নাটোর-৪ আসনে উন্নয়নের বড় চ্যালেঞ্জগুলো দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন
-ব্যারিষ্টার আবু হেনা মোস্তফা কামাল রঞ্জ
আবুল কালাম আজাদ।।
২০২৪ এর জুলাই –আগষ্টের ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গন অভ্যুত্থানে ৫ আগষ্ট ফ্যাসিষ্ট আওয়ামি সরকার পতনের পর গ্রামিন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নোবেল লরিয়েট প্রফেসর ডঃ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তরবর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহন করার পর চলছে দেশ ও আইনের সংস্কার এবং একটি গ্রহনযোগ্য নির্বাচ্ন অনুষ্ঠানের প্রস্ততি। দেশের একাধিকবার সরকারে ক্ষমতায় থাকা বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ( বিএনপি) সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অবিলম্বে নির্বাচন দিয়ে রাজনৈতিক নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপে রেখেছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো জোরেসোরে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন।নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম) এর সাবেক সংসদ সদস্য দানশীল, প্রকৃত শিক্ষানুরাগী ও শিক্ষাবিদ, সমাজসেবক, রাজনীতিবিদ, গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রামের উন্নয়নের রুপকার মরহুম মোজাম্মেল হক এর জৈষ্ঠ্য পুত্র আগামীর তরুন জনপদের তরুন নেতা নবগঠিত নাটোর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য এবং আগামীতে ধানের শীষের সম্ভাব্য প্রার্থী প্রফেসর ব্যারিষ্টার আবু হেনা মোস্তফা কামাল রঞ্জ ।ব্যারিষ্টার রঞ্জুর পিতা মোজাম্মেল হক আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা সাউথ এশিয়ান পার্টনারশীপ ( স্যাপ )বাংলাদেশ- এর সাবেক কান্ট্রি ডিরেক্টর ,জাতীয় এনজিও কমিউনিটির সংগঠন এডাব এর সাবেক চেয়ারম্যান এবং বেসরকারি সংস্থা এনডিএফ-এর ডিরেক্টর ছিলেন। তিনি ১৯৯১ সালে বিএনপির ধানের শীষে মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করেন এবং ২০০১ সালে বিএনপির মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচন করে এমপি নির্বাচিত হন নাটোর -৪ ( গুরুদাসপুর- বড়াইগ্রাম) আসনে । রঞ্জুর মরহুম পিতা এই দুই উপজেলায় বহু শক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং অবকাঠামো উন্ননে অনুদানদিয়ে শিক্ষার আলো জ্বালিয়েছেন। ২০২৩ সালের ১২ জানুয়ারি হঠাত ষ্ট্রোক করে অকাল মৃত্যুবরণ করেন ।মোজাম্মেল হক এর মৃত্যুর পর জনগনের অনুরোধে তাঁর জৈষ্ঠ পুত্র ব্যারিষ্টার আবু হেনা মোস্তফা কামাল তাঁর শুন্য নেতৃত্বের হাল ধরে ধানের শীষে নির্বাচন করার প্রত্যাশায় গনসংযোগ করছেন।
জাতীয় নির্বাচনী আসন- ৬১ নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম) এর উন্নয়নের পথে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যেগুলো দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন বলে মনে করন নব গঠিত নাটোর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম) আসনের বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ব্যারিষ্টার আবু হেনা মোস্তফা রঞ্জ।এই আসনের উন্নয়নে তাঁর পিতা বিএনপির সাবেক এমপি মরহুম মোজাম্মেল হকের রেখে যাওয়া অসম্পুর্ন কাজগুলি জনগন ও তরুন প্রজন্মকে সাথে নিয়ে অগ্রধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করবেন বলে সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুকে নিজস্ব আইডিসহ বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে সমস্যা, সম্ভাবনা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন ।
রঞ্জু তার দেওয়া পরিসংখ্যানে জানান,এই দুই উপজেলার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অবকাঠামোর দুর্বলতা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ অঞ্চলের মাত্র ৪০% গ্রামীণ রাস্তা পাকা, ফলে বাকি অংশ বর্ষার সময় কর্দমাক্ত হয়ে যানবাহন ও জন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে বড় বাধা তৈরি হয়। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক গবেষণায় দেখা গেছে, গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রামের ৬০% ড্রেনেজ ব্যবস্থা অপ্রতুল, যার ফলে প্রায়ঃশই জলাবদ্ধতা হয় ও ফসলের ক্ষতি হয়। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগের অবস্থাও ভালো নয়— জাতীয়ভাবে ৯৯% বিদ্যুতায়ন নিশ্চিত হলেও এ এলাকায় প্রায়ই লোডশেডিং হয়। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (BTRC) তথ্য অনুযায়ী, উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা পান মাত্র ২৫% পরিবার।
তিনি বলেন, উন্নত অবকাঠামো ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারিত হবে না, বিনিয়োগ আসবে না, ফলে দারিদ্র্য আরও বাড়বে। তাই রাস্তা, ড্রেনেজ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি, যা এলাকার অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে।
নাটোর-৪-এর অর্থনীতির মেরুদণ্ড কৃষিখাত, যেখানে প্রায় ৬৫% জনগণ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। কিন্তু কৃষি উৎপাদনশীলতা তুলনামূলক কম—জাতীয় গড় যেখানে প্রতি হেক্টরে ৪.১ টন, সেখানে নাটোরে তা মাত্র ২.৮ টন। গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রামে মাত্র ৩০% জমিতে আধুনিক সেচ সুবিধা আছে, ফলে কৃষকরা প্রকৃতির ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন। বাজার ব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্যের কারণে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পান না; বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৭০% কৃষক বাজারদরের চেয়ে কম মূল্যে তাদের পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হন।
কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের কৃষী সেক্টরের উন্নয়ন বিষয়ে বলেন, সেচ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, উন্নত কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকদের জন্য সহায়ক বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুললে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। কৃষিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে উৎপাদনশীলতা ৩০% থেকে ৫০% বাড়ানো যেতে পারে, যা কৃষকদের আয় ও জীবনমান উন্নত করবে।
নাটোর-৪-এর অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন । এখানে সাক্ষরতার হার মাত্র ৫৮%, যেখানে জাতীয় গড় ৭৫%। ইউনিসেফের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রামে ৩৫% শিক্ষার্থী মাধ্যমিক স্তর শেষ করার আগেই ঝরে পড়ে, যার প্রধান কারণ দারিদ্র্য ও শিক্ষা-সুবিধার অভাব। পাশাপাশি, এ অঞ্চলের মাত্র ১০% যুবক কোনো ধরনের পেশাগত প্রশিক্ষণ পায়না, ফলে তারা ভালো চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।
শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ করলে বেকারত্ব কমবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং তরুণরা আত্মনির্ভরশীল হতে পারবে। কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো হলে বেকারত্ব ১৫% পর্যন্ত কমানো সম্ভব, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও গুরুতর ঘাটতি রয়েছে। এখানে প্রতি ১০,০০০ মানুষের জন্য মাত্র ১টি হাসপাতালের বেড রয়েছে, যেখানে জাতীয় গড় ৬টি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রামের ৪০% পরিবার বিশুদ্ধ পানি পায় না এবং ৫০% পরিবারের স্যানিটেশন ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত। মাতৃমৃত্যুর হারও এখানে বেশি—প্রতি ১ লাখ শিশুজন্মে ১৯৬ জন মায়ের মৃত্যু হয়, যেখানে জাতীয় গড় ১৭৩।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে হাসপাতাল ও ক্লিনিক বাড়ানো, গ্রামে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন হলে মাতৃমৃত্যু ৩০% হ্রাস পেতে পারে এবং জনস্বাস্থ্য অনেকাংশে উন্নত হবে।
বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের হারও জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, নাটোর-৪-এ যুব বেকারত্বের হার ১২%, যেখানে জাতীয় গড় ১০%। গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রামে দারিদ্র্যের হার ৩৫%, যা দেশের গড় (২০%) থেকে অনেক বেশি। ফলে এলাকার তরুণরা কাজের সন্ধানে শহরে চলে যেতে বাধ্য হয়, যা স্থানীয় জনশক্তির ক্ষতি করছে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসার, নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। পরিকল্পিত উন্নয়ন হলে নাটোর-৪-এ আগামী পাঁচ বছরে কমপক্ষে ৫,০০০ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব।
পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের দিক থেকেও এ অঞ্চল ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। গত দশকে নদী ভাঙনের ফলে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমি বিলীন হয়েছে, যার ফলে ১,০০০-এর বেশি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। গত পাঁচ বছরে বৃক্ষের পরিমাণ ১৫% কমে গেছে, যা মাটির ক্ষয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে আরও তীব্র করে তুলছে।
নদীতীর রক্ষা, বনায়ন বৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আগামী দিনে এই সমস্যা আরও প্রকট হবে। তাই টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ নিতে হবে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুর্বলতাও নাটোর-৪-এর উন্নয়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নাটোর দেশের শীর্ষ ১০টি দুর্নীতিগ্রস্ত জেলার মধ্যে একটি। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (CPD) গবেষণায় উঠে এসেছে, নাটোর-৪-এর মাত্র ২০% মানুষ মনে করেন যে তারা স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত।
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য দুর্নীতি প্রতিরোধ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা হলে জনগণের আস্থা বাড়বে এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা নিশ্চিত হবে।
উন্নয়নের এই রূপরেখা বাস্তবায়নের জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা দরকার। অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষির আধুনিকায়ন, শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। এসব উদ্যোগ শুধু নাটোর-৪-এর অর্থনৈতিক উন্নয়নই নয়, বরং সামগ্রিক জীবনমান উন্নত করবে।
ব্যারিষ্টার রঞ্জ রাজনৈতিকভাবে এই বার্তাগুলো জনগণের কাছে পৌঁছানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মিডিয়াকে অনুরোধ করেণ।তিনি বলেন,” আমার বাবার (সাবেক সাংসদ মোজাম্মেল হক ) নেতৃত্বে কী কী উন্নয়ন হয়েছিল, তার নির্ভরযোগ্য তথ্য তুলে ধরতে হবে, যাতে জনগণ বুঝতে পারেন, আমাদের পরিবার সবসময় এই এলাকার উন্নয়নে নিবেদিত ছিল। জনগণের মতামত সংগ্রহ করা হবে, যাতে তাদের চাহিদার ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করা যায়। তরুণ ও নারীদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে, কারণ তারা এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ।“
রঞ্জ দৃড়তার সাথে বলেন, “সাস্টেইনেবল উন্নয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে পরিচালিত একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে জনগণ আমাদের অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট পান। এই উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে নাটোর-৪-এ টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব, যা শুধু আমার বাবার রাজনৈতিক আদর্শকে সম্মান জানাবে না, বরং গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রামের মানুষের জন্য একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে।“
# আবুল কালাম আজাদ, প্রবীন সাংবাদিক ও কলামিষ্ট, উপদেষ্টা, চলনবিল প্রেসক্লাব, গুরুদাসপুর, নাটোর, ০১৭২৪ ০৮ ৪৯ ৭৩, ১৬/৩/২০২৫ #
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com