প্রসঙ্গ – নৈঋদ্ধ ও কিছু কথা

Spread the love

মোঃ আবুল কালাম আজাদ

ঐতিহাসিক চলনবিলের প্রাণকেন্দ্র নাটোরের  গুরুদাসপুর উপজেলার পৌরসদরে অবস্থিত রোজী মোজাম্মেল মহিলা অনার্স ডিগ্রী কলেজ এর তিনদশক পূর্তি ও পূনর্মিলনী  উতসব-২০২৫  গত ৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার কলেজ  ক্যাম্পাসেই জাকজমকভাবে পালিত হলো। কলেজের ভবনও দর্শনীয় আলোকসজ্জা করা হয় সপ্তাহ ব্যাপী।  এজন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করতে চাইনা। তিনদশক পূর্তি ও পূনর্মিলনী  উতসব-২০২৫  এর শ্লোগান ছিল , “ এসো আজ সবে প্রাণের স্পন্দনে,ফিরে যাই মোরা স্মৃতির বন্ধনে”। কলেজের তিনদশকের  প্রানের স্পন্দনের স্মৃতি ধরে রাখতে বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক বাংলা বিভাগের  প্রধান , সহকারি  অধ্যাপক  মোঃ রুহুল করিম আব্বাসীর সম্পাদনায় সুন্দর ঝকঝকে মালটি কালার কভার পেজসহ ৮৪ পৃষ্ঠার সপুর্ন রংগিন একটি স্যুভেনির প্রকাশ করেছে ।সুভ্যেনির এর নাম দেওয়া  হয়েছে “ নৈঋদ্ধ”। যার অর্থ- প্রবুদ্ধ,চেতনাপ্রাপ্ত ,  জাগরিত ( বিশেষন পদ ),  আবার কোন কোন ক্ষেত্র এর অর্থ -বিনয়ী।প্রকাশিত নৈঋদ্ধের  যে লোগো দেওয়া হয়েছে তাতে ধরে নিতে পারি লোগোর শুরু থেকে চারটি প্রবাহের প্রথম ধাপ প্রবুদ্ধ, ২য় ধাপ, চেতনাপ্রাপ্ত , ৩য় ধাপ জাগরিত এবং ৪র্থ ধাপ বিনয়ী। এ খেত্র নৈঋদ্ধ নামকরনের সার্থকাতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। যিনি পত্রিকার নমকরন করে ছেন তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আর কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ স্যুভেনিরের জন্য বাংলাভাষার দুর্ভিক্ষের সময় ‘ নৈঋদ্ধ’ নামকরণ অনুমোদন দেওয়ার জন্য।এ ক্ষেত্র অনেক বুদ্ধির পরিচয় দাওয়া হয়েছে।

কভার পেজের  উপড়ে একাডেমিক মূল ভবনের ছবি কলেজের মনোগ্রাম ও নাম দিয়ে বহু রংগের প্রচ্ছদ সুন্দর আকর্ষনিয় হয়েছে। এজন্য প্রচ্ছদ অলঙ্করণ ও গ্রাফিক ডিজাইনার আরিফ মিলনকে ধন্যবাদ দিতেই হয়।প্রচ্ছদ পেজে তিনদশক পূর্তি( ১৯৯৪ -২০২৫) দিলে মনে হয় পাঠকের বুঝতে সহজ হোত।পত্রিকায় প্রকাশকের নাম এবং ডিজিটাল যুগে  যোগাযোগের জন্য ফোন / মোবাইল/ হট নম্বর, মেইল নম্বর, হোয়াটস আপ নম্বর , ফেসবুক আইডি বা ওয়েব সাইড নম্বর না থাকাটা দুঃখজনক। থাকলে জরুরি প্রয়োজনে যে কেউ যগাযোগ করতে পারতেন। আমি নিজেই পারিনি। সম্পাদক এবং অধ্যক্ষ এবং প্রধান উপদেষ্টা অর্থাৎ কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতির যোগাযোগ নম্বর থাকাটা অবশ্যই জরুরি ছিল।এখানে অপরিপক্কতার পরিচয় দেওয়া হহেছে।

প্রচ্ছদের ২য় পৃষ্ঠায় ‘ তুমি রবে নিরবে—-‘ শিরোনামে  প্রতিষ্ঠাতা এম মোজাম্মেল হকের  ছবিসহ  জীবনবৃত্তান্ত  দেওয়া হয়েছে। এতে জন্মসূত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতা ,অর্জনসমুহ  এবং সংক্ষিপ্ত জীবনীতে মোজাম্মেল হকের প্রায়  সবকিছুই তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো ,একজন মোজাম্মেল হকের মত উচ্চতর ব্যাক্তিত্বকে কী শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা ফলাও করে তুলে ধরে তাঁর সোনালি কর্মময় ব্যাক্তিত্বকে অবমূল্যায়ন করা হলোনা? তাঁর প্রতিষ্ঠিত  কলেজ , হাইস্কুল, প্রাইমারি স্কুল, কারিগরি  প্সতিষ্ঠান , চক্ষু হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের উল্লেখযোগ্য কিছু প্রতিষ্ঠানের  নামএবং প্রতিষ্ঠার সন  দিলে বর্তমান প্রজন্ম  তাঁর সম্পর্কে শ্রদ্ধাবন্ত হোত। উল্লেখ থাকে যে, রোজী মোজাম্মেল  মহিলা কলেজ বাদে আর সব প্রতিষ্ঠান করেছেন রাজনীতিতে আসার আগেই ( ১৯৯০ সালে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেনা। ১৯৯১ সালে নাটোর-৪ ( বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর ) আসন থেকে বিএনপি থেকে ধা নের শিষ প্রতিক নিয়ে সংসদ সদস্য  পদে নির্বাচন করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির এমপি নির্বাচিত হন)। যতগুলি প্রতিষ্ঠান করেছেন তার  ৯৮ ভাগই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।  এছারাও তিনি অত্র কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ্য এবং বেসরকারি  গনস্বাস্থের  গন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। এজন্য আমরা মোজাম্মেল হককে একাধারে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিক্ষানুরাগি  এবং সমাজকর্মী অকৃপন ভাবে বলতে পারি। মোজাম্মেল হক স্যাপ এর  শুধু কী  ডিরেক্টর ছিলেন? এক কথায় না! তিনি ছিলেন South Asian Partnership ( SAP ) বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর। ইংরেজিতে SAF হবেনা , সঠিক বানান হবে  ‘SAP Banglades. এ ভুল  কাম্য নয়। SAP .NDF & ADAB এর দায়িত্ব পালনের সময়কাল লিখলে তথ্যবহুল   হতো।মোজাম্মেল  হক ছিলেন একজন এনজিও সেক্টরের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যাক্তিত্ব এবং দাতা।

কভার পেজের পর থেকে ১ম  পৃষ্ঠায় প্রধান পৃষ্ঠপোষক সেলিনা পারভীন বানুর স্থলে  সেলিনা পারভীন বানু (রোজী)  লিখলে  তাঁর প্রতিষ্ঠিত রোজী মোজাম্মেল  মহিলা কলেজের নামকরনের পরিচিতি স্বার্থক হতো বলে আমি মনে করছি।তিনদশক পুর্তির শহীদ উদ্দীন আহমেদ এর  থিম কবিতা সুন্দর হয়েছে।  ২য় পৃষ্ঠায় এক নজরে রোজী মোজাম্মেল কলেজ পরিচিতিতে কলেজের ছবি, প্রতিষ্ঠাকাল,প্রতিষ্ঠাতা , দাতা, প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, এবং উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক , ও অনার্স এর অধিভূক্তির তারিখ দেওয়ায় আইনগত স্বচ্ছতা   ব্যক্ত করে ভালো করেছে। এজন্য ধন্যবাদ। কিন্তু এই পেজে  বা অতিরিক্ত পেজ সংযুক্ত করে  কলজের শ্রেনিকক্ষ,শিক্ষকদের কক্ষ,প্রশাসনিক  কক্ষ, হোষ্টেল এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য কিছু ছবি দিলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি শিক্ষার্থি , অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে গ্রহনযোগ্যতা বৃদ্ধি পেত।

স্যুভেনির এ ৩ থেকে ১৪ পৃষ্ঠা ১২ টি বানী স্থান পেয়েছে। মূল্যবান বানী দিয়ে স্যুভেনিরটির সমৃদ্ধি  বৃদ্ধি  করেছে- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মোঃ সাইদুর রহমান, জাতীয়  বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক মোঃ আব্দুল হাই সিদ্দিক সরকার, অত্র কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা  রোজী মোজাম্মেল,রিভার রিসার্স ইনষ্টিটিউটের  ডিরেক্টর জেনারেল মোঃ সাজিদুর রহমান সরদার, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি কলেজ পরিদর্শক মোঃ ইসমাইল হোসেন,উপজেলা নির্বাহি অফিসার  ফাহমিদা আফরোজ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের সহকারি পরিচালক মঃ আলমাস উদ্দিন,কলেজের সভাপতি  ও প্রতিষ্ঠাতা  রজী মোজাম্মেলের  বড় ছেলে প্রফেসর ব্যারিষ্টার আবু হেনা মোস্তোফা কামাল রঞ্জু, অধ্যক্ষ মোঃ মাহতাব উদ্দিন এবং স্যুভেনিয়র প্রকাশনা উপ পরিষদের উপদেষ্টা এ এইচ এম একরামুল হক খোকন।প্রশ্ন হচ্ছে সাজিদুর রহমান সরদার রিভার রিসার্স ইনষ্টিটিউটের এখনও কী Director Genarel আছেন ? জানতে চাইলে ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি নিজেই  জানিয়েছেন সাবেক ডিরেক্টর জেনারেল ছিলেন।  Ex Director Genarel লিখতে হোত।    কলেজের তিনদশক পূর্তি ও পুনর্মিলনী -২০২৫ বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক তাঁর সফলতা ব্যর্থতার কৈফিয়ত দিয়েছেন বিনয়ের  সাথে। আহবায়কের সবিনয়ী কৈফিয়তের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তবে  আহবায়ক রুহুল করিম আব্বাসী  তুহিনের কাছে সবিনয়ে  জানতে  ইচ্ছা করছে, অপনি একজন কৃতি সাহিত্যিক, আপনার সম্পাদনায় প্রকাশিত এই নৈঋদ্ধ  স্যুভেনিরে সম্পাদকীয় এবং একটি ভূমিকা না থাকা যথাযথ হয়েছে কী?

কলেজের প্রতিষ্ঠান প্রধান অধ্যক্ষ পদাধিকার ক্ষমতায়  সার্বিক কর্মকান্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেই ক্ষেত্রে প্রকাশনা সম্পাদক পরিষদেরও তিনিই সভাপতি থাকবেন । কিন্তু  সম্পাদনা পরিষদের  প্রধান পৃষ্ঠপোষক, প্রধান উপদেষ্টা , সম্পাদক, সম্পাদনা পর্ষদের নাম আছে অথচ সম্পাদক পর্ষদের সভাতির নাম নাই। এখনে প্রতিষ্ঠান প্রধান অধ্যক্ষ পদকে অবমূল্যায়ন করা হয়নি কী? নাম  থাকলে আবশ্যই মহাভারত অশুদ্ধ হোতনা ।মোঃ রুহুল করিম আব্বাসী ( তুহিন) তিনদশক পূর্তি অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক  আবার প্রকাশনা সম্পাদক এবং এ এইচ এম একরামুল হক খোকন প্রকাশনা উপ পরিষদের উপদেষ্টা  হিসেবে বানী দিয়েছেন আবার  সম্পাদনা পর্ষদেও আছেন  যা প্রমান করে তারা ছাড়া কলেজের  আর কোন দক্ষ শিক্ষক/ শিক্ষিকা  নাই। এছাড়া সম্পাদক রুহুল করিম আব্বাসী নিজের পূর্ণ নাম  গোপন করে তুহিন আব্বাসী নাম দিয়ে আসন কবিতা  না ছাপিয়ে অন্যকে সুযোগ  দিয়ে উতসাহিত করা যেত। এখানে সম্পাদক নিজেকে প্রাধান্য দিয়ে  কার্পন্য  করেছেন। আমরা জানি তুহিন  গুনী কবি ও সাহিত্যক।

১৬ পৃষ্ঠায় মৃত ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী দের তালিকায়  মৃত্যু এবং অবসরের তারখ দিলে  তথ্যবহুল হোত।১৭ পৃষ্ঠা থেকে ২৪ পৃষ্ঠা পর্যন্ত সম্মানিত শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দের  তালিকা দেওয়া হয়েছে। তালিকায় মোট ৯৫ জনের নাম আছে। সম্মানিত শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দের  তালিকায় কীভাবে পিয়ন, আয়া, নৈশ প্রহরী্‌ অফিস সহকারির নাম স্থান পায় আমার বোধগম্য নয়। তাছাড়া ২০ জনের ছবি না  থাকার হে্তুইবা কী ?জানতে ইচ্ছা করে।

২৫ পৃষ্ঠা থেকে ৪৯ পৃষ্ঠা পর্যন্ত ১৯৯৬ থেকে ২০২৫ সন পর্যন্ত এইচ এস সি ব্যাচ  এবং ৪৯ -৫৬ পৃষ্ঠায় ২০২৪-২০২৫ সেশন ও RMWC শিক্ষার্থীদের ছবিসহ তালিকা  ছাপা হয়েছে।  তবে তালিকার ছাত্রীরা অধ্যয়নরত ছিল, নাকি পরিক্ষা দিয়েছিল , নাকি পাশ করেছে তা উল্লেখ করলে সঠিক তথ্যসমৃদ্ধ হোত।  এখানে সম্পাদনা পর্ষদের দায় এড়ানোর সুযোগ নাই।স্যুভেনিরে মোট ৮ টি কবিতা ও ১২ টি প্রবন্ধ ছাপা হয়েছে যা সবক্যটাই শিক্ষকদের লেখা দিয়ে নিজেদের প্রতিভা জাহির করেছেন  । দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে , একটি অনার্স মহিলা / নারী উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে  কী কোন প্রতিভাবান শিক্ষার্থী নাই  কবিতা , গল্প, প্রবন্ধ, রম্য বিবিধ বিষয়ে লেখার ? এর জবাব কী সম্পাদক সাহাহেব? এছাড়া  ১৩ সদস্যের বাস্তবায়ন কমিটিতে প্রধান পৃষ্ঠপোষক  সেলিনা পারভীন বানু ( রোজী) ছাড়া একজন নারীও স্থান পায়নাই।এখানে শিক্ষার্থী নারীরা মারাত্মকভাবে বৈষম্যের শিকার হয়নি কী? আপনি কার প্রতিনিধিত্ব  দরছন, শুধু শিক্ষকদের ,নাকি শিক্ষক, ছাত্রী সবার? তাহলে নারী শিক্ষার্থীদের প্রতিভা এবং দক্ষতাকে জেনেশুনে অবমুলতায়ন করলেন কোন অধিকারে? এর জবাব কী নারী উচ্ছ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের? পরবর্তিতে এ বিষয়গুলির দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ থকবে।

কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এইজন্য য, পত্রিকাটির ভিতরে বানিজ্য ভিত্তক বিজ্ঞাপন না দিয়ে বিজ্ঞাপন বানিজ্য পরিহার করেছেন। শুধুমাত্র শেষের কভার পেজের ভিতরে ৩ টি এবং শেষে ১ টিসহ মোট ৪ টি বিজ্ঞাপন দিয়ে পত্রিকার মান ও  রুচিশিলতা বর্ধধন করেছে।ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুল-ত্রুটি ছাড়া সল্প সময়ে দ্রুততার সাথে  সুন্দর সাবলিল ঝকঝকে মাল্টি কালারে “ নৈঋদ্ধ”রুচিশিল একটি  ম্যাগাজিন প্রকাশ করে সূধিজনের হাতে পৌছানোর জন্য কলেজের তিনদশক পূর্তি ও পূনর্মিলনী -২০২৫ বাস্তবায়ন কুশিলব গন  অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য । ধন্যবাদ ।।

# আবুল কালাম আজাদ, উপদেষ্টা, চলনবিল প্রেসক্লাব, গুরুদাসপুর, নাটোর, ২৫/২/২০২৫#

 

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD