নাটোর জেলায় ২০২৫-২৬ বছরে মাছ উতপাদন  ৮২ হাজার মেট্রিক টন

Spread the love
চাহিদা ৪০ হাজার ৭৩২  টন ; উদ্ববৃত্ত ৪১ হাজার ২৪৮ মেট্রিক টন  
আবুল কালাম আজাদ।।
# আট বছরে পুকুরে মাছ উতপাদনে গুরুদাসপুর  প্রথম থেকে দ্বিতীয় এবং  সিংড়া দ্বিতীয় থেকে শীর্ষে।
# রাজশাহী বিভাগে মাছ উতপাদনে  নাটোর জেলা শীর্ষে।
#আট বছরে জেলায় মুক্ত জলাশয়ে মাছ মাছ আহরন  অস্বভাবিক কমেছে।পুকুরে উতপাদন  বেড়েছে ১১০% । দায়ি করা হচ্ছে- জলবায়ুর প্রভাব, দকল-দুষন, নিষিদ্ধ জাল, শিল্লপ-কারখানার বর্জ্য, প্লাষ্টিক, নাব্যতা  উন্নয়নের নামে অপ্রিকল্পিত বাঁধ, সড়ক, ব্রিজ় –কালভার্ট , শিল্পকারখানা , আবাসন নির্মান ইতাদি কারণে ।
#  জেলার চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত ৪১ হাজার মে. টন মাছ দেশের অভ্যন্তরে সরবরাহ হচ্ছে এবং শুটকি তৈরী  হচ্ছে।
“ মাছে ভাতে বাংগালী “ বলে কথা। আর চলনবিলের মাছের কথা শুনলে তো কোন কথাই নাই।কিন্তু দুর্ভাগ্যের  বিষয়,বিশাল সমুদ্রসম দক্ষিন এশিয়ার প্রবাহমান ঐতিহাসিক চলনবিলের প্রাণ সঞ্চালনকারি পদ্মার পানি বহনকারি শাখা নদী বড়ালের উতস্মখ চারঘাটে এবং ভাটিতে অয়াটঘরিয়ায় তিনটী জলকপাট ( স্লুইস গেট)  চলনবিলকে পানিশুন্য করে মেরে ফেলেছে সর্বনাশা পানি উন্নয়ন বোর্ড।  সেই  থেকে দেশের  মতস্য ভান্ডার বলে খ্যাত চলনবিল থেকে বিলুপ্ত হয়েছে শত প্রজাতির সুস্বাদু মাছ, পাখি জীববৈচিত্র পরিবেশ , ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং চলনবিলের মানুষের জীবনযাত্রার প্রেক্ষাপট। ধংস হয়েছে মাছ- পাখির চারনভূমি। এরপর উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিত রাস্তা, বাঁধ, ব্রিজ- কালভার্ট, রাবারড্যাম্প সহ বিভিন্ন স্তাপনা নির্মান এবং পুকুর খননের নামে চলনবিলের জীবন-যৌবন ধ্বংসযজ্ঞের মহোতসব। চলনবিল এখন শত খন্ডে বিভক্ত/ বিভাজন হয়ে নিজ ঐতিহ্য হারিয়ে সম্পুর্ন মৃত। চলছে দাফন- কাফন এবং সতকারের প্রস্তুতি। মাছের রাজ্য চলনবিলে  শুরু হয় মাছের আকাল। মতস্যজীবিরা পৈত্রিক পেশা হারিয়ে বিকল্প আয়ের সন্ধানে স্থানান্তর হচ্ছে অন্য পেশায়।
কিন্তু চলনবিলের  মতস্যজীবিরা পেশা পরিবর্তন করলেও  চলনবিলের মানুষের মাছ না হলে চলবে কেন? প্রাকৃতিক নদী- নালা , খাল-বিলের উন্মুক্ত জলাশয়ের মাছের আকাল দূর করতে  আবির্ভাব ঘটে মতস্য  চাষীদের। মতস্যজীবিদের স্থান দখল করে নেয় বিত্তশালী মতস্য চাষীরা। শুরু হয় ফসলের জমি ধ্বংস করে পুকুর খননের মহাযজ্ঞ। চলনবিল ধ্বংসের আরএক সর্বনাশা মহোতসব। প্রাকৃতিক জলাশয়ের মাছ  হারিয়ে গেলও  পুকুর খনন করে বানিজ্যিক ভাবে মাছ চাষ করায় চলনবিল সহ নাটোর জেলায় মাছের উতপাদন জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলেছে , অপরদিকে নানা অব্যাবস্থাপনায় দখল-দুষনে  প্রাকৃতিক উৎসের নাব্যতা হারিয়ে মাছের প্রজনন,পোনামাছের বৃদ্ধি, বিচরনের ক্ষেত্র সঙ্কুচিত  হওয়ায় মুক্ত জলাশয়ের মাছের উতপাদন মাইনাসে (-)  নেমে গেছে। এতে নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন  এবংব্যবহারের মাধ্যমে  দেশি ও উন্নত প্রজাতির মাছ চাষ করে যেমন  লাভবান হচ্ছেন মতস্য চাষীরা এবং জমির মালিক, তেমনি  বেড়েছ কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ও প্রবৃদ্ধি। এ ছাড়াও স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের অভ্যন্তরে রপ্তানী করে  এবং শুটক্ত করে মাছের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হচ্ছে  চলনবিলের মাছ চাষীরা।এতে একদিকে পুকুরের সংখ্যা বাড়ছ, বাড়ছে মাছে উতপাদন । অপর দিকে  একই গতিতে কমছে কৃষি জমি এবং আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে প্রধান খাদ্য ধান চাষ। কৃষক ঝুঁকেছে বিকল্প ফসল চাষে।
নাটোর জেলা মতস্য অধিদপ্তর কার্যালয়ের  ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের  বার্ষিক প্রতিবেদন সুত্রে জানা যায় জেলার ৭ টি উপজেলায় নদী, বিল, প্লাবন ভূমি,  এবং ৩১,৫০৮ টি পুকুর ও  হ্যাচারি থেকে  মাছের উতপাদন হয়েছে ৮১ হাজার ৯৮০ দশমিক ২৩ মেট্রিক টন।অপরদিকে ২০১৮- ২০১৯ অর্থ বছরের প্রতিবেদনে দেখা যায়   জেলায় নদী,বিল , মুক্ত জলাশয় এবং ২৭,৪৯০ টি পুকুর ও হ্যাচারি থেকে   মাছ উতপাদন হয়েছে ৫৩ হাজার ৯৮২ মেট্রিক টন।গত ৮ বছরে জেলায় মাছ উতপাদন বেড়েছে ২৭ হাজার ৯৯৮ মেট্রিক টন ( ৬৬%)।২০২২ সালের জনশুমারিতে   জেলায় মোট জনসংখ্যা  ১৮ লাখ ৫৯ হাজার ৯২১ জনগোষ্ঠির  মাথাপিছু দৈনিক ৬০ গ্রাম  হিসেবে বাছরে  ৪০ হাজার ৭৩২ মেট্রিক টন অভ্যন্তরিন মাছের মোট চাহিদা  মিটিয়ে উদ্ববৃত্ত ৪১ হাজার ২৪৮ মেট্রিক টন  (৫০%) মাছ রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন   বিভাগীয় এবং জেলা শহরে  ট্রাকে জলাবদ্ধ  মিনি পুকুর করে পানি ভরে ট্রাকের উপড় সেচ মেশিন  সেট করে পানির প্রবাহ চালু রেখে  তাজা জীবন্ত মাছ রপ্তানি করা হচ্ছে।  তথ্যে জানা যায়, নাটোর জেলার ৭ উপজেলা থেকে  প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ টি ট্রাকে  জীবন্ত মাছ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ওভ্যন্তরিণ বাজারে  সরবরাহ হচ্ছে।
জেলা মতস্য অফিসের তথ্যে জানা যায়,   ৭ উপজেলার নদী,  বিল , খাল  উন্মুক্ত জলাশয়, প্লাবন ভূমি থেকে মাছ আহরণ হয়েছে ১৭ হাজার  ৮২৯ মেট্রিক টন এবং ৩১ হাজার ৫০৮ টি  পুকুরে বানিজ্যিক ভাবে মাছ উতপাদন হয়েছে ৬০ হাজার ৫৪৮ মেট্রিক টন। এ ছাড়া হ্যাচারিতে পোনা উতপাদন হয়েছে  ৩হাজার ২২৬ মেট্রিক টন এবং নদী, বিল ,মুক্ত জলাশয় থেকে ইলিশ মাছ আহরন হয়েছে  ৩২ দশমিক ২৩ মেট্রিক টনসহ সর্বমোট মাছ উতপাদন হয়েছে ৮১ হাজার ৯৮০ দশমিক ২৩ মেট্রিক টন। অপরদিকে বিগত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ৮ বছর পুর্বে নদী-বিল , খাল, এবং প্লাবনভূমি থেকে মাছ আহরন ছিল ১৬ হাজার ১১৩ মেট্রিক টন  এবং ২৭হাজার ৪৯০ টি পুকুরে বানিজ্যিকভাবে মাছ উতপাদন হয়েছিল  ৩৭ হাজার ৪৪২ দশমিক ১৯ মেট্রিক টন সহ সর্বমোট হাছ উতপাদন হয়েছিল ৫৩ হাজার ৯৮২ মেট্রিক টন।
উপজেলা ভিত্তিক মাছ উতপাদনের তথ্যে জানা যায় –
,নাটোর সদর উপজেলায়  গত আট বছর  আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে  মাছ উতপাদন ও আহরণ ছিল-মুক্ত জলাশয়ে ১ হাজার ৩০ মেট্রিক টন , ৫৪৮৭ টি পুকুরে উতপাদন ৮হাজার ৫৫ মেট্রিক টন সহ মোট উতপাদন ছিল ৯০৮৫ মেট্রি টন।২০২৫-২৬ বছরে উতপাদন হয়েছে মুক্ত জলাশয়ে ৮৮০মেট্রি টন এবং ৪,৮৮৫ টি পুকুরে ১১,৬০৩ টনসহ মোট ১২,৫১৭ টন। উতপাদন বেড়েছে ৩,৪৩২  টন।  আট বছরে সদরে ৬০২ টি পুকুর এবং ১০০ হেক্টর জলায়তন কমে যাওয়ার বিষয়ে সদর উপজেলা সিনিয়ের মতস্য কর্মকর্তা  মোঃ আবু সাইদ মুঠো ফোনে জানান, সদর উপজেলা শিল্পাঞ্চল ও বানিজ্যিক এলাকা হওয়ায় পুকুর ভরাট এবং ছোট পুকুরগুলি  বড় পুকুরের সাথ একিভূত হওয়ায়  পুকুরের সংখ্যা ও আয়তন কমেছে ।
  সিংড়া উপজেলায় ২০১৮-১৯ সালে মাছ উতপাদন ও আহরণ ছিল-মুক্ত জলাশয়ে ৮ হাজার ২৪৩ মেট্রিক টন , ৫,৮৪৩ টি পুকুরে উতপাদন ৮ হাজার ১৬৬ মেট্রিক টন সহ মোট উতপাদন ছিল ১৬,৪০৯ মে. টন । অপরদিকে ২০২৫-২৬ বছরে উতপাদন হয়েছে মুক্ত জলাশয়ে ৭৭,,১৯৮ মে. টন এবং ৬,৫১৯ টি পুকুরে ১৬,৭২৪ টনসহ মোট ২৪,০৯৭ টন। উতপাদন বেড়েছে ৭,৬৮৮ টন।
গুরুদাসপুর  উপজেলায় ২০১৮-১৯ সালে মাছ উতপাদন ও আহরণ ছিল-মুক্ত জলাশয়ে ১হাজার ২,২৬ মেট্রিক টন , ৬,৩৬২টি পুকুরে উতপাদন ৯ হাজার ১০৩ মেট্রিক টন সহ মোট উতপাদন ছিল ১৬,৪০৯ মে. টন। অপরদিকে ২০২৫-২৬ বছরে উতপাদন হয়েছে মুক্ত জলাশয়ে ২,৪৮৬ মে. টন এবং ৭,১২৬ টি পুকুরে ১৬,২৯৯ টনসহ মোট ২৩,৪২৫ টন। উতপাদন বেড়েছে ৭,০১৬ টন।
বড়াইগ্রাম উপজেলায় ২০১৮-১৯ সালে মাছ উতপাদন ও আহরণ ছিল-মুক্ত জলাশয়ে ১হাজার ৮২২মেট্রিক টন , ৩,১২০ টি পুকুরে উতপাদন ৪ হাজার ৭৬৫ মেট্রিক টন সহ মোট উতপাদন ছিল ৬,৫৮৭ মে. টন। অপরদিকে ২০২৫-২৬ বছরে উতপাদন হয়েছে মুক্ত জলাশয়ে ১,৮৩০মে. টন এবং ৪,২৭১ টি পুকুরে ৮,৫২৩ টনসহ মোট  টন। উতপাদন বেড়েছে ১,৯৩৬ টন।
লালপুর উপজেলায় ২০১৮-১৯ সালে মাছ উতপাদন ও আহরণ ছিল-মুক্ত জলাশয়ে  ৭১৪ মেট্রিক টন , ২,৭৭৮ টি পুকুরে উতপাদন ৩ হাজার ৬৩ মেট্রিক টন সহ মোট উতপাদন ছিল ৩,৭৭৭ মে. টন। অপরদিকে ২০২৫-২৬ বছরে উতপাদন হয়েছে মুক্ত জলাশয়ে ৯৮ মে. টন এবং ৩,৭৯৩  টি পুকুরে ৫০৭৭ টন এবং ইলিশ ৩২.২৩ টনসহ মোট ৫,২০৭- টন। উতপাদন বেড়েছে ১,৪৩০ টন।
  বাগাতিপাড়া  উপজেলায় ২০১৮-১৯ সালে মাছ উতপাদন ও আহরণ ছিল-মুক্ত জলাশয়ে ১৫৪ মেট্রিক টন , ১,৬৫২টি পুকুরে উতপাদন ১,৬৫০ মেট্রিক টন সহ মোট উতপাদন ছিল ১,৮০৪ মে. টন।  অপরদিকে ২০২৫-২৬ বছরে উতপাদন হয়েছে মুক্ত জলাশয়ে ৯৯ মে. টন এবং ১,৩৫৮  টি পুকুরে ২,৬৬০ টন সহমোট ২,৭৬০ টন। উতপাদন বেড়েছে ৯৫৭ টন। এবং
নলডাংগা উপজেলায় ২০১৮-১৯ সালে মাছ উতপাদন ও আহরণ ছিল-মুক্ত জলাশয়ে ৩,৯২৩ মেট্রিক টন ,২,২৪৮ পুকুরে উতপাদন ২,৬৪০ মেট্রিক টন সহ মোট উতপাদন ছিল ৬,৫৬২মে. টন।  অপরদিকে ২০২৫-২৬ বছরে উতপাদন হয়েছে মুক্ত জলাশয়ে ৫,২৩৫মে. টন এবং ৪,২৫৩ টি পুকুরে ৯,৫৪৭ টন সহমোট ১৪,৭৮২ টন। উতপাদন বেড়েছে ৮,২২০ টন।
# মাছ উতপাদনে রাজশাহী বিভাগে  শীর্ষে নাটোর জেলা-
জেলা মতস্য অধি দপ্তর সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থ বছ্রে ৮২ হাজার মে. টন মাছ উতপাদন  ও আহরন করে নিজ জেলার অভ্যন্তরিণ চাহিদা মিটিয়ে  উদ্বৃত্ত ৪১ হাজার ২৪৮ টন মাছ উতপাদন করে  রাজশাহী বিভাগের মধ্যে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে। বিভাগের  নওগাঁয় ২৬ হাজার  ৭৮৯ টন, রাজশাহীতে ২৪ হাজার ৬৬৬ টন, বগুড়ায় ২২ হাজার ৭০০ টন, পাবনায় ১০ হাজার ৮৮৫ টন ও জয়পুরহাট জেলায় ৫ হাজার ৪১৬ টন উদ্বৃত্ত উতপাদন হয়। অপরদিকে মাছ উৎপাদনে ঘাটতিতে থাকে সিরাজগঞ্জ জেলায় ৫৪১ টন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৮ হাজার ৬৮ টন।
# মুক্ত জলাশয় থেকে মাছ উতপাদন ও আহরণে আট বছরে মাইনাসে যাওয়ার কারণ-
জেলার মাছ উতপাদনের ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের তথ্য বিশ্লেষনে দেখা যাচ্ছে নদী, নালা, খালবিল, প্লাবনভূমি সহ মুক্ত জলাশয় থেকে  ৮ বছরে  মাছ আহরন  বেড়েছে মাত্র ১০ শতাংশ (-) মাইনাস অবস্থান। অপর দিকে পুকুরে উতপাদন বেড়েছে ১১০ শতাংশ। অথচ একই হারে মুক্ত জলাশয়ে আহরণ বাড়লে মাছের গড় উতপাদন এক লাখ  টনের উর্ধে হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। যা চলনবিলের মতস্য সম্পদ থেকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরণের ভূমিকা রাখতো।
মুক্ত জলাশয়ে মাছ আহরনের বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে জানতে চাইলে নাটোর সদর উপজেলা সিনিয়র মতস্য কর্মকর্তা মোঃ আবু সাইদ এবং গুরুদাসপুর উপজেলা সিনিয়র মতস্য কর্মকর্তা রতন সাহা প্রতিবেদককে জানান-
#,বৈশ্বি জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাবে  বৈরী আবহাওয়ায়  বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় অকাল বন্যা এবং খরায়  মাছের বিচরণ ভূমি সংকুচিত হয়ে গেছে। এতে মাছের প্রজনন ও পোনা উতপাদন  এবং বড় হওয়ার সুযোগ  কমেছে ।
 # নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী, কারেন্ট জাল, বাদাই, সূতিজাল দিয়ে নির্বিচারে  মা’ মাছ এবং পোনা মাছ নিধন করায় প্রজনন এবং পোনা বড় হওয়ার সযোগ  দেওয়া হচ্ছেনা। আইন প্রয়োগ করেও থামানো যাচ্ছেনা।
# নদী – নালা, খাল-বিল ভরাট এবং অবৈধ দখলবাজির কারনে পানির প্রবাহের সংযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায়  এবং  ফসলের জমিতে অপরিকল্পিত সেচ দিয়ে সম্পুর্ন শুকিয়ে ফেলায় ও নদীর সাথে খালের পানি প্রবাহের সংযোগ না থাকায়  মাছের চারণ ভূমি  কমেছে।
# চলনবিল এবং  বিলাঞ্চলসহ যত্র তত্র  অপরিকল্পিত পুকুর খনন করায় প্লাবন ভূমি সংকুচিত হয়ে মাছের বিচারণ ক্ষেত্র কমে গেছে।
# কৃষি জমিতে রাসায়নিক সার এবং ক্ষতিকারক কীটনাশক ব্যবহারে প্রাকৃতক উৎসে বর্জ্য নিঃস্বরণ  এবং শিল্পকারখানা, বিভিন্ন স্থাপানা নির্মান বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছের  বিচরন এবং প্রজননে বাধা ও বন্ধ্যাত্ত্ব বেড়েছে। এ ছাড়া –
# সরকার খাসপুকুর, জলাশয় অবেধ দখলদাররা ভরাট করে কৃষি আবাদ করায় মাছের নিরাপদ অভয়াশ্রম  বিলুপ্ত হয়েছে।
নাটোর সদর উপজেলা সি. মতস্য অফিসার জানান, হালতিবিলে  প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি  ৪০ একর খস জমি করে  একাধিক নিরাপদ অভায়াশ্রম করা হয়েছে। তাতে অনেক সুফল পাওয়া যাচ্ছে। এমনি চলনবিল অধ্যুসিত নাটোর, গুরুদাসপুর , সিংড়া  ও  তাড়াশ উপজেলায়  সরকারি জলাশয়, গাড়ি, খাল ,খাস পুককুর, উদ্ধার ও গভির ভাবে খনন করে মাছের প্রজনন এবং মা’ মাছ এবং পোনা মাছ বৃদ্ধি সংরক্ষনের অভয়াশ্রম করার সুপারিশ করেন ।
# আবুল কালাম আজাদ, প্রধান উপদেষ্টা, ও সাবেক সভাপতি , চলনবিল প্রেসক্লাব, গুরুদাসপুর, নাটোর, ০১৭২৪-০৮৪৯৭৩ , তারিখ- ২৫ /৮/২০২৬।
Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD