উল্লাপাড়া আউস আমনের বেশী ফলনের বিজ বপন

Spread the love
ডাঃ আমজাদ হোসেন উল্লাপাড়া প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় এখন কৃষকেরা বেশি হারে ফলনশীল আউশ ধান ফসলের আবাদ করছেন। বিভিন্ন এলাকায় মাঠে এর চারা লাগানো প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। এরই মধ্যে আউশ ধান আবাদের লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এদিকে কৃষকেরা বন্যার পানিতে কোনো ক্ষতি হয় না এমন জাতের আমন ধানের আবাদে চারা লাগাচ্ছেন। আবার বোনা আমনের আবাদে ধান বীজ ছিটিয়ে বোনা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানানো হয় গোটা উপজেলায় এবারের মৌসুমে ২৪৫ হেক্টর পরিমাণ জমিতে আউশ ধান ফসল আবাদের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে। সেখানে এখন অবধি প্রায় ২৫০ হেক্টরে আবাদ হয়েছে। এরই মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ হেক্টর বেশি পরিমাণ জমিতে এর আবাদ হয়েছে। এর পরিমাণ আরো কিছু বাড়তে পারে বলে ধারণা বিষয় জানানো হয়। কৃষকেরা জমিতে চারা লাগিয়ে এখন আউশ ধান আবাদ করেন। উপজেলার কয়ড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠসহ আরো বিভিন্ন এলাকার মাঠে কৃষকেরা বেশি হারে ফলনশীল আউশ ধান আবাদ করেছেন। এর কয়েকটি জাত হলো- ব্রি ধান ৪৮. ব্রি ধান ৮২. ব্রি ধান ৮৫. ব্রি ধান ৯৮. ব্রি ধান ১০৬. বিনা ধান ১৯ ও বিনা ধান ২১। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষি প্রণোদনায় ২৫০ জল কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে ধান বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিজন কৃষককে পাচ কেজি করে ধান বীজ, রাসায়নিক সার এমওপি দশ কেজি ও দশ কেজি করে ডিএপি সার দেওয়া হয়েছে।
এবারের মৌসুমে উপজেলায় ১১ হাজার ৫১০ হেক্টর পরিমাণ জমিতে আমন ধানের আবাদের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে। উপজেলার পূর্ণিমাগাতী ইউনিয়নের বামনঘিয়ালা মাঠের আবাদী জমি বন্যার পানিতে সহজেই তলিয়ে যায় এমন মাঠে কৃষকেরা আমন ধান চারা লাগাচ্ছেন। পুরো মাঠ জুড়ে বোরো (ইরি) ধান ফসল ছিলো। সে ফসল কাটার পর এখন কৃষকেরা আমন ধানের আবাদ শুরু করেছেন। বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় এমন মাঠে সাধারণত বোনা আমন ধানের আবাদ করা হয়ে থাকে। বন্যা মৌসুম শুরুর আগে বোনা আমন ধান ছিটিয়ে বোনা হয়। পরে সে ধান বন্যার পানির সাথে তাল মিলিয়ে বেড়ে ওঠে। অনেক এলাকায় কৃষকেরা জমিতে বোনা আমন ধানের আবাদে বীজ ধান ছিটিয়ে বুনেছেন। বামনঘিয়ালা মাঠে কৃষকেরা আমন এর আবাদে জমিতে হালচাষ পর ধান চারা লাগাচ্ছেন।
বামনঘিয়ালা গ্রামের কৃষক আঃ মান্নান প্রামাণিক এই প্রতিবেদককে বলেন, বন্যার পানিতে কোনো ক্ষতি হয় না এমন জাতের আমন ধান চারা তিনি জমিতে লাগাচ্ছেন। বন্যার পানির সাথে তাল মিলিয়ে এ ধান গাছ বেড়ে উঠে। আর ফলনের হার ভাল ও আবাদে খরচ কম হয়। তিনি গত মৌসুমে প্রথম এর আবাদ করেছিলেন। একই মাঠে এলাকার আরো কৃষক আমন জাতের ধান আবাদ করেছিলেন। তিনি এবারে নিজ সংরক্ষণের ধানে বীজতলা করেন। এখন সে চারা জমিতে লাগাচ্ছেন। তিনিসহ আরো কয়েকজন কৃষক বলেন এর আবাদে হালচাষ করে জমিতে কোনো রাসায়নিক সার না দিয়ে চারা লাগানো হচ্ছে। ধান চার লেগে সবুজ হয়ে উঠলে এক দফা কম পরিমাণ রাসায়নিক সার দেওয়া হবে। জমিতে সেচ মেশিনে পানি সেচ দিতে হবে না। বন্যার আর বৃষ্টি বাদলের পানিতে ধান বেড়ে উঠা , ছড়া বের হওয়া সবই হবে। আর কোনো খরচ করতে হবে না। এক বিঘা জমিতে হালচাষ , মজুরী বাবদ এখন প্রায় তিন হাজার টাকা খরচ হচ্ছে বলে জানান। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠে রোপা আমন ধানের আবাদ করা হবে। আগাম করে আবাদে অনেক এলাকায় কৃষকেরা বীজতলা করার জায়গা ঠিক করে রাখছেন বলে জানা গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী বলেন, বেশি হারে ফলনশীল আউশ ধান আবাদ অনেক এলাকায় কৃষকেরা করছেন। তার অফিসের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ মাঠ পর্যায়ে এর আবাদে কৃষকদেরকে পরামর্শ দিচ্ছেন। আউশ ধান ফসলের আবাদকারী কৃষক বাড়ছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকেরা বন্যার পানিতে ক্ষতি হয় না স্থানীয় এমন জাতের বোনা আমন ধান আবাদ করে থাকেন। এদিকে রোপা আমন ধানের আবাদে কৃষি প্রণোদনায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক এক ৪০০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে রোপা আমন ধান বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে
Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD