এম আতিকুল ইসলাম বুলবুল : প্রখ্যাত লেখক শ্রদ্ধেয় প্রয়াত হেমচন্দ্র বন্দ্যোপ্রাধায়ের ‘‘ দিন যায় ক্ষণ যায়, সময় কাহারো নয় – বেগে ধায় নাহি রহে স্থির। সহায় সম্পদ বল, সকলি ঘুচায় কাল- আয়ু যেন শৈবালের নীড়’’ কবিতাটি মনে পড়ে। ঠিক যেন কবিতার মতই স্বল্প আয়ু নিয়ে পৃথিবীতে আসা সহকর্মী সমকালের শাহজাদপুর প্রতিনিধি প্রয়াত আব্দুল হাকিম শিমুলের আসছে সোমবার ( ৩ ফেব্রুয়ারী ) তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। দেখতে দেখতে কেটে গেছে জীবন থেকে ৩টি বছর । কিন্তু গত তিন বছরেও শিমুল হত্যার বিচার পায়নি শিমুলের পরিবারের সদস্যরা ও সহকর্মীরা। আবার এর মধ্যে দেশ বরণ্য সমকালের সম্পাদক সাংবাদিকতার বাতিঘর সমকাল সম্পাদক শ্রদ্ধেয় গোলাম সারওয়ার স্যারকে হারিয়েছে সমকাল পরিবার। আরো হারিয়েছে সাংবাদিক সমাজ অনেক সহকর্মীদের। অকাল প্রয়াত শিমুলের একমাত্র মেয়ে তামান্না এখন তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী আর ছেলে সাদিক নবম শ্রেণীতে অধ্যয়ণরত। ছেলে-মেয়েকে নিয়ে শিমুলের স্ত্রী নুরুন্নাহার জীবন যুদ্ধে যুদ্ধরত। সেই সাথে তাকে যুদ্ধ করতে হচ্ছে স্বামী হত্যার বিচারের জন্য।
অবশ্য দেশের সাংবাদিক সমাজের প্রতিটি সদস্য শিমুলের মৃত্যুতে যেমন শোকাহত। তেমনি তার দুই সন্তান ও স্ত্রী এখনো তার নিজ পত্রিকা পরিবার সমকালের সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মুস্তাফিজ শফি সহ প্রতিটি সদস্যের কাছে নিজের পরিবারের সদস্য হিসেবেই সকল সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখনো শিমুল হত্যার বিচার আমরা পাইনি । দীর্ঘ তিন বছরে বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদছে। একটি প্রকাশ্য হত্যাকান্ড ঘটানোর পরেও মামলার আসামীরা জামিনে থেকে যথেচ্ছা ভাবে আস্ফালনে জানান দিচ্ছে শিমুল হত্যার বিচার আদৌ শেষ হবে কিনা ? মনে পড়ে ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার দুপুরে সমকালের জেলা প্রতিনিধি শ্রদ্ধেয় আমিনুল ইসলাম খান রানা ভাই প্রথম আমাকে শিমুলের গুলি বৃদ্ধের খবরটা দিয়েছিলেন। এরপর ৩ ফেব্র্রুয়ারী শুক্রবার অগ্রজ সমকাল জেলা প্রতিনিধি রানা ভাই আবারও ফোন করে বললেন, বুলবুল শিমুল ডেথ। শিমুলের মৃত্যুতে সমকাল পরিবারের সকল সদস্যের ন্যায় সহকর্মী বন্ধু হিসেবে সে সময়ে কথা বলার ভাষা ছিলনা এমনকি শিমুলের লাশ সামনে রেখে পাথরের মুর্তির মতো চেয়ে চেয়ে দেখেছি ঘাতকরা প্রিয় সহকর্মী শিমুলকে কিভাবে ক্ষত-বিক্ষত করেছে। সে সময় শিমুলের অকাল মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন হয়েছিল দেশের সাংবাদিক সমাজ। শিমুলের মৃত্যুর সময় শিমুলের লাশের পাশে পরিবারের শিশু সন্তান শিমুলের ছেলে সাদিক ও মেয়ে তামান্না, মা, ভাই বোন স্বজনদের আহাজারী, ও স্ত্রীর বৈধব্য, আর গগণ বিদারী কান্না সবকিছুই এলোমেলো করে দিয়েছিল সেদিন। কিন্ত সময় ঠিকই চলে যাচ্ছে। আর এখন আর কাঁদতে আসিনি এসেছি শিমুল হত্যার আসামীদের ফাঁসির দাবী নিয়ে । আমরা চাই গণতান্ত্রিক দেশে শিমুল সহ যত সাংবাদিক নিহত হয়েছেন তাদের হত্যার বিচার। চাই সেই সকল ঘাতকদের ফাঁসি। এটা করুণার চাওয়া নয়, বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে বলছি। মনে পড়ে শিমুল হত্যার পরবর্তী সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সন্মেলন কক্ষে শোকসভায় প্রয়াত সমকাল সম্পাদক সারওয়ার ভাই বলেছিলেন, শিমুল হত্যার বিচারের জন্য যা যা করা দরকার সমকাল পরিবার তার সবই করবে। অবশ্য সমকাল বরাবরই শিমুল হত্যার বিচারের বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে আসছে। কিন্ত শিমুল সমকাল পরিবারের আবেগ আর এ থেকেই শিমুলের তৃতীয় মৃত্যু বার্ষিকীতে আমরা চাই দ্রুততম সময়ে ন্যায় বিচার। বর্তমানে মামলার প্রধান আসামী সহ সকল আসামী জামিনে এসে আস্ফালন করছে। তাই তাদের জামিন বাতিল করে দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির এ দাবী যেন কুয়াচ্ছন্ন না হয়। এদিকে স্বামী হারানো নুরুন্নাহার ভাবি তার ছেলে -মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে বর্তমানে শংকিত হয়ে পড়েছেন। তিনি আরো জানান, দেশে দ্রুত বিচার আইনে স্বল্প সময়ে কত মামলার বিচার হচ্ছে। কিন্ত আমার স্বামী হত্যার বিচার গত প্রায় তিন বছরেও পায়নি। একথা শুধু তার না পুরো সমকাল পরিবার সাংবাদিক সমাজের সকলেরই। শিমুল গ্রামীণ পর্যায়ের একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিক যিনি কর্তব্য কাজকে অবহেলা না করে, সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন । আর সেখানেই তৎকালীন শাহজাদপুর পৌর মেয়র মিরুর টার্গেট কিলিং শিকার হন প্রিয় সহকর্মী শিমুল। তারপর কেটে গেছে তিনটি বছর। কিন্ত শেষ হয়নি শিমুল হত্যার বিচার। কি সেলুকাস ! আজকে শিমুলের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। সেই সাথে শিমুলের আদরের কন্যা তামান্না-সাদিকের মত আমরাও চাই দ্রততম সময়ে শিমুল হত্যার বিচার।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com