বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে ব্যবহার করছে আধুনিক প্রযুক্তি ডিজিটাল ডিভাইস। যার কারণে চালক মাদকাসক্ত কিনা এবং সহজেই গাড়ীর গতিবেগ নির্ধারণসহ কাগজপত্রের যথার্থতা যাচাই করা সম্ভবপর হচ্ছে। এতে করে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতসহ মহাসড়ক হচ্ছে নিরাপদ। হাইওয়ে পুলিশের এ প্রযুক্তি ব্যবহারের পর গত দুই মাসে কোন দুর্ঘটনা না ঘটায় খুশি রাস্তায় চলাচল করা মানুষসহ স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কটি দেশের অন্যতম দুর্ঘটনা প্রবণ মহাসড়ক। এ মহাসড়কের বড়াইগ্রামের রেজুর মোড়ে ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ৩৮ জন মারা যান। এ মহাসড়কের বড়াইগ্রামের বনপাড়া বাইপাস থেকে কাছিকাটা টোলপ্লাজা পর্যন্ত অংশের ২৬ কি.মি. এবং নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া থেকে রাজাপুর পর্যন্ত ২০ কি.মি. এলাকায় বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশ উল্লেখিত প্রযুক্তিসহ টহল জোরদার করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নাটোর-পাবনা এবং বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে হাইওয়ে পুলিশ। বাস-ট্রাকসহ অন্যান্য গাড়ির চালক মাদকাসক্ত কিনা বা কি পরিমাণ মাদক গ্রহণ করেছে তা নির্ণয় করতে ব্যবহার করা হচ্ছে এ্যালকোহল ডিটেক্টর। নির্ধারিত গতিবেগের চেয়ে বেশী গতির যান সনাক্তে স্পিডগান এবং সব কাগজ ঠিকঠাক আছে কিনা তা নির্ণয়ে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন ডিটেক্টর (আরএফআইডি) বা স্ক্যানার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট সারওয়ার আলম জানান, গত নভেম্বর মাসে ষ্ক্যানার প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় ২৪টি মামলা দায়ের করেছে। একই সময়ে স্পীডগান ব্যবহার করে গতি সীমা লঙ্ঘন করায় ৯৮টি মামলার অনুকুলে ২৯ হাজার ৪০০ টাকা আদায় করেছে। এছাড়া এ্যালকোহল ডিটেক্টর দিয়ে মাত্র চার সেকেন্ডে চালকের মাদকাসক্তি পরীক্ষা করা হচ্ছে। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) উপজেলা সভাপতি খাদেমুল ইসলাম বলেন, বড়াইগ্রামে দুটি মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে দুর্ঘটনার সংখ্যা অনেকটাই কমে এসেছে। বনপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি খন্দকার শফিকুল ইসলাম জানান, মাদকাসক্তি যাচাইসহ নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে খুব সহজেই হাইওয়েতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে রেখে দুর্ঘটনা কমিয়ে এনে মহাসড়কে নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com