তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপে কমবে অকাল মৃত্যু, বাড়বে রাজস্ব

Spread the love

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সাংবাদিক কর্মশালায় বক্তারা

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তর সংখ্যা কমানো, সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতির প্রচলন এবং সবধরনের তামাকপণ্যের দাম বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন বিশেষজ্ঞগণ। তামাকবিরোধীদের বাজেট প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী তামাক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হবে, অকাল মৃত্যু কমবে এবং রাজস্ব আয় উল্লেখোগ্য পরিমাণে বাড়বে। আজ (১২ এপ্রিল) রাজধানীর বিএমএ ভবনে অনুষ্ঠিত “তামাক কর ও মূল্য পদক্ষেপ: বাজেট ২০২৬-২৭” শীর্ষক সাংবাদিক কর্মশালায় এসব বিষয় উঠে আসে। গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) আয়োজিত এই কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন এবং অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত ২৮জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।কর্মশালায় জানানো হয়, বর্তমানে সিগারেট ব্যবহারকারীর অধিকাংশই নিম্ন এবং মধ্যম স্তরের সিগারেটের ভোক্তা যারা মূলত দরিদ্র ও শ্রমজীবি মানুষ। নিম্ন এবং মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে দাম বাড়ানো হলে স্বল্প আয়ের মানুষ সিগারেট ছাড়তে বিশেষভাবে উৎসাহিত হবে। তরুণ প্রজন্ম ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে। পাশাপাশি, সুনির্দিষ্ট কর-এর প্রচলন তামাক কর ব্যবস্থায় জটিলতা কমাবে এবং প্রশাসনিক সুবিধা বাড়াবে।

কর্মশালায়, নিম্ন স্তর এবং মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটর খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ; উচ্চ স্তরে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ১৪০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা নির্ধারণ; প্রিমিয়াম স্তরে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ১৮৫ টাকা থেকে ২০০ বা তদূর্ধ্ব টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। একইসাথে খুচরা মূল্যের ওপর ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের প্যাকেটের উপর ৪ (চার) টাকা পরিমাণ সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়।ফিল্টারযুক্ত ও ফিল্টারবিহীন বিড়িতে অভিন্ন মূল্য ও করভার প্রচলন করে ২০ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ এবং ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা। প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৪৮ টাকা থেকে ৬০ টাকা এবং ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা। বিড়ি, জর্দা এবং গুলের উপর এনবিআর কর্তৃক নির্ধারিত হারে সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয় কর্মশালায়। এছাড়া সকল তামাকপণ্যের খুচরা মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়।

২০২৬-২৭ অর্থ বছরে তামাক কর ও মূল্য প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে তামাক খাত থেকে পঁচাশি হাজার কোটি টাকার অধিক রাজস্ব আয় অর্জিত হবে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় চুয়াল্লিশ হাজার কোটি টাকা বেশি। প্রায় পাঁচ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবে এবং তিন লক্ষ বাহাত্তর হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে। একইসাথে দীর্ঘমেয়াদে এক লক্ষ পঁচাশি হাজার তরুণসহ তিন লক্ষ সত্তর হাজারের অধিক মানুষের অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে বলে কর্মশালায় জানানো হয়।কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ডেপুটি এডিটর সাজ্জাদুর রহমান, আত্মা’র কনভেনর লিটন হায়দার, কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ ও মিজান চৌধুরী, প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের, হেড অব প্রোগ্রামস মো. হাসান শাহরিয়ার প্রমুখ।

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD