মো: তাওহীদুর রহমান।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি জন্ম ১৯১৭ সালে,পৃথিবী তখন ১ম বিশ্ব যুদ্ধে লিপ্ত।জন এফ কেনেডি তার জীবন দশায় মানব জাতির জন্য যুগান্তকারী এক উপদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন,”মানবজাতিকে অবশ্যই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে, তা না হলে যুদ্ধই মানবজাতির অবসান ঘটাবে।”তার উক্তিটি তার জন্মের বহুবছর পরে হলেও, তার জন্মলগ্নে চলা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে পৃথিবী যখন স্তম্ভিত, তখন বিশ্ব মোড়লরা হয়তো তার উক্তির মতই অনুধাবন করেছিলেন বিশ্বের শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্বব্যাপী একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের।তাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Woodrow Wilson শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর বিখ্যাত “চৌদ্দ দফা” (Fourteen Points) প্রস্তাব করেন।
এই প্রস্তাবের শেষ দফায় একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন গঠনের কথা বলা হয়, যা পরে লীগ অব নেশনস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।১৯১৯ সালের Treaty of Versailles চুক্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে লীগ অব নেশনস গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।সংস্থাটি ১৯২০ সালের ১০ জানুয়ারি কার্যক্রম শুরু করে।পৃথিবীব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার মহৎ লক্ষ্যকে সামনে রেখে লীগ অব নেশনস কিছু মূলনীতি গ্রহণ করেলীগের মূলনীতি সমূহ :১.আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা২.নিরস্ত্রীকরণ৩.দেশগুলোর মধ্যে বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা৪.ভবিষ্যৎ যুদ্ধ প্রতিরোধ করা শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যখন কাজ শুরু করে তখন বেশ কিছু বাধার সম্মুখীন হতে হয় সংস্থাটিকে। . লীগের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় শক্তিশালী দেশগুলোর অনুপস্থিতি।লীগ অব নেশনস-এ বিশ্বের তৎকালীন পরাশক্তিগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণের অভাব ছিলো। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসনের উদ্যোগেই এই সংস্থা গঠিত হয়েছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট এতে যোগদানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ফলে শুরুতেই সংস্থাটি অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে।অন্যান্য পরাশক্তি যেমন: সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া) এবং জার্মানিকে শুরুতে এই সংস্থায় যোগ দিতে দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে তারা যোগ দিলেও তা পরবর্তীতে স্থায়ী হয়নি।
নিজস্ব কোনো সামরিক বাহিনী না থাকালীগ অব নেশনস-এর আরো একটি দুর্বলতা। কোনো আক্রমণকারী দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাদের নিজস্ব কোনো শান্তিরক্ষী বা সামরিক বাহিনী ছিল না। কোনো দেশ যদি আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করত, তবে লীগ কেবল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা মৌখিক নিন্দা জানাতে পারত। কিন্তু সামরিক শক্তি ছাড়া শক্তিশালী আগ্রাসী দেশগুলোকে থামানো সম্ভব ছিল না।সংস্থার প্রধান চালিকাশক্তি ছিল ব্রিটেন এবং ফ্রান্স। কিন্তু তারা সংস্থার আদর্শ রক্ষা করার চেয়ে নিজেদের ঔপনিবেশিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় বেশি ব্যস্ত ছিল। যখন ইতালি, জার্মানি বা জাপানের মতো শক্তিশালী দেশগুলো ছোট দেশগুলোর ওপর আক্রমণ করে, তখন ব্রিটেন ও ফ্রান্স যুদ্ধ এড়ানোর জন্য “তোষণ নীতি” (Appeasement Policy) গ্রহণ করে। তারা আগ্রাসীদের শক্ত হাতে দমন না করে পরোক্ষভাবে ছাড় দিতে থাকে।গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে একমত হওয়ার বাধ্যবাধকতা লীগ অব নেশনস এর কার্য পদ্ধতিকে আরো জটিল করে তোলে। যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কাউন্সিলের সমস্ত সদস্য দেশের একমত হওয়া আবশ্যক ছিল। যদি একটি দেশও দ্বিমত পোষণ করত বা ভেটো দিত, তবে পুরো সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যেত। এই নিয়মের কারণে দ্রুত এবং কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হতো না।
১৯৩০-এর দশকে বেশ কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক সংকটে লীগ অব নেশনস সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়ে।মাঞ্চুরিয়া সংকট (১৯৩১) জাপান যখন চীনের মাঞ্চুরিয়া দখল করে, লীগ তখন জাপানের নিন্দা করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি।অ্যাবিসিনিয়া সংকট (১৯৩৫) ইতালি যখন ইথিওপিয়া (তৎকালীন অ্যাবিসিনিয়া) আক্রমণ করে, লীগ কার্যকর অর্থনৈতিক বা সামরিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে ব্যর্থ হয়।উপরোক্ত বাঁধাগুলোর সম্মুখীন হওয়ায় লীগ পৃথিবীব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয় এবং পৃথিবীর বুকে আবারো যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে, শুরু হয় পৃথিবীর বুকে আরও একটি রক্তক্ষয় অধ্যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৩৯-১৯৪৫)। আবারো মানব জাতি দেখে এক ধ্বংসের নীলা খেলা।লীগ অব নেশনস-এর ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আজকের জাতিসংঘ ( UN)-এর জন্ম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার সাথে সাথেই লীগ অব নেশনস-এর কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে যায়। লীগ যে বিশ্বশান্তি বজায় রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ, তা প্রমাণিত হয়ে যায়। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু, পারমাণবিক বোমার ধ্বংসলীলা এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয় রাষ্ট্রনায়কদের বাধ্য করে লিগের বিকল্প নিয়ে ভাবতে।
জাতিসংঘের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৪১ সালের আগস্ট মাসে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল আটলান্টিক মহাসাগরে একটি যুদ্ধজাহাজে গোপনে বৈঠক করেন। সেখানে তারা একটি যৌথ ঘোষণা স্বাক্ষর করেন, যা আটলান্টিক চার্টার নামে পরিচিত। এতে যুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। আর এই ধারাবিক কার্যক্রমের অংশ হিসাবে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৪৫ সালের ২৪শে অক্টোবর আত্মপ্রকাশ করে। লীগের মতোনবিশ্বশান্তি ও সহযোগিতা বজায় রাখার জন্য সংস্থাটি কিছু মৌলিক নীতি অনুসরণ করে।জাতিসংঘের মূলনীতিগুলো হলো:
১.রাষ্ট্রীয় সমতা: বিশ্বের সব সদস্য রাষ্ট্র সমান সার্বভৌমত্বের অধিকারী। ছোট-বড় বা ধনী-দরিদ্র সব দেশের মর্যাদা সমান।২.সদচ্ছা বজায় রাখা: সব সদস্য রাষ্ট্রকে আন্তরিকভাবে জাতিসংঘের সনদের নিয়ম ও দায়িত্বগুলো মেনে চলতে হবে।৩.শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি: যেকোনো আন্তর্জাতিক বিরোধ বা সমস্যা যুদ্ধ ছাড়াই শান্তিপূর্ণ উপায়ে (আলোচনা বা সালিশের মাধ্যমে) সমাধান করতে হবে।৪.বলপ্রয়োগ না করা: কোনো দেশ অন্য কোনো দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে শক্তি বা হুমকি প্রয়োগ করতে পারবে না। ৫.জাতিসংঘকে সহায়তা দান: সনদের নিয়ম অনুযায়ী জাতিসংঘ কোনো পদক্ষেপ নিলে সব সদস্য রাষ্ট্র তাকে সাহায্য করতে বাধ্য থাকবে এবং জাতিসংঘ যার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে তাকে কোনো সাহায্য করা যাবে না।৬.অ-সদস্য রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব: যারা জাতিসংঘের সদস্য নয়, তারাও যেন বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থে এই নীতিগুলো মেনে চলে, জাতিসংঘ তা খেয়াল রাখে।৫.অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা: কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বা নিজস্ব বিষয়ে জাতিসংঘ সাধারণত কোনো হস্তক্ষেপ করবে না (যদি না তা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়)।
জাতিসংঘ তার এই মূলনীতি অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করলেও এতে বেশ কিছু অসঙ্গতি দেখা যায়।জাতিসংঘের মূলনীতিতে কোন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হস্তক্ষেপ না করা বা বল প্রয়োগ না করার ব্যাপারে বলা থাকলেও সম্প্রতি ভেনেজুয়েলা প্রেসিডেন্ট কে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে জাতিসংঘের এই কার্যক্রম শুধু তাদের কাগজ-কলমে আবদ্ধ রয়েছে। শুধু ভেনেজুয়েলা নয় আজ মধ্যপ্রাচ্য উত্তপ্ত। এ বিষয়ে জাতিসংঘ কার্যত নীরব। শুধু তাই নয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইজরাঈল- ফিলিস্তিন সংঘাত, রোহিঙ্গা সংকট ইত্যাদি নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জাতিসংঘ শুধু বিবৃতির মধ্যে আবদ্ধ থেকেছে । বাস্তবে কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি।বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংঘাত এবং সংকট উভয় দিকে সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে সেই লীগ অফ নেশনস এর মতোই একটি ব্যর্থ আন্তর্জাতিক সংস্থার চিত্র আমাদের চোখে উঠে আসে। লীগ অফ নেশনসে যুক্তরাষ্ট্র অংশগ্রহণ না করায় তাদের অভিভাবকত্ব হারিয়েছিল, তবে জাতিসংঘ তে যুক্তরাষ্ট্র থাকলেও তার ভূমিকা অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ। লীগ অফ নেশনসে তাদের চালিকাশক্তি হিসাবে ব্রিটেন এবং ফ্রান্স নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেছিল তেমনি যুক্তরাষ্ট্রসহ ভেটো প্রদানকারী স্থায়ী পাঁচটি দেশ ও বর্তমান জাতিসংঘে একই রকম ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে বলেই বর্তমানে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং বিবৃতি দেখলে তাই স্পষ্ট বোঝা যায়। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার প্রায় ৮১ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। সময়টা একেবারে কম না। প্রতিবছর একটি করে শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করে আমরা অনেক ভালো কথা বলি বা শুনি,কিন্তু এগুলো বৃহৎ অর্থে উন্নয়নশীল বিশ্বের কোন মঙ্গল ডেকে আনতে পারেনি বরং সম্প্রতি সময়ে বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র ধ্বংস হয়ে গেছে প্রাচীন ঐতিহ্য নষ্ট হয়েছে হয়েছে কিন্তু জাতিসংঘ তা বন্ধ করতে পারেনি। এমন অবস্থায় জাতিসংঘর ভবিষ্যৎ নিয়ে নানামহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন সতর্ক করে বলেছেন যে, “জাতিসংঘ কার্যকারিতা হারানোর দিকে এগোচ্ছে “
এত অভিযোগ সত্ত্বেও জাতিসংঘের সফল্য একেবারে নেই তা বলা ভুল। আজ পর্যন্ত জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার পর আজও পর্যন্ত পৃথিবী কোন বিশ্বযুদ্ধ দেখেনি। ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ ও কুয়েতকে শত্রুমুক্ত করা, এল সাল ভাদর, কমফুসিয়া কিম্বা না মেবি আই পরস্পর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে সব স্থানের পরিবেশ সৃষ্টি করে দেওয়া ও শান্তি ফর্মুলায় রাজি করানোর মতো ঘটনার মধ্য দিয়ে এটা প্রমাণিত হয় যে, স্নায়ু যুদ্ধ পরবর্তী যে বিষয়বস্তু গড়ে উঠেছে তাতে জাতিসংঘের একটা ভূমিকা রয়েছে। যুগোস্লাভিয়ার গৃহযুদ্ধ থামাতে সেখানে শান্তি রক্ষা বাহিনী পাঠানো, কমফু সিআই গৃহযুদ্ধ ঠেকাতে সেখানে জাতিসংঘ বাহিনী মোতায়েন ও পরবর্তী সেখানে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা এমনকি নেপালেও নির্বাচন আয়োজনের সহযোগিতা করার মধ্য দিয়ে জাতিসংষ তার ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। সারা বিশ্বব্যাপী বিশেষ করে আফ্রিকায় যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীর মোতায়ন করার মধ্য দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি উদ্যোগ লক্ষণীয়। তবে ব্যর্থতার পাল্লাটাও বেশ ভারী। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অংশ হিসেবে আফগানিস্তানের হামলা চালিয়েছে যুদ্ধের শুরু হয়েছিল জাতিসংঘ দীর্ঘ ২০ বছরও তা বন্ধ করতে পারেনি।। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেয়। ২০১১ সালে মানবাধিকার রক্ষার হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে লিবিয়ায় বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এই হামলায় গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হন এবং রাষ্ট্রটি এখন কার্যত একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।২১ শতকে জাতিসংঘের ভূমিকা কি হওয়া উচিত কোন বিষয়গুলোকে জাতিসংঘ গুরুত্ব দেবে এ নিয়ে আলোচনার সময় হয়েছে। মানবাধিকার, সামাজিক সুরক্ষা, এবং প্রযুক্তির আগ্রাসন জাতিসংঘের আগামী কার্যক্রমকে বেশ জটিলতায় ফেলতে পারে। জাতিসংঘ বিভিন্ন সংঘাত এড়াতে সক্ষম না হলেও মানবিক কার্যক্রম গুলোতে বেশ সাফল্য লাভ করেছে। MDG, SDG, ত্রাণ কার্যক্রম, ইত্যাদি উদ্যোগগুলো বেশ ভালোভাবেই চালিয়ে যাচ্ছে। আগামীর পৃথিবীর জটিলতা গুলোকে সামনে রেখে, পৃথিবীর পরাশক্তি গুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ভারসাম্য, জলবায়ু পরিবর্তন চ্যালেঞ্জ এবং যেকোনো সংঘাতে বিবৃতির মধ্যে আবদ্ধ না থেকে একটি সুন্দর আগামী বিশ্ব গড়ার প্রত্যয় নিয়ে জাতিসংঘ আরো কার্যকর হবে বলি আমরা প্রত্যাশা করি।
মো: তাওহীদুর রহমান, শিক্ষার্থী অর্থনীতি বিভাগ রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com