মো. জাকির হোসেন
‘‘ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি’’
এখন তাঁরা সাচ্ছন্দ্যভাবে সংসার পরিচালনা করছে। চলনবিলের নাটর সদর উপজেলার হালসা গ্রামের মোঃ চাঁন মিয়ার বয়স এখন ৫০ বছর। বিগত ১৫-১৬ বছর রিক্সা ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। অনাহারে ও অর্ধাহারে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দিন কাটাতেন। গত ৮ বছর পূর্বে পাবলিকের নিকট থেকে ঋণ নিয়ে বাড়ীর পাশেই দুই বিঘা পান বরজ লীজ নিয়ে স্ত্রী সন্তানাদি নিয়ে পান বরজ পরিচালনা করেন। প্রথম ৫ বছর মুনাফার মূখ দেখতে না পেলেও সংসার পরিচালনায় কোন বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়নি।
বিগত ২ বছরে পানের বাজার ভাল পাওয়ায় লাভের মূখ দেখা শুরু হয়। প্রতি বছর লাভের টাকা দিতে হয় পঞ্চাশ হাজার টাকা- খরচ যায় দেড়লক্ষ টাকা; আয় হয় ৪-৫ লক্ষ টাকা। এতে করে তাঁরা এখন স্বাবলম্বী।চলনবিলের অন্য একজন কৃষক-কামাল উদ্দিন। সে গুরুদাসপুর উপজেলার পাঁচ পুরুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। সুদির্ঘকাল ধরে পান বরজের দিন মুজুরী করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট পরিবার পরিচালনা করতেন। নীজের বসত ভিটা নেই। নদী পয়স্থী খাস জমির উপর টিনের ছাপরায় বসবাস করতেন। পরবর্তীতে গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ নিয়ে সিংড়া উপজেলার নলতা গ্রামে দুই বিঘা জমিতে পান চাষ করতে থাকেন। লীজ বাবদ ও আনুসঙ্গিক খরচ বাবদ টাকা লাগে বছরে দুই লক্ষ। পান বিক্রী হয় চার-সারে চার লক্ষ টাকা। এ মুনাফার টাকা দিয়ে ব্যাংকের ঋৃণ পরিশোধ করে ইটের দেয়াল ও টিনের ছাউনি দিয়ে প্রায় ৪০ হাতের মত দু খানা ঘর তৈরী ও ছোট ছেলেকে স্থানীয় বাজারে একটি মনোহারীর দোকান দিয়ে দেয়।
উভয় কৃষকের পান বরজ ঘুরে দেখা যায় ,ফসল বেশ ভাল হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা বলেন , প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ও পানের দাম থাকলে তাঁরা এবারও বেশ মোটা অংকের টাকা ঘরে তুলবেন।চাঁন মিয়ার জমির লীজের মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে। সামনে চৈত্র মাসে পাঁচ বছরের লীজের তিন বছর পূর্ণ হবে। বাঁকী দু বছরে কেমন-আশা করেন জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন. পানের দাম থাকলে আগামী দু বছরে ৭-৮ লক্ষ টাকার পান বিক্রী করতে পারলে ৩-৪ লক্ষ টাকা ঘরে উঠবে। কামাল মিয়ার পান বরজও ভাল হয়েছে। তিনি আশা ব্যক্ত করে বলেন, দু চার বছর পান চাষে সফলতা পেলে তাঁর সংসার এগিয়ে যাবে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com