স্টাফ রিপোর্টার : গত ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ শনিবার সকাল ১০টায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা সদরের উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরী হলরুমে “গণমাধ্যম কর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে সিরাজগঞ্জ জেলার অবস্থা পর্যালোচনা শীর্ষক” এক শেয়ারিং মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।
ডাবিøউবিবি ট্রাস্ট এর সহযোগিতায় এবং ডাবিøউবিবি ট্রাস্ট, বাটা ও পরিবর্তনের যৌথ উদ্যোগে এই মিটিং এর আয়োজন করে ট্রাস্ট ও বাটার স্থানীয় নেটওয়ার্ক পার্টনার এনজিও পরিবর্তন। শেয়ারিং মিটিংএ সভাপতিত্ব করেন তাড়াশ উপজেলা নাগরিক ফোরামের সভাপতি তাড়াশ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যাপক মফিজুল ইসলাম সেলিম। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন পরিরবর্তন এর পরিচালক আবদুর রাজ্জাক রাজু। অনুষ্ঠানের শুরুতে পরিবর্তন পরিচালক তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে সিরাজগঞ্জ জেলার রিপোর্ট কার্ড পড়ার মাধ্যমে সিরাজগঞ্জ জেলার বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন। এ পর্যায়ে তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার সার্বিক অবস্থা মনিটরিং , সুরক্ষা, সতর্কীকরণ , নিষিদ্ধকরণ ও কর বৃদ্ধির পর্যায়ে প্রাপ্ত পার্সেন্টেজ পড়ে শোনান। অনুরুপ সরকারী পর্যায়ের তথ্যানুসারে প্রাপ্ত ফলাফল, বেসরকারী উৎস সমূহ থেকে গড় প্রাপ্ত হার ও সরাসরি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে সিরাজগঞ্জ জেলার গড় হার অবস্থান উপস্থাপন করেন। এতে পরিলক্ষিত হয়, সরকারী, বেরসকারী ও সার্বিক মনিটরিং রেটিংএ তামাক নিয়ন্ত্রণে সিরাজগঞ্জের চিত্র সন্তোষজনক বটে। তবে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের অবস্থা সরাসরি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে সিরাজগঞ্জ জেলার গড় হার প্রাপ্তি ২৮ শতাংশ যা আদৌ সন্তোষজনক নয়। এর মধ্যে মনিটরিং ক্ষেত্রে প্রাপ্ত স্কোর ২০%। অর্থাৎ ঝুঁকিপূর্ণ। সুরক্ষা ক্ষেত্রে প্রাপ্ত হার ৪০% বা মাঝামাঝি অবস্থান। তামাকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্কীকরণের ক্ষেত্রে ৮০%, যা সন্তেষজনক। অবশ্য তামাকের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও পৃষ্ঠপোষকতা নিষিদ্ধকরণের ক্ষেত্রে অবস্থান ১৯% বা ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া তামাকজাত দ্রব্যের উপর কর বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ১৪% বা ঝুঁকিপূর্ণ। এর পূর্বে পরিবর্তন পরিচালক ডাবিøউবিবি ট্রাস্টও বাটার সহায়তায় ২০২৫ সালের ফেব্রæয়ারী মাসের প্রথম দিকে তাদের সংস্থা কর্তৃক সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের ১৬টি স্থানে তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ জরিপের বিষয়টি সভাকে অবগত করেন। এসময় তিনি জেলাভিত্তিক মূলায়ন প্রতিবেদনেরও হাইলাইটস পড়ে শোনান। উল্লেখ্য, সভায় অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সিরাজগঞ্জ জেলার রিপোর্ট কার্ড ও জেলাভিত্তিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনের হ্যান্ডআউটের ফটোকপি বিতরণ করা হয়।
এরপর মুক্ত আলোচনা পর্বে সাংবাদিকরে মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন, আতিকুল ইসলাম বুলবুল(সমকাল), সনাতন দাস (কালের কণ্ঠ), শফিউল হক বাবলু, (মানবজমিন), জাকির আকন (সময়ের আলো), গোলাম মোস্তফা (ইত্তেফাক), লুৎফর রহমান (নয়া দিগন্ত), সোহেল রানা সোহাগ(আনন্দ টিভি), শামীম হোসেন(ইনকিলাব), মির্জা আব্দুর রব(এশিয়ান টিভি) ও শফিকুল ইসলাম (আজকের সিরাজগঞ্জ)। সুশীল সমাজের প্রতিনিধি: অধ্যাপক মফিজুল ইসলাম সেলিম, আব্দুল মালেক (এনজিও নির্বাহী),মতিউর রহমান (সমাজসেবক)ও হোসাইন আহমাদ(ইমাম) প্রমূখ। সভায় পেশকৃত জেলাভিত্তিক মূলায়ন প্রতিবেদনে বর্ণিত সুপারিশমালা ছাড়াও বক্তাগণ স্থানীয় সরকারের বাজেটে এ সংক্রান্ত কর্মসূচি ও বাজেট বরাদ্দ রাখা, উপজেলা টাস্ক ফোর্সের সক্রিয় গতিশীলতা, সকল সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান তামাক বা ধুমপানমুক্ত ঘোষণা, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অধুমপায়ী প্রার্থীকে ভোট দেয়া, তামাক ব্যবহারকারীদের সামাজিকভাবে বয়কট করা, পাঠ্য বইয়ের শিক্ষা কারিকুলামে বিষয়টি অন্তর্ভূক্তকরণ, গণমাধ্যমে অধিক রিপোর্টিং,সকল ধর্মের মাহফিলে এর কুফল সম্পর্কে আলোচনা করা এবং বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।আলোচকবৃন্দ সিরাজগঞ্জ জেলার তামাকের এই প্রতিবেদন জেলার সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারী সকল দপ্তরে প্রদানের প্রস্তাব রাখেন। সবশেষে এই সভা থেকে সদ্যবিগত ২৪ ডিসেম্বর তারিখ ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদন হওয়ায় অন্তবর্তী সরকারকে অভিনন্দন জ্ঞাপন এবং অবিলম্বে এর গেজেট প্রকাশের দাবি জানানো হয়।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com