হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কে ভোগান্তি চলছে

Spread the love

গোলাম মোস্তফা : হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহা সড়কের তাড়াশ অংশের খালকুলা বাজার থেকে ১০নং ব্রিজ এলাকা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সংস্কার কাজের ধীরগতির কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রী ও চালকেরা। এটুকো সড়কে দিনরাতের প্রায় সারাক্ষণই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘ যানজট নিরসনে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা ও তাড়াশ থানা পুলিশ যৌথভাবে কাজ করে চলেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের একপাশ বন্ধ রেখে আরেক পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। এমন রেশনিং পদ্ধতিতে সড়কের দু’পাশে শ’ শ’ যানবাহন আটকা পড়ছে। আর যখন গাড়িগুলো ছাড়া হচ্ছে একেবারে ধীরগতিতে চলছে। পুলিশের চেষ্টাও তেমন কাজে আসছে না। এদিকে মহাসড়কের একপাশের সংস্কার কাজের পানি ও বর্জ গড়ে পড়ছে আরেক পাশে। ফলে যানবাহান চলাচলের একপাশ রাস্তাও খানাখন্দে বেহাল। শুধু তাই নয়, মহাসড়কের পার্শ্ব রাস্তায় ঢুকে পড়ছে বড় বড় গাড়ি। বিধ্বস্ত অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে পার্শ্ব রাস্তাটিরও। গর্তে ভরা সড়ক দিয়ে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করছে হেলেদুলে। মাঝে মধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা।

সাজেদুল ইসলাম, আব্দুর রহিম, ছানোয়ার হোসেন, তারিক হাসান, পরেশ চন্দ্রসহ বেশ কয়েকজন বাস-ট্রাকের চালক জানান, মেরামত কাজের ধীরগতির কারণে রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, নাটোরসহ দক্ষিণ বঙ্গের কিছু যানবাহনে থাকা হাজার-হাজার যাত্রী প্রতিনিয়ত চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ৮/১০ কিলোমিটার রাস্তা পার হতে ৪/৫ ঘন্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক চালক ট্রাফিক আইন অমান্য করে ভারি যানবাহন নিয়েই পার্শ্ব রাস্তা দিয়ে যাওয়া চেষ্টা করছেন। ফলে দুর্ঘটনাও বেড়েই চলেছে। রাজশাহীগামী যাত্রী উম্মে ছাওদা জানান, তিনি নাসিং পরিক্ষা দেওয়ার জন্য তার মাকে সঙ্গে নিয়ে তাড়াশের মহিষলুটি বাসস্ট্যান্ডে ২ ঘন্টা অপেক্ষার পর গাড়িতে ওঠেন। তবে পরের ৩ ঘন্টায় দু’ কিলোমিটারের বেশি যেতে পারেননি।

তাড়াশ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুল আলম বলেন, শুক্র ও শনিবার তুলনামূলক যানজট একটু নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সপ্তাহের বাকি দিনগুলোর প্রায় সারাক্ষণই ভয়বহ যানজট লেগে থাকছে।  চালক ও যাত্রীদের অভিযোগ, সংস্কার কাজের ধীরগতির কারণে যানজটে তাদের দুর্ভোগ বেড়েই চলছে। ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ের সংস্কার কাজ করানো হচ্ছে ১০/১৫ জন শ্রমিক দিয়ে। এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম পি কে মহাসড়কের দুরাবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, সংস্কার কাজ শেষ করতে আরো ৩/৪ মাস লেগে যাবে। তবে পর্যবেক্ষক মহলের মতে উক্ত সড়ক মেরামতে অপ্রত্যাশিত মাত্রার ধীরগতির মূলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উদাসীনতা ও অবহেলাই দায়ী।

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD