গুরুদাসপুর প্রতিনিধি: নাটোরের গুরুদাসপুরে ত্রাণ বিতরণ নিয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া এবং বাড়িঘর ভাংচুর ও গোলাগুলির ঘটনায় ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে চেয়ারম্যানের গাড়ি চালক মতিন মিয়াকে (৩৬) নাটোর জেল হাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে উপজেলার ৫নং ধারাবারিষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন ও ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি বজলু সরদারের সাথে বিন্যাবাড়ি বাজারে ত্রাণ বিতরণকে ইস্যু করে বাকবিতন্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। এতে আব্দুল মতিন চেয়ারম্যান লাঞ্চিত হন। এ ঘটনার পরপরই চেয়ারম্যান গ্রুপ ও বজলু গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় বজলুর বাড়িতে হামলা চালিয়ে টিনের চালা ও দরজা ভেঙ্গে দেওয়া হয় এবং কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করা হয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে ওঠে বিন্যাবাড়ি জনপদ।
স্থানীয়রা আরো জানান- বেশ কয়েকদিন আগে সরকারি ত্রাণ বিতরণ নিয়ে একই ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি বজলু সরদার চেয়ারম্যান আব্দুল মতিনকে ফেসবুকে কটূক্তি করেন। বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যান ও বজলু পক্ষের মধ্যে রেষারেষি চলছিল।ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করে। এসময় চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন ও তার গাড়ি চালক মতিনসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করে থানায় আনা হলেও রাত ৮টার দিকে চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়।
চেয়ারম্যান আব্দুল মতিনের পক্ষে তার ভাতিজা মিল্টন জানান-সরকারি ত্রাণ তালিকার বাহিরে চেয়ারম্য্যানের কাছে অতিরিক্ত ত্রাণ দাবি করেন বজলু। কিন্তু ওই অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিভিন্নভাবে কুৎসা রটাতে থাকেন বজলু। সবশেষ ঘটনার দিন চেয়ারম্যান বিন্যাবাড়ি বাজারে গেলে বজলু তার লোকবল নিয়ে চেয়ারম্যানের ওপর হামলা চালিয়ে শারিরিকভাবে লাঞ্চিত করেন।বজলু সরদার বলেন- ত্রাণ বিতরণের বিষয় নিয়ে চেয়ারম্যান মতিন ও তার চালকের সাথে বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় চেয়ারম্যানের লোকজন পিস্তলসহ হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাংচুর-লুটপাট করে। তবে তিনি চেয়াম্যানকে ত্রাণ নিয়ে কোন অনৈতিক প্রস্তাব দেননি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গুরুদাসপুর থানার ওসি মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় বজলু সরদারের পিতা ইসমাইল সরদার থানায় বাদী হয়ে ২৫ জনসহ অজ্ঞাত ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। এরমধ্যে মতিন চেয়ারম্যানের ছেলে সোহান ও তার ভাই সদুকে প্রধান আসামী করা হয়েছে।নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা কঠোরভাবে বলেন- বিন্যাবাড়ি এলাকায় পুলিশি টহল অব্যাহত আছে। মামলার প্রেক্ষিতে আসামীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com