আরিফুল ইসলাম, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: শীতকালীন শস্য সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষিরা। বর্তমানে সিরাজগঞ্জ তাড়াশের বিভিন্ন এলাকায় সরিষা ক্ষেতে এ মধু আহরণে ব্যস্ত মৌমাছি। মধু সংগ্রহে জন্য স্টিল ও কাঠ বিশেষভাবে তৈরি করা হয় বাক্স। যার ওপরের অংশটা মোড়ানো কালো রঙের পলিথিন ও চট দিয়ে। বাক্সের ভেতরে কাঠের তৈরি আটটি ফ্রেমের সঙ্গে মোম দিয়ে বানানো এক ধরনের সিট বিশেষ কায়দায় লাগানো থাকে। পরে বাক্সগুলো সরিষা ক্ষেতের পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়। পাশাপাশি বাক্সগুলোর ভেতরে দেওয়া হয় রানি মৌমাছি। যাকে ঘিরে আনাগোনা করে হাজারো পুরুষ মৌমাছি। রানির আকর্ষণে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে মৌমাছিরা। একটি রানি মৌমাছির বিপরীতে প্রায় তিন হাজারের মতো পুরুষ মৌমাছি থাকে একেকটি বাক্সে। মৌমাছিতে টুইটম্বর বাক্সগুলো সরিষা ক্ষেতের লাগোয়া স্থানে সারিবদ্ধভাবে রেখে দেওয়া হয়। এরপর সেই সব বাক্স থেকে সরিষা ক্ষেতের ফুলে ফুলে ভো ভো শব্দ তুলে ঢু মারতে থাকে প্রশিক্ষিত মৌমাছিরা। এভাবে ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে চলে আসে বাক্সে।
সিরাজগঞ্জ তাড়াশ উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ করতে সাতক্ষীরা থেকে এসেছেন মোসারফ হোসেন, শামিম হোসেন, মাহির সরদার সহ বেশ কয়েকজন মৌচাষি। মৌচাষিরা প্রতি বছরের এ সময়টাতে তারা এভাবে মধু সংগ্রহ করে থাকেন। একই ধারাবাহিকতায় এবারো সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করছেন তারা।
সাতক্ষীরা মীরগাং গ্রামের বাসিন্দা মৌচাষি মোসারফ জানান, তারা কয়েকজন মিলে তাড়াশের চলনবিলে মধু সংগ্রহ করতে এসেছেন। উপজেলার ভাটরা গ্রামের পুনাইল গ্রামের বিস্তীর্ণ সরিষা ক্ষেতে ২০০টি বাক্স বসিয়েছেন তারা। এসব বাক্স থেকে প্রতি সপ্তাহে গড়ে প্রায় সাড়ে ৩০০ কেজির মতো মধু পাওয়া যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ঘড়গ্রাম, দোবিলা, নাদোসৈয়দপুর , মাগুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় চাষকৃত সরিষা ক্ষেতে মধু সংগ্রহ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মধু সংগ্রহকারীরা। সরিষা ক্ষেত লাগোয়া খালি জমিতে সারিসারি বাক্স বসানো হয়েছে। দলে দলে উড়ছে মৌমাছি। দল বেঁধে বা দলছুট হয়ে মৌমাছিগুলো সরিষা ক্ষেতে ভো ভো শব্দে উড়ে বেড়াচ্ছে। ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে ফিরে যাচ্ছে সেই বাক্সে।
মৌচাষিরা জানান, সরিষা ফুলের মধু রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকাররাও ক্রয় করেন। চাহিদা অনুযায়ী মধু বিক্রি করেন তারা। চাহিদা বেশি হলে দাম কিছুটা বেশি পান। আবার তুলনামূলক চাহিদা কম হলে দামও কিছুটা কম পান। তবে প্রতিকেজি সরিষা ফুলের মধু পাইকারি ৩৫০-৪০০ টাকা দরে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে বলেও জানান মৌচাষিরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকার মধু সংগ্রহের আশা করা হচ্ছে। বাক্স পদ্ধতি ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে এসব সরিষা ফুল থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com