তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় পৃথক ঘটনায় এক নববধূসহ দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে এক নববধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে অপর এক গৃহবধূর মৃত্যুর আগে স্বামীর মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে উভয় ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।নিহতরা হলেন উপজেলার মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নের নাদোসৈয়দপুর গ্রামের খুকনিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল জলিলের স্ত্রী মোছা. সালমা খাতুন (৩৫) এবং তালম ইউনিয়নের হাড়িসোনা গ্রামের বাসিন্দা মো. হাসেম আলীর স্ত্রী মোছা. মীম খাতুন (১৬)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে নাস্তার জন্য খিচুড়ি রান্না করেন সালমা খাতুন। খিচুড়ির স্বাদ নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে স্বামী আব্দুল জলিলের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে স্বামী তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ঘরের দরজার সঙ্গে সালমা খাতুনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।এদিকে, মীম খাতুনের সঙ্গে প্রায় পাঁচ মাস আগে হাসেম আলীর বিয়ে হয়। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে মীমকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো। রবিবার (২ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে স্বামীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, মীম গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।তবে নিহত মীম খাতুনের বাবা মো. ফিরোজ আহম্মেদ অভিযোগ করেন, যৌতুকের দাবিতে তার মেয়েকে হত্যা করে পরে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হচ্ছে।অন্যদিকে সালমা খাতুনের বাবা শাহাদত হোসেন জানান, মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তার কোনো অভিযোগ নেই।
তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে । তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com