তিনবন্ধু রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি চান

Spread the love

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি.
পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার প্রতিবাদ করায় নাটোরের গুরুদাসপুরে তিন বন্ধুকে দুই বছর ডিটেনশন ও ছয় মাস সশ্রম কারাদ- দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় তাদের পক্ষে কথা বলার কেউ ছিল না। মুজিব হত্যার ৪৫ বছর কেটে গেছে। ভাগ্যোন্নয়ন হয়নি তাদের। অভাবের তাড়নায় কষ্টে দিনাতিপাত করছে। অথচ মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি যারা তাদেরকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করেছে তারাই ভালো আছে।
ছাত্রলীগের ঘনিষ্ঠ এ তিনবন্ধু প্রবীর কুমার বর্মণ, নির্মল কর্মকার ও অশোক কুমার পালকে ১৯৭৫ সালে ‘রক্তের বদলে রক্ত চাই, মুজিব হত্যার বিচার চাই’ শ্লোগানে পোস্টারিং ও লিফলেট বিতরণ করার অপরাধে আটক করে নির্মমভাবে অত্যাচার করা হয়েছিল। টানা ২৯ মাস কারাভোগের পর ১৯৭৭ সালে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
সে সময় অন্যায়ভাবে আটক করে তাদের জীবনকে বিপন্ন করে দেওয়া হয়। জীবনের সোনালি সময়ে গড়তে দেওয়া হয়নি তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত। জেল থেকে মুক্তির পরও তারা ভয়ে ভয়ে থাকতেন। কখন জানি তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারে পরিবার পরিজন নিয়ে ওই তিন বন্ধুর বসবাস। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাদের জীবন চলছে সীমাহীন কষ্টের মধ্য দিয়ে।
মুজিবভক্ত প্রবীর বর্মণ বলেন, কষ্ট সয়ে দুই মেয়ে কৃপা ও তৃষাকে এমএ পাস করিয়েছি। তাদের চাকরি হয়নি। ছেলে প্রসেনজিৎ বিএ পড়ছে। স্ত্রী সন্ধ্যা অসুস্থ। প্রবীর থাকেন ছোট ভাইয়ের ইলেকট্রিক দোকানে। জীবনের পড়ন্ত বিকেলে সংসারের খরচ জোগাতে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন।
আরেক বন্ধু নির্মল কর্মকার বলেন, মেয়ে তাপসিকে এমএ পাস করালেও অর্থাভাবে দুই ছেলে তনয় ও শুভকে আইএ পাশের পর আর পড়াতে পারিনি। তারা একটি রঙের দোকান চালায়। তাও ঋণে জর্জরিত। স্বাচ্ছন্দে চলার পথতো পঁচাত্তরেই রুদ্ধ হয়ে গেছে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে অভাব অনটন বাড়ছে। দুঃখ করে বলেন-টানাপোড়েন জীবনে পরিবারের জন্য কিছু করতে পারিনি।অপর বন্ধু অশোক কুমার পাল বলেন, আমার সংসারের হাল শক্ত করে ধরতে পারিনি। গান শিখিয়ে যা মাইনে পাই তা দিয়েই সংসার চালাই। মেয়ে দুটির বিয়ে হয়ে গেছে। না পাওয়ার বেদনায় অন্তরে অসুখ থাকায় মনে শান্তি নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।ওই তিনবন্ধু জানান, ১৫ আগস্ট এলেই উপোস থাকেন তারা। আর বঙ্গবন্ধুর আত্মার শান্তি কামনায় স্রষ্টার দরবারে প্রার্থনা করেন। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তারপরও তাদের ভাগ্যোন্নয়ন হয়নি। তারা শুধু বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদকারী হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি চান।

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD