তাড়াশ(সিরাজগঞ্জ)প্রতিনিধি:
দরিদ্র ও বেকার জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার অর্থ বরাদ্দ দিলেও সংশ্লিষ্ট মৎস্য বিভাগের অনিয়ম আর চরম দুর্নীতির কারণে তা শুধু কাগজে কলমেই থেকে যায়। তেমনি করে “জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় ৭টি জলাশয় সংস্কারে মহা উৎসবে চলছে পুকুর চুরি। আর পুকুর চুরিতে সহযোগীতা করছেন উপজেলা মৎস্য অফিসার ও জেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলীরা। এতে করে জলাশয় সংস্কারে সরকারী টাকা চলে যাচ্ছে জলেই।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে “জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি” শীর্ষক প্রকল্পে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের বাস্তবায়নে উপজেলায় ৭টি পুকুর সংস্কার কাজ চলছে। পুকুরগুলো হলো তাড়াশ উপজেলার কার্তিক পুকুর পুনঃখনন ৮লক্ষ ৮৯ হাজার টাকা, চতরা পুকুর পুনঃখনন ৯লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা, চোরধরা পুকুর পুনঃখনন ৮লক্ষ ১৫হাজার টাকা, শিংরাগাড়ী পুকুর পুনঃখনন ৬ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা, মরাদিঘি পুনঃখনন ১৬ লক্ষ ৪৩হাজার টাকা, কুসুম্বি পুনঃখনন ১৯লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা, বড় আইন্দা পুনঃখনন ৫ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা। সংস্কার কাজগুলো করছেন তাড়াশ উপজেলার মেসার্স আইভি টের্ডাস নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। আর এসব সংস্কারে কাজ কাগজে কলমে সুফলভোগিদের কথা বলা হলেও বাস্তবের চিত্রটা উল্টো। সুফলভোগিদের ফাঁকি দিয়ে খনন কাজ করছে উপজেলা মৎস্য অফিসারের পছন্দের ঠিকাদার ও মৎস্য অফিসের নিজেরাই।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্যাপক অনিয়মের চিত্র। কাজের তুলনায় বিল দেয়া হয়েছে দ্বিগুন। এদিকে প্রকল্পগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ যাদের সদস্য করা হয়েছে তারা এর বাস্তবায়ন সম্পর্কে কিছুই জানেন না। কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ তাদের কার্যক্রম। বিল করার ক্ষেত্রে কৌশলে নেয়া হয়েছে স্বাক্ষর। অনেক পুকুরে তলায় মাটি না কেটেই পানি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। মৎস্য কর্মকর্তাদের নির্দেশেই পানি ভরাট করা হচ্ছে জানান একাধিক সদস্যরা। আর পুকুর পাড়ের চারপাশে যেভাবে কাজ করার কথা তা মানা হয়নি। সুফলভোগিদের অভিযোগ সঠিক সময়ে কাজ না হলে এবছরে মাছ চাষ না হওয়ার আশংকা রয়েছে। অনেক সদস্যই জানেনা এই প্রকল্পের কাজ সম্পর্কে। অনেক ঠিকাদার কাজ না করেই এখন বিল তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছে এমন অভিযোগ সুফলভোগীদের।
তথ্য সুত্রে জানা যায়, তাড়াশ উপজেলায় “জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি” শীর্ষক প্রকল্পের চলতি অর্থ বছরে প্রায় জেলায় ৩৩ হেক্টর আয়তনের ৩৯টি পুকুর খননের জন্য ৩ কোটি ৯২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেন মৎস্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে তাড়াশ উপজেলায় ৭টি জলাশয় সংস্কারের কাজ পান মেসার্স আইভি টের্ডাস নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কাজগুলো চলতি বছরের ৩০জুন এর মধ্যে এই কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। আর চুড়ান্ত বিল প্রদান করতে হবে ৩০জুনের মধ্যে।মেসার্স আইভি টের্ডাস নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক আরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা বিল তুলে সকলের সাথে সাক্ষাত করবো। এ নিয়ে নিউজ করার দরকার নেই।তাড়াশ উপজেলা মৎস্য অফিসার মো: মশগুল আজাদ বলেন, আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। যতটুকু কাজ করবে ততটুকু বিল পাবে ঠিকাদারেরা।সিরাজগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাহেদ আলী, জানান সুফলভোগীদের মাধ্যমেই কাজ হচ্ছে এবং কাজের উপর ভিত্তি করেই বিল প্রদান করা হচ্ছে। অনিয়মের সঠিক অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com