হারিয়ে যাচ্ছে তাড়াশ-রায়গঞ্জের আদিবাসীদের হস্তশিল্প

Spread the love

গোলাম মোস্তফা : বংশ পরম্পরায়  তাড়াশ – রায়গঞ্জের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী তথা আদিবাসী  মানুষেরা স্তশিল্পের কাজে পারদর্শী। তবে নানা প্রতিকূলতায় এখন আর হস্তশিল্পের আসবাবপত্র তৈরি করতে পারছে না তারা।

হস্তশিল্পের কারিগর মন্টু এক্কা, নকুল এক্কা, বিমল উরাঁও, সুরেস উরাঁও, মদন উরাঁও, জসোদা রানী, শুকু রানী, কসুল্লা রানীসহ অনেকে জানান, পুরান দিনে হস্তশিল্পের কাজই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের অন্যতম আয়ের উৎস ছিল। বাঁশ, বেত, বিন্নার ফুল, তালপাতা আর খেজুর পাতা দিয়ে নিপুনভাবে নানরমক আসবাবপত্র তৈরি করতেন তারা। এসবের মধ্যে মোরা, শীতল পাটি, শিশু দোলনা, পলো, ওড়া, খলই, চালুন, কুলা, ঝাড়–, ডালি, টোপা উল্লেখযোগ্য। এগুলো তারা নিজেরা ব্যবহারের পাশাপাশি হাটে-বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাতেন। তবে এখন এলাকায় বেত নেই বললেই চলে। বাঁশেরও অনেক দাম। বিন্নার ফুল, তালপাতা আর খেজুর পাতাও চাহিদা মতো পাওয়া যায়না।

হস্তশিল্প কারিগররা আরো জানান, তাদের বাড়িতে সামান্য খাবারে মজুদও থাকেনা। দিন আনি দিন খাই অবস্থা সবার। পৌষ মাসে ক্ষেত লাগানোর পড়ে তাদের হাতে আর তেমন কোন কাজ থাকে না। ইরি-বোরো ধান পাকতে তিন মাসের মতো অপেক্ষা করতে হয়। তখন কর্মের অভাবে বাড়িতে বসেই খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে ।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা উরাঁও ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিরেন্দ্র নাথ বাঁরো বলেন, তাড়াশে ২০ হাজারেরও বেশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস। রায়গঞ্জেও প্রায় সমান সংখ্যক আদিবাসী বসবাস করে। এরা প্রায় সবাই ভূমিহীন। মূলধন হিসেবে সরকারিভাবে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হলে হস্ত শিল্পটাকে টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি নিজেরা জীবন জীবীকা নির্বাহ করতে পাড়তেন।

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD