ই–সিগারেট উৎপাদনকারী কারখানা স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা জারি করায়
তরুণ প্রজন্মের সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে দেশে ই-সিগারেটইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ENDS) যন্ত্র ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পণ্য উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের অনুমতি প্রদান না করার নির্দেশনা দেওয়াতে সরকারকে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) এর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ। এই নির্দেশনার মাধ্যমে ই- সিগারেট আমদানী নিষিদ্ধের পাশাপাশি এবার দেশে এর যন্ত্রাংশের কারখানা স্থাপনও নিষিদ্ধ করা হলো। যা দেশের তরুণ সমাজের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং সার্বিক জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তরুণ । বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উদ্বেগজনক হারে ই-সিগারেট (ভেপিং) এর ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে তারা। তামাক কোম্পানিগুলো সিগারেটের বিকল্প হিসেবে ই-সিগারেটের বাজার সম্প্রসারণের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং সিগারেটের চেয়ে কম ক্ষতিকর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।সম্প্রতি, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মহাপরিচালক ড. আহমেদ উল্লাহ এফসিএমএ এর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ‘দেশে ই-সিগারেট/ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ENDS) যন্ত্র ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পণ্য উৎপাদনের কোন কারখানা স্থাপনের অনুমতি প্রদান না করা ’ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। উক্ত চিঠিতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইলেকট্রনিক সিগারেটকে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ইতোমধ্যেই ই-সিগারেটের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, হংকংসহ বিশ্বের ৪২টি দেশ ই-সিগারেটকে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেছে এবং আরো ৫৬টি দেশ ই-সিগারেট ক্রয় বিক্রয়ের উপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে। বাংলাদেশ সংবিধানের ১৮ (১) অনুচ্ছেদে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির সকল পণ্য নিষিদ্ধের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিভিল আপিল নং ২০৪-২০৫/২০০১ এ প্রদত্ত রায়ে বাংলাদেশে যৌক্তিক সময়ে তামাক ব্যবহার কমিয়ে আনতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। একই রায়ে কোর্ট দেশে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্যের নতুন কোন কোম্পানি অনুমোদন প্রদান না করার নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটসহ অন্যান্য সমমনা তামাক-বিরোধী সংগঠনগুলোও দীর্ঘদিন ধরেই ই-সিগারেটের আমদানি, উৎপাদন ও বিপণন নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে আসছিলো।বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট মনে করে, এই নির্দেশনা তামাক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে সরকারের আরও একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। সরকারের এ নির্দেশনা তামাকমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মানের স্বপ্নকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট সংশ্লিস্টদের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি উক্ত নির্দেশনাটি দ্রুততার সাথে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছে ।
Weekly Chalonbeel Barta chalonbeelbarta.com