কিন্তু আমশড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি আব্দুল হামিদ নিজের একক সিদ্ধান্তে সপ্তাহে দুই একদিন ক্লিনিকে আসেন, আর বাকী দিনগুলি ক্লিনিকে আসেনা তিনি। আসলেও নির্ধারিত সময়ের আগে ক্লিনিক বন্ধ করে চলে যান বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ ১৩ বছর যাবত অদৃশ্য ক্ষমতার দাপটে একই ভাবে আচরণ বর্তমানেব করে যাচ্ছেন তিনি। সেবা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে করেন অশোভন আচরণ।পরের দিন চিত্র একটু ভিন্ন, আগের দিন ক্লিনিকে সাংবাদিক এসেছে শুনে সকাল সকাল ক্লিনিকে চলে আসেন আব্দুল হামিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সেবাগ্রহীতা বলেন, এই ক্লিনিকে এত অনিয়ম তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। বেশিরভাগ সময় এসে ঘুরে যেতে হয়, কোনো কর্মকর্তা না থাকার কারণে। এ ছাড়াও ওষুধ নিতে আসলে ঠিক মতো পাওয়া যায় না।
আমশড়া গ্রাম থেকে সেবা নিতে যেতেন এজমা ও ডাণ্ডা জনিত এক নারী রোগী সূর্য বেগম। তিনি বলেন, আমি এজমা ও ডাণ্ডা জনিত রোগের ঔষুধ তুলতে আজ দিয়ে ৩ দিন এলাম একই অবস্থা কমিনিটি ক্লিনিক ঘরের তলা দেওয়া বন্ধ পেলাম। আরেক ভুক্তভোগী শাহানাজ স্বপ্না জানান, ‘এই ক্লিনিকে এত অনিয়ম আর কোথাও আছে কিনা সেটা আমার জানা নেই। এখানে গেলে ঠিক মতো ঔষধ দিচ্ছে না, দিলেও দাম দ্বিগুণ করে নিচ্ছে। এ ছাড়াও তার মুখের ভাষা খুব খারাপ।সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ রাখার বিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে হলে সিএইসিপি আব্দুল হামিদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে সুবিধা সময়ে তার সাথে এই বিষয়ে কথা হলে তিনি এই প্রতিনিধিকে জানান, এই অভিযোগ মিথ্যা অস্বীকার করে তিনি বলেন, অনেক অসময় অসুস্থ বিশেষ কারণে আসা হয় না। তখন হয়তোবা অনেকে এসে ঘুরে যান। তবে তাদের অভিযোগ সত্য নয়।এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে আব্দুল হামিদ গত ১৩ বছর ধরে আমশড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি হিসেবে আছেন। প্রান্তিক পর্যায়ে মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়, তবে সিএইচসিপি আব্দুল হামিদ দায়িত্বশীল কিছু লোকের দায়িত্বহীন কাজের জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার মান নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করেন সচেতন মহল।এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম আব্দুল হামিদ ঠিক মতো অফিস করে না। এর আগে কখনো এমন অভিযোগ কেউ করেনি। আমরা যারা ভিজিটে যাই তার হাজিরা খাতা চেক করবো। সে নিয়মিত অফিস করে কিনা। সরকারি কাজে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নাই। যদি ঘটনা সত্যি হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com