ভ্রাম্যমান প্রতিনিধিঃ গত সোমবার সকাল প্রায় ৮ টার সময় সলঙ্গা থানার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে চৈত্রহাটি গ্রামে মোকাদ্দমা নিস্পত্তি কালতক নালিশী সম্পত্তিতে পক্ষগণকে স্থিতিবস্থা বজায় রাখার লিজকৃত মালিককে আদেশ দেওয়া লিজকৃত সরকারি সম্পত্তির পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে আদিবাসি হিন্দু সন্ত্রাসীদের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে কোরবান আলী নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এসময় অন্য ১০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৮ জনকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে কয়েক জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরলেও বাকি ৫ জন এখনো ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। বাকি ২ জন স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনার সন্দেহে বাদিপক্ষের ২জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহত কোরবান আলী (৪০) চৈত্রহাটি গ্রামের ছোরমান আলীর ছেলে।আহতরা হলেন চৈত্রহাটি গ্রামের দেলবার, খোরশেদ, আমিরুল,হাসান, সবুজ, চায়না খাতুন আবুল হোসেন। লিজ মালিক দেলবার হোসেন বলেন, আমিসহ আমার লোকজন নিয়ে চৈত্রহাটি শ্রী শ্রী জগদিশ^রী মাতা মন্দিরে খাস হয়ে যাওয়া তফসিলকৃত সরকারি পুকুর মৌজা – চৈত্রহাটি, জে, এল নং – ০৭, খং নং – ১৪৭, দাগ নং – ১২৯, পুকুরের পরিমান ১.৮৩ শতক, দাগ নং – ১৭৫, পুকুরের পরিমান ১.৮৯ শতক, দাগ নং- ১৬৮, পুকুরের পরিমাণ ৮৬ শতক । আমার লিজকৃত ও দাবিকৃত পুকুরে মাছ ধরতে গেলে স্থানীয় প্রভাশালীদের উসকানিতে হিন্দু আদিবাসিরা দলবলসহ দেশী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমিসহ আমার লোকজনের বুঝে উঠার আগেই হিন্দু আদিবাসিরা আমাদের উপর অতর্কিত আক্রমন করলে কোরবান আলীর মাথা ফেটে দুই ভাগ হলে তাকে মূমুর্ষূ অবস্থায় সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল ও পরে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেলে চিকিৎসা অবস্থায় মারা যান বলে তিনি জানান। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, আমি ১৯৬৫ইং সাল থেকে নিম্ন তফসিলকৃত ভুমি ও পুকুর লিজ গ্রহণ করে দীর্ঘদিন যাবত হাল চাষসহ তফসিলকৃত পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে আসছি। স্থানীয় প্রভাবশালীদের উস্কাকানির কারণে বিবাদীরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে লিজ ও তফসিলকৃত জমি ও পুকুর জবর দখলের হুমকি দিলে এ বিষয়ে আমি ৩১/০১/২০২০ইং তারিখে সলঙ্গা থানায় বাংলাদেশ দন্ড বিধি আইনে ১৫৪ ধারায় জিডি করি। জিডি নং ১৫৮১। ফলে প্রতিহিংসামূলকভাবে বিবাদিরা ক্ষিপ্ত হয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি আরো জানান, এই বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা জজ ১ আদালতে আমার মামলা চলছে মামলা নং ২৮৩ ও ৮১ উল্লাপাড়া ৬৫/৬৬ । আমি সরকারের কাছে এই হত্যার সুষ্ঠু ও সঠিক বিচার চাই। এছাড়া গত ১৮-০২- ২০ইং তারিখে ভোর রাত্রিতে অনুমান ০৬.৩০ মিনিটের সময় বিবাদীগণ সহ অজ্ঞাতনামা বিবাদী আরো ৭/৮ জন মাছ ধরার জাল দিয়ে দেশী অস্ত্র – শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমার লিজকৃত ও তফসিলকৃত পুকুর পাড়ে অনধিকার প্রবেশ করে বাদাই জাল দিয়ে একের পর এক ০৩টি পুকুর থেকে বিভিন্ন প্রজাতির পোনা মাছ অনুমান ০৯ মন যার বাজার মূল্য প্রায় ৭২,০০০ হাজার টাকা। বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ মেরেছে প্রায় ১০০ মণ যার বাজার মূল্য ৮,০০,০০০ টাকার মত। এতে বাধা দিলে আমিসহ আমার ছেলেদের মেরে লাশ গুম করার কথা বলে প্রায়ই সাসাতো । নিহতের পরিবার কোরবান আলীর স্ত্রী পিনজিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার স্বামী হত্যার মামলা থানায় করার পর আজ কয়েক দিন পার হয়ে গেলেও প্রভাবশালীতের কারণে রেকর্ড না হওয়ায় আমি হতাশা বোধ করছি। এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত থানায় এই মামলার রেকর্ড হয়নি।নিহত কোরবান আলীর স্ত্রী পিনজিরা আরো জানান, আমি আমার স্বামী হত্যার ন্যায় বিচার পাওয়ার ব্যাপারে সন্দিহান। প্রভাশালীরা আদিবাসিদের টাকা খেয়ে তাদের পক্ষে যাওয়াতে তিনি স্বামী হত্যার ন্যায় বিচার নিয়ে শংকায় ভুগছেন। তিনি আরো বলেন,স্বামীই ছিল সংসারের এক মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এখন আমি আমার ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের কি খাওয়াবো। তাদের নিয়ে কোথায় যাবো। কোনো আসামি ধরা পরেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সলঙ্গা থানায় মামলা হয়েছে আজ কয়েক দিন পাড় হয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেফতার করেনি থানা পুলিশ। বরং আসামি পক্ষ উল্টা আমাদের উপর মামলা করেছে। আসামিরা এখনো চোখের উপর ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর তারা আমাদের পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, গত সোমবার ঘটনার দিন আমার ফুফা শশুরের লিজ কাটা পুকুরে দৈনিকের ন্যায় ঐদিনও মাছের ভাড়া নিয়ে যাওয়ার জন্য নছিম নিয়ে পুকুর পাড়ে মাছ বাজার নেওয়ার উদ্দেশ্যই গেলে তাপস, আকাশ, দশরত, পরিতস, জিতেন,পরিমল, নরেন, কমলেস, স্বদিব, ওয়াসিম, নিরঞ্জন, সুদর্শন মুরারী,মাদক, পবিত্র, বলরাম, আশিনের গ্যাংয়েরেরা দেশী অস্ত্রশস্ত্র দা, হাসিয়া, চায়নিজ কুরাল নিয়ে তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, থানা পুলিশ ঘটনার দিন আসল আসামী আটক না করে সংঘর্ষে জড়িত সন্দেহে বাদী পক্ষের নিরীহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। আজো তাদের ছেড়ে দেয়া হয় নি।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com