গুরুদাসপুর প্রতিনিধি
নৃত্যের ছন্দে কখনো কথা বলে স্বপ্ন, কখনো জেগে ওঠে শিকড়ের গল্প। সেই ছন্দকে হৃদয়ে ধারণ করে দীর্ঘদিন ধরে মঞ্চে যেমন নৃত্যের সৌন্দর্য ছড়িয়েছেন, তেমনি মঞ্চের বাইরে গড়ে তুলেছেন নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের। নীরব সাধনা আর সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতার সেই পথচলার স্বীকৃতি হিসেবে এবার ‘উদয় শঙ্কর’ নৃত্য পদক ১৪৩৩ পেলেন নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক নীল সাহা পাপ্পু।
দীর্ঘদিনের নৃত্যচর্চা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং শিশু-কিশোর ও তরুণ শিল্পীদের বিকাশে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘উদয় শঙ্কর নৃত্যায়ন’ গতকাল এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁকে এ সম্মাননা প্রদান করে।নৃত্যকে শুধু মঞ্চের পরিবেশনা নয়, বরং নতুন প্রজন্মের সৃজনশীল বিকাশের শক্তি হিসেবে দেখেন নীল সাহা পাপ্পু। সেই ভাবনা থেকেই দীর্ঘদিন ধরে তিনি শিশু-কিশোর ও তরুণদের নৃত্য ও ললিতকলায় প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন।গুরুদাসপুরে তাঁর প্রতিষ্ঠিত নন্দন ললিতকলা কেন্দ্র নৃত্য ও ললিতকলাচর্চার প্রসারে কাজ করছে। প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভাবান শিল্পীদের খুঁজে বের করে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি এবং জাতীয় পর্যায়ে তাঁদের তুলে ধরারও উদ্যোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
পদক পাওয়ার পর নীল সাহা পাপ্পু বলেন, “এই সম্মাননা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের। একই সঙ্গে এটি আমার দায়িত্বও বাড়িয়ে দিয়েছে। নৃত্য ও সংস্কৃতির জন্য আরও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার অনুপ্রেরণা হিসেবে আমি এ স্বীকৃতিকে দেখছি।”তিনি বলেন, “এই পদক আমার একার অর্জন নয়। নৃত্যজীবনের পথচলায় যারা আমাকে শিখিয়েছেন, উৎসাহ দিয়েছেন ও পাশে থেকেছেন—এই সম্মাননা তাঁদের সবার।”
গুরুদাসপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করে জাতীয় পর্যায়ে এ অঞ্চলকে পরিচিত করে তোলাই তাঁর লক্ষ্য। প্রশিক্ষণের অভাবে কোনো প্রতিভাবান শিশু-কিশোর বা তরুণ যেন হারিয়ে না যায়—এ প্রত্যয় নিয়েই কাজ করে যেতে চান তিনি।অনুষ্ঠানে গাইবান্ধা জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম ও জেলা কালচারাল অফিসার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান সরকার উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা নীল সাহা পাপ্পুর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন এবং তাঁর ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন।#
Weekly Chalonbeel Barta chalonbeelbarta.com