নিয়োগ বঞ্চিত ৩৫ উর্দ্ধো হাজার হাজার নিবন্ধনধারী শিক্ষক

Spread the love

শাহজাহান আলী

গত বছর ১২ জুন ২০১৮ইং তারিখে প্রকাশিত হয় শিক্ষা নীতিমালা ২০১৮ যার ১১.৬ ধারাতে বলা হয়েছে শিক্ষক নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়স হবে ৩৫ বছর। পক্ষান্তরে উপজেলা কোটা বাতিল করতে নিয়োগ বঞ্চিত শিক্ষকগণ”নিবন্ধিত শিক্ষকদের অধিকার আদায় কমিটি” গঠন করেন যারা আহ্বায়ক ও সমন্বয়কারী ছিলেন এস এম আমজাদ হোসেন। এস এম আমজাদ হোসেন বলেন, গত ২২ নভেম্বর ২০১৬ইং তারিখে উপজেলা কোটা বাতিল সহ পিটিশনারদের নিয়োগের জন্য রুলজারি করেন যারা চুড়ান্ত রায় হয় ১৪/১২/২০১৭ইং তারিখে। ২০১৭সালের ১৪ ডিসেম্বর ১৬৬টি রিটের বলা হয়েছে “যারা ইতিমধ্যে  সনদ পেয়েছে তাদের সনদের মেয়াদ হবে নিয়োগের পূর্ব পর্যন্ত”। সুতারাং নীতিমালা কোর্টের রায়ের সাংঘর্ষিক হয় না কারণ উক্ত নীতিমালা প্রয়োগ হবে যারা নতুন করে সনদ অর্জন করবে তাদের ক্ষেত্রে যারা আগে সনদ অর্জন করেছেন তাদের ক্ষেত্রে বয়স প্রযোজ্য নয়। কিন্তু এনটিআরসিএর বাড়াবাড়ি বা ভুলের কারণে ৩৫ উর্দ্ধো বয়সী সনদ প্রাপ্তগণ গত ১৯/১২/২০১৮ইং তারিখে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন হতে বঞ্চিত হয়েছিলো। তারপরে বঞ্চিত নিবন্ধিত শিক্ষক গণ সভাপতি এস এম আমজাদ হোসেন সাহেবের নেতৃত্বে আবারো মহামান্য সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট শাখায় রুলজারি করেন ১৮/১২/২০১৮ইং এবং সাপ্লিমেন্টারী অর্ডার করান ০২/০১/২০১৯ইং তারিখে। উক্ত রায়ে বলা হয়েছিল “পিটিশনারগণের আর্জি সম্পূর্ণ বৈধ এবং ৩৫ উর্দ্ধো পিটিশনারদের উপর এনটিআরসিএর বয়স নির্ধারণ করা সম্পূর্ণ বে-আইনি। তাই বয়স ব্যতিত অন ্যকোনো সমস্যা না থাকলে অতিসত্তর ৩৫ উর্দ্ধো নিবন্ধনধারী ও পিটিশনারদের আবেদন গ্রহণ করে নিয়োগ দেয়া হোক। এবং উক্ত অর্ডার দ্রুত ম্যাসেন্জারের মাধ্যমে প্রেরণ করা হউক।”উক্ত রায় এনটিআরসিএ বাস্তবায়ন না করে আপিল করে স্টে করে ৩৫ উর্দ্ধোদের বঞ্চিত করেই নিয়োগ কার্যক্রম চালান। তা যেন এনটিআরসিএর চরম বাড়াবাড়িতে রূপ নেয়।

পক্ষান্তরে ৩৫ উর্দ্ধো নিয়োগ বঞ্চিত নিবন্ধিত শিক্ষক কেন্দ্রীয় ফোরামের সভাপতি এস এম আমজাদ হোসেন চেম্বার কোর্টে আপিল মোকাবেলা করে ৩৫ উর্দ্ধোদের পক্ষে রায় নিয়ে আসেন, তারসাথে মহামান্য প্রধানবিচারপতিসহ ছয়জন বিচারপতি ফুলকোর্টে ৩৫ উর্দ্ধো নিবন্ধনধারীদের পক্ষে রায় দেন। সবদিক থেকে হেরে যায় এনটিআরসিএ।  তার সাথে ফুল কোর্ট থেকে অপর একটি রিটের নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে প্রেরণ করেছিলেন। সে রিটটিরও রায় হয় সভাপতি এস এম আমজাদ হোসেন সাহেবের রিটের রায়ের অনুরূপভাবে। পক্ষান্তরে যারা ইতিমধ্যে নিয়োগ পেয়ে ইনডেক্স পেয়েছেন তাদের সনদের বৈধতা শেষ কারণ সনদের বৈধতার মেয়াদ সনদধারীর নিয়োগ পর্যন্ত। যেহেতু নিয়োগ প্রাপ্তদের সনদের বৈধতা নাই সেহেতু গনবিজ্ঞপ্তিতে তাদের আবেদন গ্রহণ করা সম্পূর্ণ বে-আইনি ও মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট শাখার রায়ের সাথে সাংঘর্ষিক। তবে নিয়োগ প্রাপ্তদের বদলির ব্যবস্থা করতে পারে এনটিআরসিএ যা রায়ে বলা আছে। এনটিআরসিএ বদলির ব্যবস্থা না করে নিয়োগ বঞ্চিত নিবন্ধিতধারীদেরকে কৌশলে বঞ্চিত  করার জন্য ইনডেক্সধারীদের আবেদন গ্রহণের পায়তারা করছে যা সম্পূর্ণ বে-আইনি। তাই পরোক্ষভাবে নিয়োগ বঞ্চিত নিবন্ধিত শিক্ষকগণ এবিষয়ে খামখেয়ালীপনা ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন।

বিসিএস পরীক্ষায় শুধুমাত্র একটি আবেদনের মাধ্যমে সকল পরীক্ষা গ্রহণসহ মূল্যায়ন ও নিয়োগ সম্পন্ন করলেও এনটিআরসিএ অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে একজন চাকুরী প্রার্থী থেকে শতশত আবেদন গ্রহণ করে প্রতিটি আবেদনের জন্য ১৮০ টাকা করে গ্রহণ করে। কিন্তু কোনো পরিক্ষা নাই, খাতার মুল্যায়ন নাই শুধু জাতীয় মেধাতালিকা অনুসারে ফলাফল প্রকাশ করেন। একজন চাকুরী প্রার্থী যদি গড়ে ১০০ আবেদন করে তখন তার কাছ থেকে আয় করেন ১৮,০০০ টাকা। যদি ১০০,০০০ চাকুরি প্রার্থী হয় তখন আবেদন বাবদ এনটিআরসিএর আয় হয় ১৮০,০০,০০,০০০টাকা (একশত আশি কোটি টাকা)। ফলাফল প্রকাশ করতে সর্বোচ্চ একলক্ষ টাকা খরচ হতে পারে। তারপরেও যদি ৫০,০০,০০০ টাকাও খরচ হয় তখন এনটিআরসিএর নীট আয় হয় একশত উনআশি কোটি পঞ্চাশ লক্ষ টাকা।এসকল টাকা তো বেকার নিবন্ধিত শিক্ষকদের রক্ত ভেজা টাকা। এত টাকা চেয়ারম্যান সাহেব গায়েব করে দিচ্ছেন অথচ সরকারের কোনো মাথা ব্যথা নাই। এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান নিজের পকেট ভরতে কোর্টের আদেশ অগ্রাহ্য করে যা খুশি তা-ই করে চলছেন। বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ হবার পরেও কেন রক্ত চুষে খাচ্ছে একজন আমলা? কেন বেআইনিভাবে ৩৫ উর্দ্ধো নিবন্ধনধারীদের বঞ্চিত করছে? মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী কী পারবেন এসব প্রশ্নের জবাব দিতে?

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD