বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
উপস্থিত : প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা এবং আমার সংগঠনের প্রিয় সদস্যবৃন্দ ও আজকের সংবাদ সম্মেলনের ব্যাপারে সংবাদ মাধ্যমে যারা অবগত হবেন তাদের প্রত্যেকের প্রতি আমার আন্তরিক সালাম, ‘আসসালামু আলাইকুম।আমি মোঃ বদরুল আমিন সোহাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যকলা বিভাগের ছাত্র এবং বিহঙ্গ সাংস্কৃতিক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।
আপনারা জানেন যে ২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বর বিহঙ্গ সংস্কৃতি পরিষদ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আমি তাড়াশ উপজেলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়েও সরব ছিলাম এবং এখনো থাকার চেষ্টা করি।এরই ধারাবাহিকতায় কিছুদিন আগে তাড়াশ উপজেলার একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “বিষমডাঙ্গা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ” এর একটি ঘটনার সাথে যুক্ত হই।উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক খোকন কর্তৃক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির ঘটনা এবং ভুক্তভোগির করা মামলায় রায়গঞ্জ পুলিশ কর্তৃক আসামি গ্রেফতারের গড়িমসি ও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্য চারজন নিরীহ শিক্ষক শিক্ষিকাকে নিয়ে অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় মাতামাতি করতে গিয়ে প্রমাণিত অভিযুক্ত শিক্ষক খোকনের অপরাধ ও শাস্তি ধামাচাপা পড়ে যাবার বিষয়টি নিয়ে আজকের সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছি।
আমার প্রিয় তাড়াশবাসী এবং সারা বাংলাদেশের ছাত্র সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মিডিয়ার মাধ্যমে আপনারা অনেকেই অবগত আছেন যে, কিছুদিন পূর্বে সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার বিষমডাঙ্গা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষক কর্তৃক তার নিজ কোচিং সেন্টারে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির তথ্য আসে। আমরা গোপনে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি ঐ শিক্ষকের নামে এর আগেও ছাত্রী হয়রানির একাধিক অভিযোগ ছিল কিন্তু তৎকালীন সময়ে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এবং টাকার বিনিময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ম্যানেজ করে ঘরোয়া বিচারের মাধ্যমে তার এই প্রতিনিয়ত করা অপরাধগুলো দামা চাপা দেয়।সম্প্রতি ওই শিক্ষক আবারো তার নিজ কোচিং সেন্টারে পড়ানোর উছিলায় তার স্কুলের এক আদিবাসী ছাত্রীকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ফের চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং পরিবেশ ক্রমেই উত্তপ্ত হতে থাকে।বিষয়টি তদন্তের জন্য গত ২২ জুন তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,তাড়াশ থানা অফিসার ইনচার্জ একটি টিম নিয়ে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যান।সেখানে আমরা উপস্থিত ছিলাম এবং এসপি মহাদয়ের নির্দেশে সচেতনতামূলক একটি প্রোগ্রাম করার উদ্দেশ্যে এসআই মিলির নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জন মহিলা পুলিশের একটি টিমও আসে।তদন্তের শেষে আমরা জানতে পারি মহিলা পুলিশদের একান্তে কাছে পেয়ে বিভিন্ন ক্লাসের অনেক ছাত্রী কান্না জড়িত কন্ঠে শিক্ষক খোকনের নামে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ করে। শিক্ষক খোকন ছাড়াও আরো কোন শিক্ষক ছাত্রদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে কিনা বা ছাত্রীদের গায়ে হাত দেয় কিনা এমন কথা জানতে চাইলে দুই তিন জন ছাত্রী অভিযোগ করেন সুজন স্যার এবং বিকাশ স্যার তাদের গায়ে হাত তুলেছেন।সেদিন এইটুকু তথ্য নিয়েই আমরা
সবাই স্কুল ত্যাগ করি। পরবর্তীতে দশম শ্রেণীর ছাত্রী রতি রানী বলেন সুজন স্যার তার কানে আঘাত করেছিলো।পরদিন ২৩ জুন সকাল ১১ টা নাগাদ তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষমডাঙ্গা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ কমিটির সভাপতি নুসরাত জাহান লিখিতভাবে ওই তিন জন শিক্ষককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেন সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেন এবং তাদের প্রতি করা অভিযোগের জবাব চেয়ে নোটিশ পাঠান।এর কিছুক্ষণ পরই প্রায় দুপুর ১২ টা নাগাদ ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক সহ প্রায় দেড় থেকে দুইশত মানুষ ব্যানার, প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে উপজেলা চত্বরে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে মানববন্ধন করেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষক খোকনের কুশ্পুত্তলিকা দাহ করেন।এর পাশাপাশি তারা শিক্ষক খোকনের নামে এবং তার এই অপকর্মের সহযোগিতা করার দায় কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল আব্দুল আলীমের নামে এবং ভুক্তভোগী ছাত্রীদের প্রতি হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এনে শিক্ষিকা আরিফা ম্যাডামের বিরুদ্ধে নানান রকম প্রতিবাদী স্লোগান দেন।এরপরে তারা ইউএনও মহোদয়ের সাথে সাক্ষাৎ করে শিক্ষক খোকন প্রিন্সিপাল আলিম ও শিক্ষিকা আরিফা ম্যাডামের নামে লিখিত অভিযোগ দেন। ইউএনও মহোদয় মিডিয়ার সামনে ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলেন,তাদের অভিযোগ পত্রটি গ্রহণ করেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিচারের আশ্বাস দেন।
এরপরে আমরা দেখতে পেলাম তদন্ত হলো অনেক বৈঠক হলো শিক্ষক খোকনের নামে মামলা হলো,জাস্ট এটুকুই। এগুলো প্রায় একটি মাস। কিন্তু ফলাফল প্রায় শূন্য।আমরা যে বিষয়টা নিয়ে হতাশ, তা হলো,শিক্ষক খোকন প্রায় সকলের দৃষ্টিতেই প্রমাণিত অপরাধী। আমাদের তদন্তেও এই ঘটনার একমাত্র অপরাধী খোকন। তার প্রতি করা প্রত্যেকটা ছাত্রীর অভিযোগ সত্য। এবং বিভিন্নভাবে অভিযুক্ত বাকি চারজন শিক্ষক শিক্ষিকা নিজেদের করা ছোট ছোট কিছু ভুল ভ্রান্তি ছাড়া তাদের প্রত্যেকের প্রতি আনিত অভিযোগ ভিত্তিহীন।কিন্তু এলাকার দুই পক্ষের কিছু মানুষ ব্যক্তি স্বার্থে দুই পক্ষ মিলে আলাদাভাবে এ চারজন শিক্ষককে হয়রানি করছেন। কিছু মানুষের ব্যক্তিগত রেষারেষির কারণে এই চারজন শিক্ষককে বিনা কারণে অথবা ছোট কিছু ভুলের কারণে সমাজে মাথা নিয়ে চলতে হচ্ছে। অথচ অভিযুক্ত মূল আসামি শিক্ষক খোকন এখনো ধরাছোঁয়ার বাহিরে। খোকনের মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই বলছেন আসামিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি এক মাসেও আসামিকে খুঁজে পাননি। অথচ বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি আসামি এখনো দেশেই কোথাও আত্মগোপন করে আছে। এমনটাও শুনতে পাচ্ছি তিনি খুব তাড়াতাড়ি পার্শ্ববর্তী দেশে আত্মগোপন করার চেষ্টা করছেন। দুই পক্ষের টানা হ্যাচড়ায় ব্যাপারটা এখন এমন হয়ে গেছে যে, “যার বিয়ে তার খবর নেই পাড়া পড়শী শান্তি নেই। “আমরা বিহঙ্গ সাংস্কৃতিক পরিষদের পক্ষ থেকে এই ঘটনার যতোটুকু জানি ততোটুকু আপনাদের জানিয়ে দেওয়ার জন্য আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছি।যেন আপনারা জানতে পারেন যে, কিছু মানুষ আমাদের সন্তানদের সম্মান নিয়ে সমাধান না করে মূল আসামিকে আড়াল করার চেষ্টা করছে
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com
