বেড়া ইউপি চেয়ারম্যান আটকে তোলপাড়

Spread the love

শাহজাহান আলী : একদা চরমপন্থী অধ্যুষিত বেড়া উপজেলার ঢালারচর ইউনিয়নের ২৫ বছরের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি কোরবান আলী সর্দার দলীয় বিরোধে ও আইনের মারপ্যাঁচে ত্রাণের চাল আত্মসাতের দায়ে ফেঁসে গেলেন। গত ১৩ এপ্রিল সোমবার রাতে র‌্যাব তার গোডাউন থেকে ২২৯ বস্তা চালসহ তাকে আটক করে।এদিকে ত্রাণের চাল নিয়ে কোরবান আলী চেয়ারম্যান আটকের ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় সৃৃুষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র আব্দুল বাতেনকে কোরবান আলী চেয়ারম্যানকে ছেড়ে দিতে প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সোমবার বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ সকল পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগ কোরবান আলীকেও আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কার করেছে। যদিও ঢালারচর ইউনিয়নবাসী ত্রাণের চাল আত্মসাতের দায়ে চেয়ারম্যানকে গ্রেফতারের ঘটনা কিছুতেই মানতে পারছেন না।অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোরবান আলী সর্বহারাদের টার্গেটের কারণে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ঢালারচর ইউনিয়ন পরিষদে যান না। তিনি দীর্ঘকাল ধরে পাশের ইউনিয়ন রূপপুরের বাঁধের হাটে অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। সোমবার ২২৯ বস্তা ত্রাণের চাল তার বাঁধেরহাটের কার্যালয়ের নিজস্ব গোডাউনে রাখেন। পাবনা – ২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির বুধবার এ চাল বিতরণ করার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এদিকে তার প্রতিপক্ষ র‌্যাবকে খবর দিয়ে ওই রাতেই তার গোডাউন থেকে এ চালসহ তাকে আটক করে আমিনপুর থানায় সোপর্দ করে। তিনি ঢালারচর ইউনিয়নে চাল না নিয়ে কেন পাশের ইউনিয়নের নিজ গোডাউনে রাখলেন এ কারণে তাকে আটক করা হয়। যদিও তার ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দলীয় বিরোধের কারণে কোরবান চেয়ারম্যানকে ষড়যন্ত্রমূলক আটক করা হয়েছে বলে মনে করছেন। জানা গেছে, সর্বহারার হুমকিতে ৩ যুগ ধরে কোন চেয়ারম্যানই ঢালার চরে ইউনিয়ন কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করেন না। বিএনপি আমলে টিপু চেয়ারম্যান বেড়া পৌর এলাকায় কার্যালয় স্থাপন করে কাজ চালাতেন। ৯৬ সালে কোরবান আলী চেয়ারম্যানকে সর্বহারারা ঢালারচরে তার জমিজমা আবাদ না করাসহ তাকে এলাকায় ঢুকতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সে থেকে তিনি পাশের ইউনিয়ন রূপপুরের বাঁধেরহাটে অস্থায়ী কার্যালয় করে আজ পর্যন্ত কাজ চালাচ্ছেন। যেটা স্থানীয় প্রশাসনসহ সবাই তা জানেন বলে জানা গেছে।এদিকে সাবেক এমপি আজিজুর রহমান আরজুর সাথে তার বিরোধের জেরে গত ইউপি নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নাছির ব্যাপারীকে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী করা হয়। কোরবান চেয়ারম্যানকে সায়েস্তা করতে দীর্ঘ ১৫ বছর অন্তরীণ চরমপন্থি নেতা জুলহাসকে ঢালারচরে প্রকাশ্যে নিয়ে আসা হয়। গত বছর ক্রসফায়ারে জুলহাস নিহত হয়। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী কোরবান আলীর নির্বাচনী ক্যাম্পে গুলি বোমা হামলা করে ৭টি মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয়াসহ একজনকে হত্যা করা হয়। তিনি বিপুল ভোটে জিতলে ও বাঁধের হাট অফিস থেকেই চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ত্রাণের চাল এ কার্যালয়ে রাখার লিখিত অনুমতি না নেয়ার সুযোগে প্রতিপক্ষরা র‌্যাবকে খবর দিলে তাকে আটক করা হয় আটককৃত কোরবান চেয়ারম্যানকে মঙ্গলবার পাবনা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে জামিন না দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয় এবং ২৪ ঘন্টার মধ্যে আমিনপুর থানাকে এ ব্যাপারে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়। এদিন পাবনা- ২ আসনের এমপি আহম্মদ ফিরোজ কবির ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কোরবান আলীকে আটকের দাবি করে তিনি ও আদালতে তার জামিনের জন্য আসেন। এলাকার সাধারণ মানুষ বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন।এদিকে বুধবার বেড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মো: আব্দুল কাদের এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আনাম সিদ্দিকী যৌথ স্বাক্ষরে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখেছেন মো: কোরবান আলী এই মেয়াদ দিয়ে মোট চারবার ঢালারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। ইতোপূর্বে সর্বহারা ও নকশালের অত্যাচারে তিনি ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য ঢলারচর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ভবনের পরিবর্তে বাঁধেরহাটে অস্থায়ী কার্যালয় পরিচালনা করে আসছেন।

তাড়াশে কুলি শ্রমিকদের মানবেতর জীবন
লুৎফর রহমান : নভেল করোনাভাইরাস ঠেকাতে সাধারণ ছুটি চলছে দেশে। অফিস আদালত ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ। কুলি শ্রমিকরাও কর্মহীন। উপজেলা প্রশাসনকে ত্রাণ সরবরাহের নির্দেশ দেয়া হলেও সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করছেন তাড়াশ উপজেলা কুলি শ্রমিক ইউনিয়ন। কুলি শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, ত্রাণ না পাওয়ায় জীবিকার তাগিদে অনেকেই অভাবঅনটনের মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন।
অপরদিকে, করোনা ভাইরাস সংক্রমন থেকে বাঁচতে উপজেলা প্রশাসন সব দোকানপাট বন্ধ ঘোষণা করেছে। সাপ্তাহিক হাট ও পশুর হাটও বন্ধ করে দিয়েছে। সংক্রমণ এড়াতে সড়কে যান চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে বিপাকে পড়ে যায় উপজেলার নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। দিন এনে দিন খাওয়া ওই শ্রেণির মানুষেরা চরম দুর্ভোগে রয়েছে। দিন দিন তাদের দুর্ভোগ ও সংকটের পাল্লা ভারী হচ্ছে। জরুরিভাবে তাদের মধ্যে ত্রাণ পৌঁছানো না গেলে কঠিন পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।বেড়া ইউপি চেয়ারম্যান আটকে তোলপাড়শাহজাহান আলী ঃ একদা চরমপন্থী অধ্যুষিত বেড়া উপজেলার ঢালারচর ইউনিয়নের ২৫ বছরের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি কোরবান আলী সর্দার দলীয় বিরোধে ও আইনের মারপ্যাঁচে ত্রাণের চাল আত্মসাতের দায়ে ফেঁসে গেলেন। গত ১৩ এপ্রিল সোমবার রাতে র‌্যাব তার গোডাউন থেকে ২২৯ বস্তা চালসহ তাকে আটক করে।এদিকে ত্রাণের চাল নিয়ে কোরবান আলী চেয়ারম্যান আটকের ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় সৃৃুষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র আব্দুল বাতেনকে কোরবান আলী চেয়ারম্যানকে ছেড়ে দিতে প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সোমবার বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ সকল পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগ কোরবান আলীকেও আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কার করেছে। যদিও ঢালারচর ইউনিয়নবাসী ত্রাণের চাল আত্মসাতের দায়ে চেয়ারম্যানকে গ্রেফতারের ঘটনা কিছুতেই মানতে পারছেন না।অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোরবান আলী সর্বহারাদের টার্গেটের কারণে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ঢালারচর ইউনিয়ন পরিষদে যান না। তিনি দীর্ঘকাল ধরে পাশের ইউনিয়ন রূপপুরের বাঁধের হাটে অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। সোমবার ২২৯ বস্তা ত্রাণের চাল তার বাঁধেরহাটের কার্যালয়ের নিজস্ব গোডাউনে রাখেন। পাবনা – ২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির বুধবার এ চাল বিতরণ করার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এদিকে তার প্রতিপক্ষ র‌্যাবকে খবর দিয়ে ওই রাতেই তার গোডাউন থেকে এ চালসহ তাকে আটক করে আমিনপুর থানায় সোপর্দ করে। তিনি ঢালারচর ইউনিয়নে চাল না নিয়ে কেন পাশের ইউনিয়নের নিজ গোডাউনে রাখলেন এ কারণে তাকে আটক করা হয়। যদিও তার ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দলীয় বিরোধের কারণে কোরবান চেয়ারম্যানকে ষড়যন্ত্রমূলক আটক করা হয়েছে বলে মনে করছেন। জানা গেছে, সর্বহারার হুমকিতে ৩ যুগ ধরে কোন চেয়ারম্যানই ঢালার চরে ইউনিয়ন কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করেন না। বিএনপি আমলে টিপু চেয়ারম্যান বেড়া পৌর এলাকায় কার্যালয় স্থাপন করে কাজ চালাতেন। ৯৬ সালে কোরবান আলী চেয়ারম্যানকে সর্বহারারা ঢালারচরে তার জমিজমা আবাদ না করাসহ তাকে এলাকায় ঢুকতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সে থেকে তিনি পাশের ইউনিয়ন রূপপুরের বাঁধেরহাটে অস্থায়ী কার্যালয় করে আজ পর্যন্ত কাজ চালাচ্ছেন। যেটা স্থানীয় প্রশাসনসহ সবাই তা জানেন বলে জানা গেছে।এদিকে সাবেক এমপি আজিজুর রহমান আরজুর সাথে তার বিরোধের জেরে গত ইউপি নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নাছির ব্যাপারীকে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী করা হয়। কোরবান চেয়ারম্যানকে সায়েস্তা করতে দীর্ঘ ১৫ বছর অন্তরীণ চরমপন্থি নেতা জুলহাসকে ঢালারচরে প্রকাশ্যে নিয়ে আসা হয়। গত বছর ক্রসফায়ারে জুলহাস নিহত হয়। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী কোরবান আলীর নির্বাচনী ক্যাম্পে গুলি বোমা হামলা করে ৭টি মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয়াসহ একজনকে হত্যা করা হয়। তিনি বিপুল ভোটে জিতলে ও বাঁধের হাট অফিস থেকেই চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ত্রাণের চাল এ কার্যালয়ে রাখার লিখিত অনুমতি না নেয়ার সুযোগে প্রতিপক্ষরা র‌্যাবকে খবর দিলে তাকে আটক করা হয় আটককৃত কোরবান চেয়ারম্যানকে মঙ্গলবার পাবনা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে জামিন না দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয় এবং ২৪ ঘন্টার মধ্যে আমিনপুর থানাকে এ ব্যাপারে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়। এদিন পাবনা- ২ আসনের এমপি আহম্মদ ফিরোজ কবির ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কোরবান আলীকে আটকের দাবি করে তিনি ও আদালতে তার জামিনের জন্য আসেন। এলাকার সাধারণ মানুষ বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন।এদিকে বুধবার বেড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মো: আব্দুল কাদের এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আনাম সিদ্দিকী যৌথ স্বাক্ষরে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখেছেন মো: কোরবান আলী এই মেয়াদ দিয়ে মোট চারবার ঢালারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। ইতোপূর্বে সর্বহারা ও নকশালের অত্যাচারে তিনি ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য ঢলারচর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ভবনের পরিবর্তে বাঁধেরহাটে অস্থায়ী কার্যালয় পরিচালনা করে আসছেন।

 

 

 

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD