নাটোরে  দশদিন ধরে গৃহবধূ নিখোঁজ,থানায় অভিযোগ 

Spread the love
নাটোর প্রতিনিধি:
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বৃ চাপিলা গ্রামে এক গৃহবধূর রহস্যজনকভাবে ১০ ধরে নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় স্বামীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নিখোঁজ গৃহবধূর  মা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায় নিখোঁজ গৃহবধূ সীমা খাতুন (২২) নাটোর সদর উপজেলার পিরজী পাড়া গ্রামের মোঃ হারেজ আলীর মেয়ে এবং গুরুদাসপুর উপজেলার মৃত নূর নবীর ছেলে  মো মুক্তার আলী। তিন বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। গত১১ অক্টোবর সীমা খাতুন স্বামীর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। তাদের ঘরে একটি দেড়  বৎসরের সন্তান রয়েছে। নিখোঁজ সীমার মা শামসুন্নাহার জানান, বিয়ের পর থেকে আমার মেয়েকে বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করে  জামাই মুক্তার। গত ১০ অক্টোবর ১০ হাজার টাকা দাবিতে  আমার বাড়িতে  পাঠায় তাকে । আমার কাছে টাকা না থাকায় আমি ১০ কেজি চাল ও নগদ ২০০ টাকা দিয়ে মেয়েকে স্বামীর বাড়িতে পাঠিয়ে দিই।
পরের দিন সন্ধ্যাবেলা সীমার স্বামী মুক্তার  আমাকে ফোন দিয়ে বলল আপনার মেয়েকে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর ১০-১১ দিন পার হয়ে যাওয়ার পর আমি আমার জামাইকে বলি  আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে এটা সংবাদ সম্মেলন করি কিন্তু এতে আমার জামাই মুক্তা রাজি হয় না।
এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন মা শামসুন্নাহার  তিনি বলেন, আমার স্বামীর কিছুদিন আগে রোড এক্সিডেন্ট এ পা ভেঙে গেছে আমি তার চিকিৎসা করতে পারছিনা।  ’আমি এতই দরিদ্র যে সংবাদ সম্মেলন করতে  এসে ভেন ভাড়া দিবো সেই টাকাটা ও নাই। আমি জানি না, মেয়েটি বেঁচে আছে, নাকি মরে গেছে। ১০ দিন ধরেই বিভিন্ন জায়গায় মেয়েটিকে খুঁজতে গিয়ে হয়রান হয়ে পড়েছি আমরা। অনেক টাকাও খরচ হয়ে গেছে। কখনও খেয়ে, কখনও না খেয়ে এই টাকা যোগাড় করছি আমি।’
সংবাদ সম্মেলনে জেলা ও উপজেলার কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে গুরুদাসপুর  থানার ওসি মো দুলাল হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। মেয়েটিকে উদ্ধারের জন্য পুলিশের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।তদন্তের দোষী প্রমাণিত হলে  আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD