মোঃ ফারুক আহমেদঃ পাঁচ বছর আগে ২০১৮ সালের অক্টোবরে মাসে নিজ বাড়ি থেকে বাকপ্রতিবন্ধী জাহাঙ্গীর আলম হারিয়ে যায়। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২৫ বছর। এরপর বিভিন্ন রেলস্টেশন, বাস স্ট্যান্ড, ফুটপাত, হাটবাজারে দিন কাটে তার। সর্বশেষ সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার ৩নং ধুবিল ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ড আমাশড়া গ্রামের প্রফেসর আব্দুর রশিদের পুকুর পাড়ের বারান্দায় থাকতে শুরু করে বাকপ্রতিবন্ধী জাহাঙ্গীর আলম। সেখান এলাকার সবার সাথে সু – সম্পর্ক গড়ে ওঠায় স্থানীয় ইউপি সদস্য আতাউর রহমান আলহাজ তাকে দেকবালসহ সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা করেন। পরে বাকপ্রতিবন্ধী জাহাঙ্গীর আলমের নামে ছবিসহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় নিউজ করা হয়। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ গনমাধ্যম ফেসবুকে ছবি পোষ্ট করে ইউপি সদস্য আতাউর রহমান আলহাজসহ এলাকার স্থানীয়লোকজন।
আমশড়া জোরপুকুর বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ওয়ার্ড জামায়াতের নেতা রাসেল সরকারের করা সেই পোষ্টের সুবাদে জাহাঙ্গীর আলমকে ফিরে পেতে সলঙ্গা আমশড়া জোরপুকুর বাজারে স্থানীয় ইউপি সদস্য আতাউর রহমান আলহাজের বাড়িতে ছুটে আসেন তার চাচাতো ভাই রাসেলসহ নিকট আত্মীয়সজন। দীর্ঘ দিন পর হারানো পিতার জাহাঙ্গীর আলমের বেঁচে আছে খোঁজ খবর পেয়ে ছবি দেখে মেয়ে জামিলা ও মা সোকিনা বেগম মোবাইল ফোনে ভিডিও কলে আবেগে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। শনাক্ত ও যাচাই বাছাই শেষে মঙ্গলবার (২৯শে ডিসেম্বর ) রাত ৮টার দিকে জাহাঙ্গীর আলমকে ইউপি সদস্য আতাউর রহমান আলহাজসহ স্থানীয় লোকজন ও গণমাধ্যম কর্মদের উপস্থিতিতে বাকপ্রতিবন্ধি জাহাঙ্গীরকে তার চাচাতো ভাই রাসেল মাহমুদ ও নিকটতম প্রতিবেশি আত্মায়ী শিশিরের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
জাহাঙ্গীর আলম কুমিল্লা জেলা চৌদ্দগ্রাম থানার উনকুন্ট গ্রামের কৃষক মৃত সোলতান মাহমুদ ও মৃত জোহরা বেগমের সন্তান। তিনই পিতা মাতার একমাত্র সন্তান। মাতা তার হরিয়ে যাওয়ারআগেই মারা যান। পরে পিতা সুলতান মাহমুদ ছেলে জাহাঙ্গীর আলম হারিয়ে যাওয়ার পর কয়েক মাস পরে ছেলের সোগে কাঁদতে কাঁদতে মারা যান। হারিয়ে যাওয়া পিতাকে কাছে পেয়ে মেয়ে ও স্বামীকে ফিরিয়ে দেওয়ায় ইউপি সদস্য আতাউর রহমান আলহাজ ও স্থানীয় লোকজসহ এলকার গণমাধ্যম কর্মিদের সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সোকিনা বেগম।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আতাউর রহমান আলহাজসহ স্থানীয় লোকজন এই প্রতিনিধিকে জানান, গত (৫- ৬ মাস ধরে ) সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা থানার আমশড়া জোরপুকুর বাজারে আব্দুর রশিদের পুকুর পাড়ের বারান্দায় দিনে এখানে সেখানে থাকলেও রাত্রিতে এই বারান্দায় অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে সেখান থেকে উদ্ধার করে বাকপ্রতিবন্ধী জাহাঙ্গীরকে আমার বাড়িতে খাওয়া দাওয়াসহ তার গোসলের ব্যবস্থা করি। এরপরে জাহাঙ্গীর আলমকে বিভিন্ন পত্রিকায় নিউজসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ছবি পোষ্ট করা হলেও তার পরিবারের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরপর আমার ভাতিজা রাসেল সরকারের আইডি থেকে গত ২৬ ডিসেম্বর জাহাঙ্গীর আলমের ছবি আবারো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোষ্ট করা হয়।
ফেসবুকের পোষ্ট দেখে জাহাঙ্গীর আলমের চাচাতো ভাই রাসেল ও নিকটম আত্মীয় শিশির খবর পেয়ে গত মঙ্গলবার ২৯ তারিখে রাত আটার সময় আতাউর রহমান আলহাজের বাড়িতে এসে তারা তাদের ভাইকে শনাক্ত করে নিয়ে যান।
জাহাঙ্গীর আলমের ভাই রাসেল আহমদ জানান, ২০১৮ সালে তার ভাই জাহাঙ্গীর আলম তার নিজ বাড়ি থেকে হারিয়ে যায়। পরে সে আর বাড়িতে আসেন নাই। এরপর থেকেই জাহাঙ্গীর আলম নিখোঁজ ছিলো। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পরিবারের সবাই ভেবে নিয়েছিল জাহাঙ্গীর আলম হয়তো মারা গেছে। এরই মধ্যে ফেসবুকে হারানো ভাইয়ের ছবি দেখে আমশড়াতে ছুটে আসেন তারা জাহাঙ্গীর আলমকে সেখানে অথ্যাৎ আমশড়া গ্রামে তার সন্ধানে অনুসারে ইউপি সদস্য আতাউর রহমান আলহাজের বাড়িতে দেখতে পান তারা। এতোদিন পরে ভাইকে খুঁজে পাওয়ায় তাই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তারা। এলকার সর্বস্তরের সবাইকে তাদের সাধারণ বাকপ্রতিবন্ধি ভাইয়ের বিদয় অনুষ্ঠানে উপস্থিতি সর্ব জনতার চোখে অশ্রু ও তাদের ভাইকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা ভাইয়ের মেয়েসহ পরিবারকে বিভিন্ন উপহার, তাছাড়া বাকপ্রতিবন্ধি ভাইয়ের প্রতি তাদের আদর ্সম্মান করা দেখে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্যব্যক্তিবর্গদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।
ইউপি সদস্য আতাউর রহমান আলহাজ বলেন, স্থানীয় সবার সম্মেলিত প্রচেষ্টায় হারানোর পাঁচ বছর পরে ফেসবুকের কল্যাণে জাহাঙ্গীর আলমকে তার আত্মায়ীজনসহ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। সাধারণ ইউপি সদস্য হিসেবে এমন একটি মহৎ কাজ করতে পেরে আমরা সবাই খুশি ও গর্বিত।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com