করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সিরাজগঞ্জের প্রায় সব উপজেলাতেই বহু বিদেশ ফেরত মানুষ ইতোমধ্যেই হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন যার হোম কোয়ারেন্টিনের সংখ্যা গত মঙ্গলবার অব্দি প্রায় ৩৫০ জন। বাদ যায়নি তাড়াশ উপজেলাও। গত শনিবার পর্যন্ত প্রসাশন সুত্রের রিপোর্ট মতে তাড়াশ উপজেলায় সম্প্রতি বিদেশ ফেরতের সংখ্যা ৪৮ জন, এর মধ্যে দুই জন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। বাদবাকি হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। তবে মাঠ পর্যায়ে এখবরের সত্যতা যাচাই করা দূরুহ ব্যাপার। কেননা, তাড়াশ উপজেলার শতশত নারী পুরুষ মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশে^র বিভিন্ন দেশে বিশেষত শ্রমিক হিসেবে কাজের উদ্দেশ্য গেছেন। যার মধ্যে যুব-বয়স্ক শ্রেণীর পুরুষই বেশী। কিন্তু সরকারের কোন দপ্তরেই এদের সঠিক ডাটাবেজ কিংবা তথ্য নেই। ফলে কারো পক্ষেই বলা সম্ভব নয়- তাড়াশ থেকে অভিবাসী জনসংখ্যা প্রকৃতপক্ষে কত। ম্যপ্রাচ্যে হতে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী প্রবাসী সাম্প্রতিককালে করোনাভাইরাস ইস্যুতে দেশে ফিরে এসেছেন। তাদের মধ্য তাড়াশ উপজেলার লোকজনও রয়েছেন নি:সন্দেহে। কিন্তু এরা সরকারের নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অগ্রাহ্য করে ভয়ে আতংকে অনেকেই লুকিয়ে আছে। অথচ এদের সবাইকে বিদেশ থেকে ফেরত আসার পরপরই সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক সংশ্লিষ্ট দপ্তরে রিপোট করার কথা ছিল। তারা তা করেছেন বলে জানা যায় না। অপরদিকে সরকারী প্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও তাদের পরিপূর্ণ তথ্য জেনে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠাবার মত যথেষ্ঠ প্রস্তুতি ও সামর্থ আছে বলে প্রতীয়মান হয় না। এমতাবস্থায় তাড়াশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রত্যাবাসিত স্থানীয় অধিবাসীদের উপর যথাযথ নজরদারি করা তাদের পক্ষে কীভাবে সম্ভব। আরেকটা ব্যাপার হল তাড়াশের পাশ^বর্তী উপজেলাগুলোতেও অনরূপ বিদেশ ফেরত লোকজনের একটি অংশ নিজেদের উপজেলায় চাপে থাকার ভয়ে তাড়াশ এলাকায় পালিয়ে আশা এবং লুকিয়ে থাকা অসম্ভব নয়। এতে করে করোনাভাইরোসের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে বলে সচেতন মহলের ধারণা। এই ত্রিশঙ্কু অবস্থায় সরকারী প্রশাসনকে সকল দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আনসার ভিডিপি, শিক্ষা ,সামাজিক ,সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ, স্থানী সরকার প্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা তথা করোনা সম্পর্কে জাগরণ সৃষ্টি করা দরকার। যাতে কমিউনিটিতে করোনা সহায়ক কোন ঘটনা না ঘটতে পারে। বিশেষত বাইরে থেকে আশা লোকজনের গতিবিধি সম্পর্কে তারা যেন স্বতস্ফুর্ত তথ্য আদান প্রদান করে। তেমনটি হলে সরকারের পক্ষে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত একটা সঠিক বার্তা দেওয়া সহ প্রযোজনীয় সতকর্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সুবিধা হবে। আমরা জানি, তাড়াশ সদর হাসপাতালের সেবা দানের সক্ষমতা এমনিতেই নড়বড়ে এবং প্রশ্নবিদ্ধ। তদুপরি করোনা ঠেকাতে তাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও উপকরণাদি আছে এখন পর্যন্ত এমন কোন খবর নেই। ফলে যাদের জন্য প্রযোজ্য তাদেরেকে যথাসময়ে যথাযথভাবে কোয়ারেন্টিনে রাখাসহ পূর্বপ্রতিরোধমূলক সতর্কতা ও সচেতনতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণে সফল হতে পারলে আমরা করোনা মোকাবেলা করতে পারবো বলে আশা করতে পারি। অন্যথায় তাড়াশ উপজেলায় করোনার ঝুঁকি ও হুমকি কখনোই খাটো করে দেখা যাবে না। এদিকটায় সংশ্লিষ্ট সরকারী প্রশাসনের তড়িৎ দৃষ্টি দিতে হবে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com