শাহজাজাহান আলী : যে হারে করোনার প্রকোপ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে সে হারে মানুষ সর্তক হচ্ছে না। নিজে সর্তক না হলে পুলিশ কিছুই করতে পারবে না। পুলিশের উপর নির্ভর করে সামাজিক দুরত্ব কদিন ঠিক রাখা যাবে ? তাড়াশে অন্য জেলা থেকে যেভাবে লোক ঢুকে সমাগম ও গাদাগাদি লেগে থাকছে, আমার মনে হয় এক সপ্তাহের মধ্যে বড় বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে। বিপদ ঢুকে পড়লে তখন কেঁদে সর্তক হয়ে কোন লাভ হবে না। কাজেই জনগন যে ফুলে তুষ্ট জাতীর বৃহৎ স্বার্থে তাই প্রয়োগ করে হলেও দেশের মানুষকে রক্ষা করা দায়িত্বশীলদের জরুরী কর্তব্য। সিরাজগঞ্জের তাড়াশে করোনা সর্তকতায় প্রশাসনের জারিকৃত লকডাউন ভাঙ্গার প্রতিযোগিতা চলছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তাড়াশের নওগাঁ সাপ্তাহিক হাটের দিন ছিল মানুষের উপচেপড়া ভিড়। প্রতিদিন সকালে তাড়াশের নওগা ইউনিয়নের মহিষলুটি মাছের আড়তে হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে সরকারের নিয়ম নীতির কোন বালাই নাই এখানে। এলাকার সচেতন ব্যক্তিদের দাবি, নওগাঁ ইউনিয়ন পুরোটাই লকডাউন করা হোক। কেননা এখানে আছে বড় হাট ও ঐতিহাসিক মাজার মসজিদ। হযরত শাহ শরীফ জিন্দানী (রঃ) এর মাজারে মানুষের ভীড় লেগেই থাকে। এছাড়া মহিষলুটি মাছের আড়তে উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। তাড়াশের ৮ ইউনিয়নের মধ্যে কম বেশী আইন মানলেও নওগাঁ ইউনিয়নে করোনার সর্তকতা বিষয়ে কোন নিয়মই তারা মানছে না। মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম,সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বাচ্চু, অধ্যাপক আব্দুল হাকিম,খ.ম সাকলাইন,হামকুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি সালাউদ্দিন (বিএসসি),মাওলানা ফজলুল হক, অধ্যাপক মোখতার হোসেন,অধ্যাপক বেলাল হোসেনসহ সচেতন মহলের দাবি নওগাঁ ইউনিয়ন লকডাউনের আওতাভুক্ত করা দরকার। তা না হলে বিপদ এখন থেকেই তাড়াশে আসবে।করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু সিরাজগঞ্জের তাড়াশের মহিষলুটি মৎস্য আড়তে কেউই এ নির্দেশনা মানছেন না। প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু হয় এ মাছের আড়ত। যেখানে ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, পাবনা ও নাটোরসহ বিভিন্ন জেলার পাইকারা আসেন মাছ কেনা-বেচা করতে। এখান থেকে করোনা ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় নওগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মজনু তার ইচ্ছেমতো সবাইকে ম্যানেজ করে নিজের লাভের জন্য এই আড়ত পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয়রা কেউ কিছু বলতে গেলে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে থাকেন তিনি। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারা মহিষলুটি মৎস্য আড়তে মাছ কেনা-বেচার জন্য আসেন। আড়াতের মধ্যে নেই কোনো হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, অন্য জেলা থেকে যারা আসেন তারা মাস্কও ব্যবহার করেন না। স্থানীয়রা আরো জানান, নওগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মৎস্য আড়ত কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান মজনুকে একাধিকবার বলেও কোনো লাভ হয়নি। পরে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। নির্বাহী কর্মকর্তা আড়ত কমিটির সভাপতি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মজনুকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আড়ত পরিচালনার নির্দেশ দিলেও সেই নির্দেশ অমান্য করে নিজের ইচ্ছেমতো জনসমাগম করে আড়ত পরিচালনা করে আসছেন মজনু। এ বিষয়ে মিজানুর রহমান মজনু বলেন, মহিষলুটি মৎস্য আড়তে আমি হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেছি। শুধু তাই নয় দূর দূরন্ত থেকে আসা পাইকারদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশও দিয়েছি। আড়তে সবাই দূরত্ব বজায় রেখেই মাছ কেনা-বেচা করছে।
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফ্ফাত জাহান বলেন, মাছের আড়ত চলবে, তবে খুব কম সময় পর্যন্ত। আমরা স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যেন স্বল্প পরিসরে লোক সমাগম না করে মাছ কেনা-বেচা করেন। যদি সে নির্দেশ কেউ না মানে তাহলে আড়ত বন্ধ করে দেয়া হবে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com