সাব্বির আহম্মেদ ঃ সিরাজগঞ্জের তাড়াশে শিশুদের আনন্দ বিনোদনের জন্য নির্মিত একমাত্র শিশু পার্কটি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করলেন তাড়াশ ইউএনও ইফ্ফাত জাহান । তার পদক্ষেপে দীর্ঘ ৬ বছর পর পার্কটি শিশুদের পদচারণায় আবারও মুখরিত হয়ে উঠছে। জৌলুষ হারানো তাড়াশ শিশু পার্ক আবার ফিরে পেতে যাচ্ছে নতুন জীবন, নতুন চেহারা।
সুত্র মতে, প্রায় ৬ বছর পুর্বে পৌর শহরের ভাদাশ গ্রামের হাঁস-মুরগীর খামার নামক স্থানে পুকুর পাড়ে ৪ একর জায়গা নিয়ে শিশু পার্কটি গড়ে তোলেন তৎকালীন তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ রায়হান কবির ও তাড়াশ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হক। মরহুম সাংসদ ইসহাক হোসেন তালুকদার ২০১৪ সালে ২৯ জুলাই শিশুপার্কটি উদ্বোধন করেন।
কিন্ত উদ্বোধনের পর থেকেই সঠিক পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার উদ্যোগের অভাবে ধ্বংসের মুখে পড়ে শিশুপার্কটি। প্যাডেল চালিত আনন্দ তরী, নাগরদোলা, স্লীপবোর্ড , দোলনা , ব্যালেন্স বোর্ড ইত্যাদি বিনোদন উপকরণগুলো এক পর্যায়ে নষ্ট হয়ে যায়। শিশুপার্কটি পরিণত হয় প্রাণ চাঞ্চল্যহীন পরিত্যক্ত পার্কে। অনেকেই ভেবেছিলেন, অন্যান্য সরকারী স্থাপনার মতই এটাও বিবর্ণ আর বিলীন হয়ে যাবে।তবে আশার কথা, সম্প্রতি তাড়াশ ইউএনও ও পৌরসভার পৌর প্রশাসক ইফ্ফাত জাহান শিশুপার্কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন।
তাড়াশ পৌরসভার সচিব আশরাফুল ইসলাম জানান, ইউএনও ও পৌর প্রশাসক ইফ্ফাত জাহানের নির্দেশনায় সরকারী অর্থায়নের ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে শিশুপার্কটিতে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে । তিনি আরো বলেন, পার্কটি সৌন্দর্যমন্ডিত করতে টিআর বা অন্য কোন ফান্ড থেকে অর্থ সংগ্রহ করে আরো সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন ইউএনও স্যার।
ইতিমধ্যে শিশুপার্কটির কয়েক শত বিভিন্ন প্রজাতির গাছের গোড়ালীতে সাদা ও লাল রং দিয়ে দৃষ্টি নন্দন করা হয়েছে। শিশুদের বিনোদনের জন্য পুরাতন উপকরণগুলো সংস্কার করা হয়েছে। নতুন আকর্ষণ হিসেবে আনা হয়েছে কাল্পনিক রুপোর কাঠি হাতে পরীর প্রতিকৃতি। আরো আনা হয়েছে সিংহ , বাঘ, হরিণ , জেব্রা, ও জিরাপের প্রতিকৃতি। স্থাপন করা হচ্ছে দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য একাধিক কৃত্রিম ছাতা । এই বিনোদন উপকরণগুলোর আকর্ষণে প্রতিদিন শত শত শিশুর পদচারণায় আবারও মুখরিত হয়ে উঠতে শুরু করেছে শিশুপার্কটি।
শিশুদের নিয়ে পার্কে বেড়াতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা বিশিষ্ট লেখক সুজন কুমার মাল বলেন, শিশুতোষ মনের অধিকারী তাড়াশ ইউএনও ইফফাত জাহানের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তিনি ধ্বংসের দ্বাড়প্রান্তে চলে যাওয়া তাড়াশ শিশুপার্কটির সংস্কার সাধন করে শিশুদের বিনোদনের উপযোগী করছেন। তার এহেন উদ্যোগ প্রশংসনীয় বটে।
শিশুপার্ক প্রসঙ্গে তাড়াশ ইউএনও ইফ্ফাত জাহান জানান, শিশুদের আনন্দ বিনোদনের একমাত্র পার্কটি নষ্ট হয়ে যাবে তা হতে পারেনা। তাই শিশুদের কথা ভেবেই পার্কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পার্কটির সৌন্দর্য রক্ষায় সকলের সহযোগীতা কামনা করছি। ওদিকে পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, এই পার্কটিকে একটা স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার আওতায় আনা দরকার ; যাতে এটা স্থানীয় মানুষ ও বাইরের পর্যটক আকর্ষণ করে এর নিজস্ব আয় ও ধারাবাহিক উন্নয়নের প্রক্রিয়া চলমান রাখা যায়। তানাহলে এটা ভবিষ্যতে খুঁড়িয়ে চলতে থাকবে ।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com