তাড়াশে ফসলি জমিতে পুকুর খনন জলাধার দখল-ভরাট, সড়কগুলো বেহাল

Spread the love

গোলাম মোস্তফা :  উপজেলা মৎস্য অফিসের দেওয়া তথ্য মতে তাড়াশে ছোট-বড় মিলে প্রায় সারে পাঁচ হাজারের মতো পুকুর রয়েছে। এরপরও উর্বর ফসলি জমি কেটে আশঙ্কাজনক হারে পুকুর খনন করা হচ্ছে। একই সাথে চলছে খাল-বিল, নয়নজুলি দখল ও ভরাট। ড্রাম ট্রাকের মাটি আর ধূলার আস্তরণে বেহাল গ্রামীন ও আঞ্চলিক সড়কগুলো।

সরেজমিনে জানা যায়, বিগত বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে খনন যন্ত্র (এক্সেভেটর) দিয়ে পুকুর খননের কাজ। ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধ শতাধিক পুকুর খনন করা হয়ে গেছে। এখনও প্রায় অর্ধ শতাধিক পুকুরের খনন কাজ চলছে।

কৃষক আব্দুর রহিম, জামাল উদ্দিন, আশরাফ আলী, শহিদুল ইসলাম, সোনা মিঞা, শাজাহান সরকার জানান, ফসল উৎপাদনে যথেষ্ট শ্রম ব্যয় করেও কাঙ্খিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। তাই লাভের আসায় পুকুর খনন করে তুলনামূলক ঝামেলাহীন অর্থ উপর্জনের চেষ্টা করছেন তাদের মতো অনেকেই। এসব পুকুরে তারা নিজেরা মাছচাষ করছেন, আবার কেউবা অর্থের বিনিময়ে মৎস্যচাষীদের কাছে লিজ দিচ্ছেন।

এদিকে খাল-বিল, নয়নজুলি ও জলধারগুলো ক্রমান্বয়ে দখল ও ভরাটের কারণে পানি নিস্কাশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে বাড়ছে জনদুর্ভোগ। গণহারে ব্রিজের মুখে মাটি ফেলে পুকুরের পাড় বেধে মাছ চাষ করা হচ্ছে। আবার পানি  প্রবাহের পথ ও ব্রিজের মুখে মাটি ফেলেই তৈরি করা হচ্ছে বসতঘর। শুধু তাই নয়, সড়কের ধারে যে সব পুকুর খনন হচ্ছে সেখানে গ্রামীন ও আঞ্চলিক সড়কগুলোকে পুকুরের পাড় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে ইতোমধ্যে ওইসব সড়কের বেশ খানিকটা করে অংশ পুকুরেই বিলীন হয়ে গেছে।

সরেজমিনে আরও জানা যায়, কৃষকের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে চুক্তিভিত্তিক বা লিজ নিয়ে পুকুর খনন করে দিচ্ছেন এক শ্রেণির ব্যবসায়ী। খননকৃত পুকুরের মাটি তারা মানুষের কাছে চরা দামে বিক্রি করছেন। মাটি বহনের সময় ড্রাম ট্রাকের পেছনের ঢাকনা খোলা থাকায় এবং ওভার লোডিংয়ের কারণে মাটি পড়ে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীন ও আঞ্চলিক কাঁচা-পাকা সড়কগুলো। আর অনবরত ট্রাক চলচল করায় ধূলার আস্তরণে ঢাকা পড়ছে সড়কের আশপাশের বসতঘর।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, কৃষকদের যথেষ্ট ইচ্ছার প্রেক্ষিতেই তারা জমি কেটে পুকুর খনন করে দিচ্ছেন। আর সবকিছু ম্যানেজ করেই তা করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রতিবছরই বাড়ছে পুকুরের পরিধি, কমে যাচ্ছে উর্বর আবাদি জমি। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। একই সাথে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন ও সরকারি খাল, নয়নজুলি ও যত্র তত্র জলধার ভরাট করায় অসময়ে দীর্ঘ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিবছর বন্যার পানিও তুলনামূলক ধীর গতিতে নামছে। ফলে সময় মতো বোরো ও আমন ধানের আবাদ করা এবং ঘরে তোলা নিয়ে সংশয় কাটছেনা কৃষকের।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। তিনি ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে কয়েকদিন হলো যোগদান করেছেন। এখন থেকে পুকুর খনন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সাথে খাল-বিল, নয়নজুলি দখল ও ভরাট করে পানি প্রবাহের পথে যারা বাধার সৃষ্টি করছেন তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD