তাড়াশে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

Spread the love

তাড়াশ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের তাড়াশে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডবিøউবি)’র কার্ড পাইয়ে দেয়ার কথা বলে দরিদ্র তিন নারীর কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. সাইফুল প্রামাণিক। তিনি উপজেলার বারুহাস ইউনিয়ন বিএনপি কৃষকদলের সাবেক আহবায়ক, বস্তুল টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অফিস সহকারী ও বস্তুল গ্রামের মৃত দুদু প্রামাণিকের ছেলে।
গত রবিবার এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই তিন ভুক্তভোগী নারী। ভুক্তভোগী অভিযোগকারী নারীরা হলেন- উপজেলার বস্তুল গ্রামের মৃত সোবাহান মোল্লার স্ত্রী মোছা. সৌরভ বেওয়া, মো. পারুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. মর্জিনা খাতু এবং মৃত ইজ্জত আলীর মেয়ে মোছা. আবেদা বেওয়া। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বারুহাস ইউনিয়ন কৃষকদলের সাবেক আহবায়ক, বস্তুল টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অফিস সহকারী মো. সাইফুল প্রামাণিক ৫ মাস পূর্বে ওই তিন নারীকে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডবিøউবি)’র কার্ড পাইয়ে দেবার নাম করে তার বাড়িতে ডেকে আনেন। এরপর তিনি কার্ড করতে খরচ লাগবে বলে কার্ড প্রতি ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। তিন চার দিন পর ওই তিন নারী সাইফুল প্রামাণিককে ৪ হাজার টাকা করে মোট ১২ হাজার টাকা দিয়ে আসেন। কিন্তু রাজনৈতিক চাপে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডবিøউবি) প্রকল্পে ইউনিয়ন পর্যায়ে উন্মুক্ত লটারী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ওই তিন নারীর নাম না উঠায় তাদের নামে আর ভিডবিøউবি’র কার্ড হয়নি। এতে সম্প্রতি ওই নারীরা কয়েক দফায় সাইফুল প্রামাণিক কাছে গিয়ে তাদের দেয়া ১২ হাজার টাকা ফেরত চান। কিন্তু বারুহাস ইউনিয়ন কৃষকদলের সাবেক আহবায়ক ও বস্তুল টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অফিস সহকারী মো. সাইফুল প্রামাণিক সে টাকা আর ফেরত দেননি। বরং তিনি ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি দেন। এ নিয়ে গত ২১ আগস্ট বস্তুল বাজারে গ্রাম্য সালিস ডাকলেও অভিযুক্ত সাইফুল প্রামাণিক তাতে উপস্থিত হয়নি। ফলে প্রতারিত তিন নারী এর প্রতিকার চেয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তবে অভিযুক্ত বারুহাস ইউনিয়ন কৃষকদলের সাবেক আহবায়ক ও বস্তুল টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অফিস সহকারী মো. সাইফুল প্রামাণিক টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে ওই নারীরা ষড়যন্ত্র করছেন। এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগটির তদন্ত করা হবে। আর তদন্তে দোষী হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ওদিকে তাড়াশে দুঃস্থ মাতার কার্ডের তালিকাকরণে দীর্ঘদিন যাবৎ অনিয়ম ও দুর্নীতি অব্যাহতভাবে চলতে থাকলেও স্থানীয় উপজেলা মহিলা কর্মকর্তার এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ না নেয়াটা রহস্যজনক বলে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

 

 

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD