এম এ মাজিদ : চলনবিল এলাকায় শীতের তীব্রতা বাড়ছে। দিগন্তজোড়া মাঠ হলুদ শরিষা ফুলের অপরুপ সাজে সেজেছে। সরিষা ফুলের গন্ধ বাতাসে বিল এলাকার মানুষের মাঝে ছড়িয়ে যাচ্ছে। ফুলে ফুলে মৌমাছির গুঞ্জন, চলছে মধু আহরনের পালা। শীতের সকালে সরিষা ফুলের পাঁপড়িতে রোদের ঝিলিক। সকালে মিষ্টি মধুর রোদে বসে পিঠা খাওয়া বিল এলাকার মানুষের শতাধিক বছরের ঔতিহ্য। চলনবিল এলাকা অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন আর পানি প্রবাহের পথে বাধা সৃষ্টির ফলে এবছরে সরিষা চাষ অর্ধেকে নেমে এসেছে। তাই কৃষকের মনে শান্তি নেই, নেই আর্থিক স্বচ্ছলাবস্থা। তাদেও ঘরে অভাব আছে। তবুও প্রকৃতির অপরুপ সৌন্ধর্যের মধ্যে তাদের মুখে হাসির ঝিলিক ভুলিয়ে দিচ্ছে কৃষকের শত অভাব অনটন আর দু:খ কষ্ট।
ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মৌ চাষিরা মাঠে নামিয়েছে মধু আহরনের ডালা, শুরু করেছে মধু সংগ্রহ। চলনবিলের সরিষা ফুলের রয়েছে আলাদা সুখ্যাতি। বাজারজাত হচ্ছে সরিষা ফুলের সুস্বাধু মধু। এ মধু চাহিদা অনুযায়ী যাচ্ছে দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, চলনবিলের সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া ও শাহজাহাদপুর। নাটোরের গুরুদাসপুর, সিংড়া, এবং পাবনা জেলার চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলায় প্রায় শতাধিক মৌচাষীরা মধু আহরণ করছে। শরিষা ফুলের মধু আহরণ করে অনেকেই সফলতা দেখছে। মাঠে মাঠে তাদের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। সরিষা ক্ষেত এখন হাসছে ফুলের সৌরভে। অন্য বছরের তুলনায় চাষ কম হলেও এখুন পর্যন্ত আবাদ ভালো। সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছে চাষীরা।
কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, অপরিকল্পিত পুকুর খননের ফলে মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্ঠি হয়ে বর্ষার পানি নামতে বিলম্ব হওয়ায় এবছর চলনবিল এলাকায় অন্য যেকোন সময়ের তুলনায় সরিষা আবাদ অনেক কম হয়েছে। চলনবিলের তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা: লুৎফুননাহার লুনা বলেন, এবছর তাড়াশ উপজেলায় ৫ হাজার ৪’শ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। যা গত বারের তুলনায় ১ হাজার ৩’শ হেক্টর কম। আর এজন্য জমি থেকে সময় মত পানি নিষ্কাশনকেই দায়ী করেন তিনি।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com