লুৎফর রহমান, তাড়াশ : সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এলজিইডির একটি নির্মাণাধীন ব্রিজের বিকল্প সড়ক তৈরি করায় উজানের নেমে আসা পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে ডুবে গেছে তিন ইউনিয়নের ফসলী জমি। পাশাপাশি টানা কয়েক দিনের বর্ষণে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা আরো ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। এতে উজানে থাকা রোপা আমন ধানের অসংখ্য বীজতলা ও রোপা আমনের জন্য প্রস্তুত করা প্রায় ১ হাজার ২শ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। থমকে গেছে রোপা আমন ধান লাগানোর কাজ।
এ কারণে বিক্ষুদ্ধ কৃষকেরা আঞ্চলিক সড়কের পানি প্রবাহের বাধাগ্রস্থ ওই বাঁধ কেটে দিয়েছেন দিয়েছেন। রবিবার( ৩ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে উপজেলা তাড়াশ-কাঁটাগাড়ি আঞ্চলিক সড়কের ভাদাস ব্রীজে সংলগ্ন বাঁধে ঘটনাটি ঘটে। এ দিকে ওই বাঁধটি ভেঙ্গে দেওয়ায় পানি প্রবাহের পথ উন্মুক্ত হলেও ওই সড়কে পথচারী, ট্রাক, ভ্যানসহ স্কুল কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে তাড়াশ অঞ্চলে থেমে থেমে মাঝারি ও ভারী বর্ষণ হচ্ছে। এতে উজানে থাকা উপজেলার দেশিগ্রাম, তালম, মাধাইনগর ইউনিয়নের অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি গ্রামের ফসলী মাঠে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই তিনটি ইউনিয়নের রোপা আমন ধান লাগানোর জন্য প্রস্তুত করা প্রায় ১ হাজার ২শ হেক্টর জমি ও সে জমিতে থাকা রোপা আমনের বীজতলা তলিয়ে গেছে।
ভাদাস গ্রামের কৃষক মো. আলম, ওয়াশির গ্রামের কৃষক কাওছার হোসেনসহ অনেকেই জানান, ওই তিনটি ইউনিয়নের জলাবদ্ধ পানি প্রবাহের একমাত্র স্থান তাড়াশ-কাঁটাগাড়ি আঞ্চলিক সড়কের ভাদাস ওয়াবদা বাঁধ এলাকায় একটি ব্রীজ নির্মাণের কারণে পার্শ্ব সড়কে মাত্র দুটি রিং ¯øাব বসিয়ে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু ওই স্থানটি পানি প্রবাহের জন্য খুবই সংকীর্ণ। যে কারণে উজানে বর্ষণের পানি ফুলে ফেঁপে উঠতে থাকে। যাতে করে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকার জলাবদ্ধতা সৃৃষ্টি হয়ে আসছে। জলাবদ্ধতা থেকে রোপা আমনের বীজতলা এবং জমি রক্ষায় প্রায় শতাধিক বিক্ষুদ্ধ কৃষক কোদাল, শাবল নিয়ে পানি প্রবাহের একমাত্র স্থান তাড়াশ-কাঁটাগাড়ি আঞ্চলিক সড়কের ভাদাস ওয়াবদা বাঁধ এলাকায় একটি ব্রীজের পার্শ¦ রাস্তার বাঁধ ভেঙ্গে দেয়।সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, তাড়াশ-কাটাগাড়ি আঞ্চলিক ভাদাস খালে বাঁধ দিয়ে ব্রিজ নির্মাণের কাজ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। বাঁধের ওপর দিয়ে যান চলাচলের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করলেও পানি যাওয়া-আসার সুযোগ রাখা হয়নি। এতে বাঁধের পূর্বদিকের অংশের ফসলী মাঠ ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
তাড়াশ মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মোছা. মরিয়ম খাতুন, সুরাইয়া ইয়াসমিন লিমা, রোজিনা আক্তারসহ অনেকেই জানান, ওই রাস্তাটি আমাদের কলেজে আসা-যাওয়ার একমাত্র রাস্তা। কিন্তু হঠাৎ বিক্ষুদ্ধ কৃষকেরা তাদের প্রয়োজনে বাঁধ ভেঙ্গে দিয়েছে। ফলে পথচারী, শিক্ষার্থী সহ হাজারো মানুষ চলাচল করতে না পেরে ভোগান্তির কবলে পড়েছেন। এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com