বৃষ্টি হলেই মুখে হাসি ছাতা মেরামতকারীর

Spread the love
 ফারুক আহমেদঃ
বৃষ্টির সময় ছাতা মেরামতের জন্য বেড়ে যায় গ্রাহকের সংখ্যা। 

আজ কয়েক দিন ধরে সিরাজগঞ্জ বিভিন্ন এলকায়  মেঘলা আকাশ, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি।  আর বৃষ্টি মানেই এখন জনজীবনে ভোগান্তি।  তবে বৃষ্টির দেখা পেয়ে ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠলো মো. নজীর আহাম্মাদের। কেননা নজীর আহাম্মাদ পেশা একজন ছাতা মেরামতকারী। ভাঙা ছাতা ঠিক করেই সংসার চলে তার। বৃষ্টি হলেই বেশিরভাগ মানুষ ছাতা ব্যবহার করেন।   ফলে বৃষ্টির সময় ছাতা মেরামতের জন্য বেড়ে যায় গ্রাহকের সংখ্যা।  এজন্য বৃষ্টিস্নাত দিন মানে নজীর আহাম্মাদের জন্য হাজার টাকা আয় আর ভালোমন্দ খাওয়া দাওয়া। বুধবার  (০৯ জুলাই) রায়গঞ্জ, তাড়াশ, উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে কাজ শেষে সে সলঙ্গা থানার আমশড়া জোরপুকুর  বাজারে বেলা ১২টার দিকে লেটন ফেকসিল্ট দোকান ও আশরাফ আলীর মার্কেটের সামনে ছাতা মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন নজীর আহাম্মাদ।এরই ফাঁকে জানালেন, তার গ্রামের বাড়ি তাড়াশ উপজেলার মঙ্গবাড়িয়া। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই তিনি বছরে আট মাস জেলার বিভিন্ন হাট বাজার ও গ্রাম- গঞ্জে এবং শহর বন্দরের অলি গলিতে ছাতা মেরামত করে থাকেন। তিনি এই প্রতিনিধিকে বলেন,  বছরের বাকি ৩  মাস সময় গ্রামের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করেন। নজীর আহম্মাদ আরো  বলেন, বৃষ্টি হলেই ছাতা মেরামতের জন্য গ্রাহকের সংখ্যা বাড়ে। নতুবা তেমন একটা আয় হয় না। বৃষ্টি থাকলে এক জায়গায় বসে থাকলেই গ্রাহকের সংখ্যা বাড়তে থাকে। দিনে ৮০ থেকে ৯০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে হাজার দেড়েক টাকা আয় করতে পারি। আর বৃষ্টি না হলে ছাতা মেরামতের জন্য মানুষের ঘরে ঘরে যেতে হয়। তখন ৬০০ টাকাও আয় করতে পার ‘বর্ষা মৌসুমে মানুষ ছাতা মেরামত করতে আসলেও অন্যসময়ে তেমন একটা আসে না।  তাই বৃষ্টি হলেই খুশি লাগে। কেননা বৃষ্টিতে আমাদের আয়নজীর আহম্মাদের কাছে ছাতা মেরামত করতে এসেছিলেন সংবাদিক ফারুক আহমেদ তিনি বলেন, তিন-চারদিন থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি পড়ছে। মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বাসায় থাকায় তিনটি ছাতার মধ্যে দুটোই নষ্ট হওয়ায় ঠিক করতে নিয়ে এলাম।আমশড়া বাজারে ঘুরতে আসা আব্দুল  কাদের বৃষ্টি  দেখে নতুন আর একটি ছাতা ক্রয় করে নিয়ে গেলেন।  বাজার  করতে আসা আব্দুল মজিদ ভাঙ্গা ছাতা ঠিক করতে এসেছিলেন। আব্দুল মজিদ জানান, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি থাকায় বাসা থেকে ছাতা নিয়ে বের হয়েছিলাম। পথে হঠা‍ৎ ছাতার একটি শিক ভেঙ্গে গেছে। তাই এখানে ঠিক করতে নিয়ে এসেছি। একটি শিক ঠিক করতেই ২০ টাকা নিয়েছে। তবুও অনেক ভাল। কেননা এ মুহূর্তে নতুন ছাতা কেনাতো সম্ভব না ছাতার মেরামতকারীরা শিক ঠিক করতে নিচ্ছেন প্রতিটিতে ২০থেকে ৩০ টাকা, শিকের সাথে লাগানো কাপড় সেলাই করতে ১০ থেকে ২০ টাকা এবং ছাতার বিভিন্ন অংশ ঠিক করতে নিচ্ছেন ৬০ থেকে ৭০ টাকা করে। এদিকে বর্ষা মৌসুমে ছাতা মেরামতের পাশাপাশি নতুন ছাতা বিক্রিও বেড়েছে। দোকানিরাও বর্ষা মৌসুমের আগেই বিভিন্ন ডিজাইনের ছাতা বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন। যা প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে।

 

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD