শামিউল হক শামীম :
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে অতি বিপন্ন প্রজাতির দল ছুট মুখ পোড়া একটি হনুমান পক্ষকাল ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। হনুমানটি কে এক নজর দেখতে উৎসুক জনতা ভীড় করছেন। খাবার দিলে হনুমানটি মাটিতে নেমে আসে, আবার জনতার ভীড় দেখলে এক গাছ থেকে আরেক গাছে, এক ছাদ থেকে আরেক ছাদে ছুটে বেড়ায়। বুধবার হনুমানটি কে রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে দেখা গেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে হনুমানটি কে বিরক্ত না করার জন্য বলা হয়েছে। মুখপোড়া হনুমান (খধহমঁৎ) প্রাইমেট (চৎরসধঃবং) বর্গের অন্তর্গত লম্বা লেজযুক্ত বানর। মুখপোড়া হনুমানের বৈজ্ঞানিক নাম ঝবসহড়ঢ়রঃযবংপঁং বহঃবষষঁং। একে উত্তুরে হনুমান, সাধারণ হনুমান,ধূসর হনুমান, মুখপোড়া হনুমান ইত্যাদি নামেও ডাকা হয়।এদের দেহের রঙ ফ্যাকাশে কমলা এবং নিচের দিকে কিছুটা হালকা। মাটিতে থাকা অবস্থায় এরা সাধারণত লেজ বাঁকিয়ে শরীরের উপর দিকে রাখে। প্রাপ্ত বয়স্কদের ভ্র,র পিছনে ললাটের উপর চুল বিদ্যমান। মাথার দৈঘ্য ৫১ থেকে ১০৮ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। এবং লেজ ৭২-১১৯ সেন্টিমিটার লম্বা হয়।
পুরুষ ও স্ত্রী হনুমানের ওজন যথাক্রমে ৯-২১ কেজি ও ৮- ১৮ কেজি হয়ে থাকে। প্রতিটি দলে ৮ থেকে ২৫ টি সদস্য দেখা যায়।উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, বাংলাদেশে এরা অতি বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।দলছুট হনুমান প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে, রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পরিদর্শক মোঃ জাহাঙ্গীর কবির বলেন, এসব হনুৃমান প্রাকৃতিক সম্পদ। নির্বিচারে বন ধ্বংসের কারণে খাদ্য ও আবাসিক সংকট, নিরাপত্তাহীনতা ও মাবব বসতির কারণে এরা পথভ্রষ্ট হয়ে লোকালয়ে চলে আসে।এদের প্রধান খাদ্য গাছের কছি পাতা। এরা ফল খেয়ে বীজের বিস্তার করে থাকে। যা থেকে বন তৈরি হয়।উৎসুক জনতার কাছে তার পরামর্শ, হনুমানটিকে খাদ্য নয় বরং সহনশীল আচরণ করুন। খাদ্য দিলে সে তার আচরণ পরিবর্তন করবে। বিরক্ত না করলে সেও মানুষ কে আক্রমণ করবে না। এবং স্বাভাবিক ভাবেই সে একদিন তার দলের কাছে ফিরে যাবে।
Weekly Chalonbeel Barta chalonbeelbarta.com