ করেন। রমাজান মাসেই গাদ্যারের যুদ্ধে খ্রিস্টান রাজা রডারিককে পরাজিত করে মুসলিমরা ইউরোপে ইসলামের দ্বার উন্মুক্ত করে।
৪. জেরুজালেম বিজয় (৫৮৩ হিজরি / ১১৮৭ খ্রিস্টাব্দ)
রমাজান মাসেই মুসলিম নেতা সুলতান সালাহউদ্দিন আইউবি ক্রুসেডারদের পরাজিত করে জেরুজালেম পুনরুদ্ধার করেন। তিনি খ্রিস্টানদের প্রতি দয়ার নীতি গ্রহণ করেন, যা ইসলামের ন্যায়বিচারের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
৫. সিন্ধু বিজয় (৯৩ হিজরি / ৭১২ খ্রিস্টাব্দ)
প্রখ্যাত মুসলিম সেনাপতি মুহাম্মাদ বিন কাসিম রমাজানের সময় সিন্ধু অঞ্চলে রাজা দাহিরের বাহিনীকে পরাজিত করেন। এই বিজয়ের মাধ্যমে উপমহাদেশে ইসলামের ভিত্তি স্থাপিত হয়।
৬. কনস্ট্যান্টিনোপল বিজয় (৮৫৭ হিজরি / ১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দ)
রমাজান মাসেই মুসলিম উসমানীয় সুলতান মুহাম্মাদ আল-ফাতিহের নেতৃত্বে কনস্ট্যান্টিনোপল বিজিত হয়, যা বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের পতন ঘটায় এবং মুসলিম শক্তির এক নতুন যুগের সূচনা করে।
হে আল্লাহ! আপনি এ রমাজানকে হক্বের বিজয় ও বাতিলের পরাজয়ের মাস হিসেবে কবুল করুন। আমীন।
লেখক তরুণ আলোচক ও গবেষক বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব পীরজাদা মুফতি খোন্দকার আমিনুল ইসলাম আবদুল্লাহ ।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com