জাহিদ হাসান :
পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে চলনবিল অঞ্চলের হাট-বাজারগুলোতে এখন জমে উঠেছে গরু কেনাবেচার ধুম। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ছে। কোরবানির পশু কিনতে সাধারণ মানুষ যেমন ব্যস্ত সময় পার করছেন, তেমনি খামারিরাও ভালো দামের আশায় হাটে পশু তুলছেন। তবে এই উৎসবমুখর পরিবেশের মাঝেই চলনবিল এলাকার কৃষকদের মাঝে দেখা দিয়েছে নতুন দুশ্চিন্তা। কয়েকদিন ধরে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিচু এলাকার ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার চলনবিল সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে খাল-বিল ও নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়তে শুরু করেছে। এতে কৃষকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। বিশেষ করে যেসব জমিতে আউশ ধান, সবজি ও মৌসুমি ফসল রয়েছে, সেসব জমি নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।
এদিকে ঈদ উপলক্ষে চলনবিলের বিভিন্ন পশুর হাটে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। অনেকেই পরিবারের সামর্থ্য অনুযায়ী গরু কিনতে হাটে আসছেন। কেউ বড় গরু কিনছেন, আবার কেউ মাঝারি আকারের পশু খুঁজছেন। বিক্রেতাদের ভাষ্য, গত বছরের তুলনায় পশুখাদ্য ও লালন-পালনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার গরুর দামও কিছুটা বেশি।স্থানীয় এক খামারি বলেন, “অনেক কষ্ট করে গরু পালন করেছি। আশা করছি ঈদের বাজারে ভালো দাম পাবো। কিন্তু পানি বাড়তে থাকলে খামার নিয়েও চিন্তা বাড়বে।”
অন্যদিকে কৃষকরা বলছেন, পানি আরও বৃদ্ধি পেলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন তারা। কয়েকজন কৃষক জানান, চলনবিল অঞ্চলে পানি দ্রুত বাড়লে ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে বছরের পরিশ্রম এক মুহূর্তে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। তারা দ্রুত খাল সংস্কার ও পানি চলাচলের পথ সচল রাখার দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন মহল মনে করছেন, ঈদের আনন্দের পাশাপাশি কৃষকদের দুশ্চিন্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। কারণ কৃষক বাঁচলে দেশের কৃষি বাঁচবে, আর কৃষি বাঁচলে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী থাকবে।চলনবিল অঞ্চলের মানুষ এখন একদিকে ঈদের আনন্দে ব্যস্ত, অন্যদিকে আকাশের দিকে তাকিয়ে পানি কমার প্রার্থনা করছেন। তাদের প্রত্যাশা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাবে ফসল, আর সবার ঘরে পৌঁছে যাবে ঈদের আনন্দ।
Weekly Chalonbeel Barta chalonbeelbarta.com
