তাড়াশ প্রতিনিধি: খোলা বাজারে ধান ও চালের দাম বেশি হওয়ায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সরকারি খাদ্য গুদামে অভ্যান্তরীণ ধান চাল সংগ্রহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করেও কৃষকদের কাঙ্খিত সাড়া মিলছেনা। উপজেলা খাদ্য গুদাম সূত্র জানিয়েছে এক সপ্তাহে মাত্র এক টন ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।
তাড়াশ উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ধান চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এরমধ্যে ধান ৪ হাজার ১শ ৮২ মেট্রিক টন ধান ও ১ হাজার ৬৬১ মেট্রিক টন চাল রয়েছে। সরকারিভাবে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ধান প্রতি কেজি ২৬ টাকা এবং চাল প্রতি কেজি ৩৬ টাকা। কিন্তু খোলা বাজারে এর চেয়ে বেশি দামে ধান ও চাল বিক্রি হওয়ায় খাদ্য গুদামে সরকারিভাবে সংগ্রহ অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গত রোববার উপজেলার বিনসাড়া, সোমবার রাণীহাট, বৃহস্পতিবার নওগাঁহাট বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মোটা ধান বিক্রি হচ্ছে ২৭ থেকে ২৮ টাকা কেজি দরে। আর মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৭ থেকে ৩৯ টাকা কেজি দরে। বিনসাড়া বাজারে ধানের মহাজন আবু তালহা সরকার বলেন, বোরো মৌসুম প্রায় শেষ। বেশিরভাগ ধান কৃষকের ঘরে এসেছে। মোকামে ধান ও চালের দর প্রতি দিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। যারফলে কৃষক খোলা বাজারে কাঙ্খিত দাম পেয়ে খাদ্য গুদামে সরকারি ভাবে বিক্রি করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
চৌড়া গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান, এমনিতে সরকারি খাদ্য গুদামে ধান দিতে নানা ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হয়। খোলা বাজারে ধানের দাম কম হলেতো অনেক কৃষক সেখানে ভিড়তেই পারে না। কিন্তু এ বছরের চিত্রটা ভিন্ন। সরকারের বেধে দেয়া দামের চেয়েও খোলা বাজারে কৃষক বেশি দামে ধান বিক্রি করতে পারছে। সে কারণে খাদ্য গুদামে ধান দিতে কৃষক আগ্রহী নয়। একই অভিমত জানালেন, তাড়াশ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো: রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে লটারির মাধ্যমে ধান সংগ্রহের জন্য মাইকিং করেও কাঙ্খিত সারা মিলছেনা। খোলা বাজারে ধানের ধাম বেশি হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আর চাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে মিলারদেরও কাঙ্খিত সাড়া মিলছে না। তবে মৌসুমের যেহেতু প্রথম পর্যায়। নাবি জাতের ব্রিধান-২৮ ও ব্রিধান-২৯ বাজারে আসতে শুরু করলে, শেষ পর্যন্ত টার্গেট পূরণ করা সম্ভব হতে পারে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com