তাড়াশে ব্যক্তিগত শত্রুতার  জেরে পাঁচ পরিবারকে সমাজচ্যুত 

Spread the love
চলনবিল প্রতিনিধিঃ
সমাজের কলহ নিরসনে জনপ্রতিনিধিদের সমাধানের বিধান থাকলেও ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটছে। অসহায় ৫টি পরিবারকে ব্যক্তিগত সমস্যাকে কেন্দ্র করে নিজেদের বানানো নীতিতে তাদের সমাজচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের দেওড়া ইল্লিপাড়া এলাকায়।মসজিদে নামাজ পড়া, এলাকার কোন দোকানে বসে চা খাওয়া নিষেধসহ কেউ তাদের সঙ্গে কথা বললে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করার নিয়ম করা হয়েছে। গত ২ দিন ধরে অসহায় এ পরিবারগুলো অমানবিক জীবন যাপন করছে।
মোঃ আনিছুর রহমান বলেন,  ব্যক্তিগত শত্রুতাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন মানুষ তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এই অমানবিক কাজটি করছে। আমাদের সঙ্গে কেউ কোনো কথা বলে না, আমার বাচ্চাদের মসজিদে যাওয়া নিষেধ করেছে, এই সমাজের কেউ আমাদের সঙ্গে কথা বললে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করার নিয়ম করেছে। জরিমানার ভয়ে কেউ আমাদের সাথে কথা বলে না। আমি কিংবা আমার পরিবারের কেউ এই সমাজের কারো সাথে কথা বললে আমাদেরও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।আজিজুল হক  বলেন, সম্প্রতি আমাদের গ্রামের ঈদগাঁ মাঠ নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলছে। এই ক্ষেত্রে আমাদের গ্রামে ৪ ভাগে বিভক্ত হয়েছে। এতে ঈদগাঁ মাঠ নিয়ে ওসমান, আব্বাস ও আইজুদ্দিন মিলে আমাদের সাদা স্ট্যাম পেপারে স্বাক্ষর দিতে বলে, তাতে আমরা রাজি হইনি বলে, আমাদের সমাজচ্যুত করেন।
সমাজের কারা আপনার ওপর এই আদেশ দিয়েছে জানতে চাইলে, আব্দুর রহমান বলেন, সমাজ প্রধান আইজুদ্দি ও আব্বাস এই আদেশ দিয়েছেন, আমি অসুস্থ মানুষ সোমবার ভোরে মসজিদে নামাজ পড়তে যাই।  গিয়ে দেখি মসজিদের দরজায় তালা দেওয়া।  কয়েকজন কে জিজ্ঞেস করলে বলেন, আমাদের নাকি সামাজ থেকে একঘরে করা হয়েছে। কুরবান আলীকে বলেন, ঈদগাঁ মাঠ নিয়ে মামলা চলছে, আদালত যার পক্ষে রায় দিবে সেই পাবে এতে আমাদের স্বাক্ষর কেন লাগবে। মোঃ যশমত আলী বলেন, আমি মাঠে কাজ করে খাই কাজ শেষে গ্রামের দোকানে চা খেতে গেছি দোকানদার আমাকে চা দিবে না বলছে। আমাদের নাকি সামাজ থেকে একঘরে করা হয়েছে।আমাকে চা দিলে নাকি তাদের ৫ হাজার টাকা জরিমানা করবে। এখন আমাদেন সাথে কেউ কথা বলে না। এমত অবস্থায় আমরা এখন নিরুপায় হয়ে পড়েছি। আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করবো। স্থানীয় ইউপি সদস্য গজেন্দ্রনাথের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে দেশীগ্রাম গুরপিপল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান শ্রীঃ জ্ঞানেন্দ্রনাথ বসাক বলেন, বিষয় টি আমি এখনো জানি না। আপনার থেকে মাত্র শুনলাম। তবে বর্তমান সময়ে এমন কোন নিয়ম নেই। ঘটনা যদি সত্য হয়। অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান  জানান, কোনো ব্যক্তি বা পরিবারকে একঘরে করে রাখা আইন বহির্ভূত কাজ। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেবেন।
Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD