চলনবিলে বেড়েছে ভুট্রা চাষ

Spread the love

ফারুক আহমেদঃ চলনবিলস্থ সলঙ্গায় ধান চাষে অব্যাহত লোকসান, বছরব্যাপী ভূট্রার চাষাবাদ এবং নতুন নতুন চর ভুট্রা চাষের আওতায় আসায় সলঙ্গায়  উল্লেখযোগ্য হারে ভুট্রাচাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। ফলে লাভজনক ভুট্রার চাষে কৃষকরা বেশি ঝুঁকেছে। ওদিকে তাড়াশ  উপজেলা সূত্রে জানা গেছে, গত বছর তাড়াশে ৭ হাজার ১ হেক্টর জমিতে ভুট্রা চাষ হলেও এবার তা বেড়ে ৮ হাজার ৫শত হেক্টর দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া রায়গঞ্জের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হাই জানান, রায়গঞ্জ উপজেলাতেও গত বছরের তুলনায় এ বছর ভুট্রা চাষ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সলঙ্গায় ভুট্রা চাষে কৃষকের আগ্রহের কারণ বিষয়ে জানতে চাইলে তাড়াশ কৃষি কর্মকর্তা লুনা খাতুন জানান, বার বার প্রতি বছর ধান চাষে লোকসান এবং সারা বছর একই জমিতে বার বার ভুট্রার চাষাবাদ হওয়ায় কারণে ভুট্রা চাষ বেশি হচ্ছে। তাছাড়া কোনো কোনো এলাকা চর অঞ্চলে হওয়ায় প্রতিবছর বন্যায় নতুন নতুন চর সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে চরগুলো ভুট্রা চাষের আওতায় আনা হয়। এ কারণেও ভুট্রার আবাদ বেড়েছে।
তাড়াশ ঝুরঝুরি গ্রামের ভুট্রাচাষি আব্দুল মান্নান ও তার ভাই আনোয়ার হোসেন  জানান, ভুট্রা চাষে ধান চাষের চেয়ে খরচ কম, তবে উৎপাদন বেশি। তাই ধান চাষে না করে ভুট্রা চাষ করছি। রায়গঞ্জ উপজেলার ধুবিলের ইউনিয়নের কৃষক ফারুক আহমেদ জানান,আগে ৫ বিঘা জমিতে ইরিবোরো চাষাবাদ করেছি। এখন পরিবারের বছরের খরচের জন্য মাত্র ২ বিঘা জমিতে বোরো চাষাবাদের জন্য রেখেছি। বাদবাকি জমিতে ভুট্রাসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি চাষ আবাদ করছি। চরের চাষিরা এভাবেই ইরিবোরো চাষাবাদ দিয়ে লাভজনক ভুট্রাসহ বিভিন্ন চাষ আবাদে আগ্রহী হয়েছে। অপরদিকে জেলার তিনটি উপজেলায় যে সমস্ত জমিতে ভুট্রা চাষ হয় না সেই জমি থেকে দেদারছে ইটভাটায় জমির মাটি বিক্রি করছে অথবা পুকুর খনন করে মাছ চাষ করে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  বলেন, কৃষকদের জমি থেকে মাটি বিক্রির বিষয়টি অবগত করলে তিনি জানান, জমির শ্রেণী পরির্বতন করে মাটি বিক্রি অথবা পুকুর খনন করা বৈধ নয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD