স্টাফ রিপোর্টারঃ সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সুফলভোগীদের সরকারী একটি পুকুর জাল কাগজ তৈরী করে নিজের দাবি করে জোড় পূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে কতিপয় প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে।
এর প্রতিকার চেয়ে মঙ্গলবার তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বটগাড়ী সপ্তমী পুকুর সুফলভোগী দলের সভাপতি বলরাম উরাওঁ।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বস্তুল বটগাড়ী সপ্তমী পুকুরটি নিমগাছী মৎস্য চাষ প্রকল্পের আওতায় সুফলভোগী সদস্যরা ২০১১ সাল থেকে লীজ নিয়ে চাষাবাদ করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি বটগাড়ী এলাকার প্রভাবশালী সাইফুল ইসলাম ও তার তিন ছেলে আমজাদ হোসেন, শামিম হোসেন, আমিরুল ইসলাম ও আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে রাঙ্গা জাল কাগজ তৈরী করে পুকুরটি নিজেদের মালিকানা দাবী করে তা দখলের চেষ্টা করেছেন।
সুফলভোগী অমল উরাওঁ, চিত্তরঞ্জন উরাওঁ, প্রদীপ উরাওঁ, রথন চরণ জানান, বর্তমানে লীজ নেয়া পুকুরে মাছের খাবার, ঔষধ ও পরিচর্যা করতে দিচ্ছে না। বরং প্রভাবশালীরা জোর পূর্বক পুকুরে থাকা সুফলভোগীদের চাষ করা প্রায় ৩ লাখ টাকা মাছ ধরে বিক্রি করেছেন। এ সময় আমরা বাধা দিলে প্রভাবশালীরা আমাদের উপর লাঠি সোঠা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মারার আক্রমণ করে। এছাড়াও বিভিন্ন ভাবে প্রাণনাশের হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন।
তাড়াশ উপজেলা ভ‚মি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সপ্তমীর পুকুরটি সরকারী সম্পত্তি। প্রভাবশালীরা জোর পূর্বক সুফলভোগীদের পুকুরটি দখলে বাধা দিচ্ছেন।
বটগাড়ী সপ্তমী পুকুর সুফলভোগী দলের সভাপতি বলরাম উরাওঁ জানান, আমরা গরিব মানুষ। অথচ আমাদের পুকুরটি বেদখল দেওয়ায় আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি।
অভিযুক্ত প্রভাবশালী সাইফুল ইসলাম ওই পুকুরটি পৈতৃক সম্পত্তি দাবী করে বলেন, ভ‚মি অফিসগুলো টাকা খেয়ে আমার বিপক্ষে প্রতিবেদন দিয়েছে। ওই রায় আমি মানি না। প্রয়োজনে লাশ পড়বে তবুও এ পুকুরে কাউকে আসতে দিবো না।
বারুহাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ময়নুল হক বলেন, সাইফুল ইসলাম গং কারো কথা মানে না। আমি যতটুকু জানি ওদের কাগজপত্র গুলো ঠিক নাই।
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুইচিং মং মারমা লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ওই পুকুরের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com